ঢাকা,বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২

থেমে নেই পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সবাই কাটছে তাই আমিও কাটছি। দশ জনের যা হবে আমারও তাই হবে। এমন কথা বললেন সদর উপজেলার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ হাজী পাড়ার রেজাউল করিম। তিনি পাহাড় কেটেই নির্মাণ করছেন বহুতল ভবন। এছাড়াও এলাকায় পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এতে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।অনেকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন সুরাহা হচ্ছে না।

সর্বত্র পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। পাহাড়ী এলাকায় যেদিকে তাকান সেদিকেই চলছে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের কাজ। দেখা যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ হাজী পাড়ায় প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন। যিনি নির্মাণ করছেন তিনি কুতুবদিয়ার বাসিন্দা রেজাউল করিম। স্থায়ীভাবে বসবাস করেন চট্টগ্রামে।এই ভবনটি নির্মাণ করছেন ভাড়া দেওয়ার জন্য।

রেজাউল করিম মোবাইল ফোনে জানান, এই এলাকার সবাই পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করছেন। এদের সমস্যা হলে আমারও হবে। এরা পারলে আমি কেন পারব না। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে অনুমোদন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এসে কথা বলে চলে গেছেন। এছাড়া মাঝে মধ্যে যোগাযোগ করে। আর কোন সমস্যা হয়নি। সমস্যা হলে আমার একার হবে না।এভাবে পাহাড় কেটে নির্বিঘ্নে ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের প্রভাষক জাফর আলম জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরও কউক এর কাজ কি আমরা বুঝিনা। এভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে অথচ এই দুই সংস্থার কোন মাথা ব্যথা নেই। বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ অধিপ্তরের লোকজন এসে

অবৈধভাবে পাহাড় নিধনকারীদের সাথে গোপনে যোগাযোগ করে চুপ হয়ে যায়। এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য ভাল সংবাদ নয়। মূলত অবৈধভাবে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করাই কউকের কাজ। কিন্তু এ ব্যাপারে কউক’র কোন ভূমিকা নেই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল জানিয়েছেন লোকবল কম এই অজুহাত দিয়ে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর তেমন কোন কাজ করছে না। তারা শুধুমাত্র যোগাযোগ করতেই ব্যস্ত ।কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন না। জেলা প্রশাসন শুধুমাত্র বর্ষা আসলেই পাহাড়ের কথা স্মরণ করে। সারা বছর পাহাড় নিয়ে কোন ভাবনা নেই। যার ফলে সহজেই পাহাড় কেটে কেউ প্লট বানিয়ে বিক্রি করছেন কেউ ফ্ল্যাট বানিয়ে বিক্রি করছেন। অনেকেই বিক্রি করছেন দখল। যার ফলে কক্সবাজারে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পুরো কক্সবাজার জুড়েই চলছে পাহাড় নিধন।অনেকেই শুধুমাত্র পাহাড় কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এখন একাধীক ভবনের মালিক।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুল হক জানিয়েছেন, সদর উপজেলার দক্ষিণ হাজী পাড়ায় আমাদের কোন লোকজন গেছে কিনা একটু জেনে নিতে হবে। এছাড়া ওই এলাকায় বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কেউ পরিবেশের ক্ষতি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মতামত: