ঢাকা,সোমবার, ১৭ মে ২০২১

৪টি মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস, ১হাজার মিটার পাইপ জব্দ

মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান 

এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়ায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে মাতামুহুরী নদী থেকে সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান
চালানো হয়েছে। অভিযানে নদীতে ভাসমান বেইজের উপর স্থাপিত ৪টি সেলোমেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে ১হাজার মিটার পাইপ ও ৩০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে

সোমবার (১৯এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর দিগরপানখালী বালু পয়েন্টে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান সূত্রে জানাগেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডস্থ দিগরপানখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীতে ভাসমান বেইজের ওপর সেলোমেশিন মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ী। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে সোমবার দুপুরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের টিম অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভ্রাম্যমান আদালত মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট বালি উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত চারটি সেলোমেশিনসহ বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করেন। এসময় আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধ বালি উত্তোলনে ব্যবহৃত মেশিন গুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানের ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাতামুহুরীর নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি অনুমোদন ব্যতিত আইন লঙ্ঘন করে নদী থেকে ভাসমান বেইজের ওপর সেলোমেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ অবস্থার কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এনিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকদফা অভিযানও চালানো হয়। এছাড়াও বালি উত্তোলনকারীদের প্রশাসন থেকে তাগাদা দিয়ে জানানো হয়েছিল। বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির লকডাউনের সময় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সেলোমেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ না হাওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় বালু পয়েন্ট থেকে ভাসমান বেইজের ওপরে বসানো ৪টি মেশিন, ১হাজার ফুট পাইপ  জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত মেশিন গুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয়। এবং উত্তোলনকৃত প্রায় ৩০হাজার ঘনফুট বালি জব্দ করে রাখা হয়েছে। অবৈধ বালি উত্তোলনকারী বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

পাঠকের মতামত: