ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ৬ মে ২০২১

পেকুয়ায় গুলি ছোঁড়ে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে তান্ডব মহিলাসহ আহত-৫

রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া :: পেকুয়ায় মগনামা ইউনিয়নের জেটিঘাট ষ্টেশনে ও আফজলিয়াপাড়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে দু’দফা ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এর জের ধরে ৩টি বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ছাত্রলীগ ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতির বাড়িও আক্রমণ করা হয়েছে। এ সময় টাইগার বাহিনী নামক একটি স্বশস্ত্র গ্রুপ অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা নেজাম উদ্দিন ছোটনের বাড়িতে হানা দেয়। ভীতি ও আতংক ছড়াতে সন্ত্রাসীরা অন্তত ৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনায় উভয়পক্ষের ২ জন নারীসহ ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অপর আহত দুই নারীকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনার জের ধরে মগনামা ইউনিয়নের জেটিঘাট ষ্টেশন ফতেহআলীমার পাড়া, রাহাত আলী পাড়া, নুইন্ন্যারপাড়া, করলিয়াপাড়া, ফুলতলা ষ্টেশন, আফজলিয়াপাড়া ও মিয়াজিপাড়াসহ অন্তত ১০/১২ টি লোকালয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

ইফতারের পরেই ও তারাবীর নামাজের সময় পর পর দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বন্দুকের প্রচন্ড আওয়াজে স্থানীয়রা চরম শংকিত হন। এ সময় মানুষ দ্রুত নিরাপত্তার ভয়ে বাড়িতে দ্রুত চলে যান।

খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশ মগনামা জেটিঘাট ও ফুলতলা ষ্টেশনে রাতেই অবস্থান নিয়েছেন। ২৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার দিকে ও রাত ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ফতেহআলীমার পাড়ার মৃত নুরুল হোছাইন প্রকাশ পুতুর ছেলে ও ছাত্রলীগ মগনামা ইউনিয়ন শাখার ৩ নং ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি নেজাম উদ্দিন ছোটন (২৪), তার মা ওয়াজেদা বেগম (৬৫), তার বড় ভাই কলিম উল্লাহর স্ত্রী বুলবুল আক্তার (৩০)।

অপরপক্ষের আহতরা হলেন আফজলিয়াপাড়ার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র শাহাব উদ্দিন (৪২), আহমদ মিয়া প্রকাশ ওইন্যার পুত্র আনিছ (২৫)।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সন্ধ্যায় ফুলতলা ষ্টেশনে ছাত্রলীগ নেতা নেজাম উদ্দিন ছোটন ও আফজলিয়াপাড়ার আহমদ মিয়া প্রকাশ ওইন্যার পুত্র আনিছের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় ছোটনকে তারা ষ্টেশনে মারধর করে। ছোটন প্রাণে বাঁচতে ফুলতলা ষ্টেশনের একটি দোকানে আশ্রয় নেয়।

এ সময় আফজলিয়াপাড়ার আবু ছৈয়দসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ছোটনের পক্ষে অবস্থান নেয়। এর সুত্র ধরে আনিছ, নুরুন্নবীর পুত্র ছোটনসহ ৮/১০ জনের উত্তেজিত লোকজন আবু ছৈয়দ ও ছোটনের উপর হামলা চালান। সেখানেই ছোটন আহত হয়েছেন। এর এক ঘন্টা পর আফজলিয়াপাড়ার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র সাহাব উদ্দিনকে জেটিঘাট ষ্টেশনে নেজাম উদ্দিন ছোটনের অনুগত তার আত্মীয় স্বজনরা পিটিয়ে জখম করে। এর কিছুক্ষণ পর আফজলিয়াপাড়া ও মিয়াজিপাড়া থেকে ২০/৩০ জন লোকজন স্বশস্ত্র অবস্থায় নেজাম উদ্দিন ছোটনের বাড়িতে আক্রমণ চালায়।

এ সময় ওই বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বাড়ি আক্রমনের ওই খবরে স্থানীয়রা ক্ষেপে যান। নুইন্যারপাড়া, রাহাত আলীপাড়া, ফহেতআলীমার পাড়া, মগনামা জেটিঘাট ষ্টেশন ও করলিয়াপাড়াসহ আরো কয়েকটি লোকালয়ের কয়েক হাজার জনগন ঐক্যবদ্ধ হন। তারা সন্ধ্যার পর প্রতিবাদমুখর হয়ে আফজলিয়াপাড়া ঢুকানোর চেষ্টা চালায়।

তবে ফুলতলা ষ্টেশনে বিক্ষুদ্ধ লোকজন জড়ো হয়ে বাড়ি আক্রমনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ ব্যাপারে নেজাম উদ্দিন ছোটন জানান, তারা ফুলতলা ষ্টেশনে আমাকে প্রাণনাশ চেষ্টা চালায়। প্রশাসন এখন সন্ত্রাসীদের পক্ষে থাকায় আমরা সাধারন মানুষ সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মী হয়ে গেছি।

আফজলিয়াপাড়ার কয়েকজন গৃহবধূ জানান, শত শত মানুষ আমাদের পাড়ায় আক্রমনের জন্য এসেছিল। তবে নেজাম উদ্দিন ছোটনের মা ওয়াজেদা বেগম জানান, আমার ছেলেরা সবাই ব্যবসায়ী। এখানকার মানুষ জানে আমরা কোন প্রকৃতির। আফজলিয়াপাড়া ও মিয়াজিপাড়া থেকে অস্ত্রধারীরা এসে আমার বাড়ি লুট করে। আমার ৫ পুত্রবধূ আছে। বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়।

নেজাম উদ্দিন ছোটনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী হাদিছা বেগম জানান, আমার রুমে ঢুকে আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে চাবি নিয়ে আলমিরা খুলে ফেলে। জেটিঘাট ইজারার জন্য ১০ লক্ষ টাকা ছিল। সেগুলি নিয়ে যায়। স্বর্ণালংকারও নিয়ে গেছে। এখানে সব ভাংচুর করা হয়েছে।

জেটিঘাট ষ্টেশন সভাপতি কামাল হোসেন জানান, এ ভাবে অত্যাচার করা হলে এখানে সাধারন মানুষ বসবাস কিভাবে করবে। এস,আই হেফজুর রহমানসহ পুলিশ সদস্যদের আচরণ জনগনের বিপক্ষে হয়েছে। যারা অস্ত্র নিয়ে এসেছে এদেরকে না খোঁজে পুলিশ অহেতুক ব্যবসায়ীদের উপর চড়াও হয়।

মগনামা ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য নুর মোহাম্মদ বদ জানান, বাড়িতে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়েছে। আসলে এখন সম্মিলিত প্রতিবাদ না করলে এ ভাবে জনগন অত্যাচারীত হবে। কলিম উল্লাহর স্ত্রী বুলবুল আক্তার বলেন, আমাদের উপর এতবড় অত্যাচার হয়েছে। গুলি চালিয়ে সবকিছু লুটপাট হয়েছে। পুলিশ রাস্তায় এসেছে। কিন্তু আমাদের বাড়িতে ঢুকে বাস্তব চিত্রটি উপলদ্ধি করেননি। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বার বার।

বাড়ির মালিক এহেছান জানান, এখানে টাইগার বাহিনী নামে একটি বাহিনী রয়েছে। এ বাহিনীর স্বশন্ত্র সদস্যরা আমার বাড়িসহ ৩ টি বাড়িতে গুলি বর্ষণ করে আক্রমণ করেছে।

কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেনসহ আফজলিয়াপাড়ার আরো অনেকে জানান, আমাদের কোন মানুষ নেজাম উদ্দিন ছোটনের বাড়িতে যাননি।

বাড়ি ঘর লুটপাটের ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তারা নিজেরাই রং ছিটিয়ে এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, সেখানে রাতে পুলিশ ছিল। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

 

 

 

পাঠকের মতামত: