ঢাকা,সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

চকরিয়ায় ইউনিয়ন ভিত্তিক সিএইচসিপি পদে তথ্য গোপন করে আবেদনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এইচপিএনএসপির অধীন ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে ৭৯৭ জন লোকবল নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়োগ প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভিত্তিক সিএইচসিপি পদে নিয়োগ পেতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন থেকে এক আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী পাশের ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও তিনি আবেদনে তথ্য গোপন করে পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা হিসেবে নিয়োগ পেতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনাটি জানতে পেরে ওই পদের অপর আবেদনকারী ছাদেকুর রহমান নামের একজন বাদি হয়ে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আবেদনকারী ছাদেকুর রহমান চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইলিশিয়া চোয়ারফাড়ি এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ( সিএইচসিপি) পদে পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন থেকে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে একইসময়ে পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন থেকে একইপদে আবেদন জমা দিয়েছেন উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আফিফাহ খানম আকিলা নামের আরেকজন।

অভিযোগকারী ছাদেকুর রহমান দাবি করেন, ইতোমধ্যে আফিফাহ খানম আকিলাকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন ভিত্তিক সিএইচসিপি পদের প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু আকিলা নামের আবেদনকারী পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। তার বাড়ি পাশের ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি আমার ইউনিয়ন পশ্চিম বড়ভেওলা থেকে আবেদন করতে পারেনা। আবেদনে তিনি নিজের এবং পিতা-মাতাসহ পরিবারের যেসব তথ্য দিয়েছেন তা সবই ভুয়া।
অভিযোগকারী ছাদেকুর রহমান ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন শাখার বেশকিছু কাগজপত্র তুলে ধরে বলেন, অভিযুক্ত অপর আবেদনকারী আফিফাহ খানম আকিলা চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন বহি (১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, আকিলার পিতামাতা ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার ভোটার। তবে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের জমিদারপাড়া এলাকায়।

ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন বহিতে ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে অপর আবেদনকারী আফিফাহ খানম আকিলার জন্ম নিবন্ধন (২০০৩২২১১৬৩১০০০৩৮২) লিপি আছে। একইভাবে আকিলার পিতা মোহাম্মদ সাইফুল হকের জন্ম নিবন্ধন (২০০৩২২১১৬৩১০০০৩৮০) ও মাতা শারাবান তাহুরার জন্ম নিবন্ধন (২০০৩২২১১৬৩১০০০৩৮১) এবং ছোট ভাই মোহাম্মদ শহিদুল হক আবিদ ও তার বোন ইফফাত খানম শিরিনের নামেও জন্ম নিবন্ধন লিপি রয়েছে।

ভুক্তভোগী আবেদনকারীর অভিযোগ সত্য বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য (মেম্বার) জান্নাতুল মাওয়া রোমা। তিনি বলেন, আবেদনকারী ছাদেকুর রহমান চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। অন্য আবেদনকারী আফিফাহ খানম আকিলা আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। তার বাড়ি পাশের ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে। মুলত আকিলা নামের ওই আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন ভিত্তিক সিএইচসিপি পদে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বায়োডাটা যাছাইপুর্বক সত্যতা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ডিএসবি পুলিশের সদস্যরা তা দেখছেন।
সেখানে আবেদনকারীদের বায়োডাটায় কোনধরনের অনিয়ম অসঙ্গতি থাকলে সেটি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। পাশাপাশি পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের আবেদনে তথ্য গোপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পাঠকের মতামত: