ঢাকা,বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

নিরব পরিবেশ অধিদপ্তর-বন বিভাগ-জেলা প্রশাসন

চকরিয়ায় মাটি লুট ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব

এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া ::  কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদে মাটি কেটে আবাদি জমিকে পুকুর এবং বালু উত্তোলনে ছড়াকে বিলে রূপান্তরের আয়োজন চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা জেলা প্রশাসনের কোন ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে সংরক্ষিত বনের পাহাড়-টিলা কেটে এবং আবাদি জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে মাটি লুটের মহোৎসব।

সরকারি দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত আছেন অথবা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই ধরনের একাধিক চক্র উন্নয়ন প্রকল্পের অজুহাতে কয়েক মাস ধরে নির্বিচারে পাহাড় এবং চাষের জমি কেটে অন্তত শতকোটি টাকার মাটি লুটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন পরিবেশ সচেতন মহল।

অভিযোগ উঠেছে, পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলেও কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের লোকজন যেন নীরব দর্শক। দেখার যেন কেউ নেই। এতে উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বেহাত হয়ে যাচ্ছে সরকারি ভূ-সম্পদ।

অপরদিকে বর্তমানে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পাশে বগাচতর এলাকায় প্রভাবশালী চক্র মালিকদের কাছ থেকে কিছু জমি ইজারা নিয়ে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে লুটে নিচ্ছে। এতে আবাদি জমি শ্রেণী পরিবর্তনের কারণে পুকুরে পরিণত হচ্ছে। অন্তত দুইশ একর চাষের জমি ভেঙে ছড়াখালে একাকার হয়েছে। চাষের জমি রক্ষা করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন ভুক্তভোগী জমি মালিক ও চাষীরা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী জমি মালিক আবুল কাশেম, নেজাম উদ্দিন, দেলোয়ার সওদাগর, চুন্নু মিয়া, নুরুল ইসলাম মাস্টার, মাহাবুব আলমসহ অনেকে অভিযোগ তুলেছেন, কয়েকমাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কয়েকজনের কাছ থেকে কিছু জমি ইজারা নিয়ে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে মাটি কেটে লুটে নিচ্ছে। শক্তিশালী স্কেভেটর দিয়ে জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার কারণে ওই এলাকার আবাদি জমি বর্তমানে পুকুরে পরিণত হয়েছে।

এ অবস্থার কারণে ওই এলাকায় যেসব চাষের জমি এখনো রক্ষিত আছে, তার বেশিরভাগই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু ডুলাহাজারা ইউনিয়নে নয়, নানা কৌশলে পাহাড় কাটা চলছে উপজেলার খুটাখালীর নোয়াপাড়া, গর্জনতলী, সেগুনবাগিচা, মানিকপুর, কাকারা, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, বিএমচর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি গ্রামে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক প্রভাবশালী চক্র কক্সবাজার উত্তর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উপকূলীয় বনবিভাগের মালিকানাধীন পাহাড় এবং সামাজিক বনায়নের জায়গা দখল করে ও চাষের জমি শক্তিশালী স্কেভেটর দিয়ে কেটে মাটি লুটের বাণিজ্যে মেতে উঠেছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম চকরিয়া নিউজকে বলেন, এখন আমাদের এরিয়ায় কোন ধরনের পাহাড় কাটা নেই। অবশ্য আগে কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কাটা হলেও সেই ঘটনায় ইতোমধ্যে বনবিভাগের পক্ষ থেকে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বনের পাহাড় এবং চাষের জমি কেটে মাটি লুট এবং এ ব্যাপারে কেউ পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে কিনা, জানতে চাইলে কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুল হুদা চকরিয়া নিউজকে বলেন, পাহাড় এবং চাষের জমি কাটার জন্য কাউকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেখানে পাহাড় কাটা ও জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার ঘটনা একটি বেআইনি কাজ, সেখানে অনুমোদন পাবে কীভাবে?

তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় কাটা ও মাটি লুটের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করছি। পাহাড় ও জমি কেটে শ্রেণী পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।

পাঠকের মতামত: