ঢাকা,বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০

কোন্দল চরমে চট্রগ্রাম নগর যুবলীগে

নিজস্ব প্রতিবেদক :: নগর যুবলীগে বিভক্তির জেরে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে নগর যুবলীগ আয়োজিত সভায় পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে দ্রুত কর্মসুচি শেষ করে সভাস্থল ছাড়েন যুবলীগ নেতারা। নগর যুবলীগের চার যুগ্ম আহবায়ক গতকাল দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করে। তাতে নগর যুবলীগের আহবায়ক দলবল নিয়ে যোগদান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মহিউদ্দিন বাচ্চু সভাস্থলে ঢুকেই চার যুগ্ম আহ্বায়কের কাছে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজনের বিষয়ে জানতে চান। এসময় তাদের মধ্যে হালকা বাদানুবাদও হয়। সভা শুরুর সাথে সাথে দ্রুত শেষ করাকে সাধারণ কর্মীরা পণ্ড হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছেন।

গত কয়েকমাস ধরে দলীয় কর্মসূচিগুলো পৃথকভাবে পালন করে আসছিল নগর যুবলীগের আহবায়ক এবং চার যুগ্ম আহবায়ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনও তারা পৃথকভাবে মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে। এর আগেও চট্টগ্রামের কয়েকজন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিও তারা পৃথকভাবে পালন করেন। গতকালও চার যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা, ফরিদ মাহমুদ, দিদারুল আলম এবং মাহবুবুল হক সুমন দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। একই সময় নগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু তার অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন। শুরু হয় উভয়পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। উভয় পক্ষের অনুসারীরা অনেকটা মারমুখী হয়ে উঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আহবায়ক এবং চার যুগ্ম আহবায়ক দ্রুত বক্তব্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন। চার যুগ্ম আহবায়কের অভিযোগ আহবায়ক সংগঠনের পদ ব্যবহার করে অসাংগঠনিক কার্যকলাপ করছেন। এই অভিযোগের জেরই তারা পৃথক কর্মসুচি পালন করছেন। একারণে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ ওয়ার্ড-থানা কমিটির নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন।

নগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকা পূর্বকোণকে বলেন, শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আমরা চার যুগ্ম আহবায়ক এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। সভায় আহবায়ক আমন্ত্রিত ছিলেন না। মূলত আমাদের সভা পণ্ড করার উদ্দেশ্যেই তিনি দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছেন। একারণে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আমরা দ্রুত সভা শেষ করি। নেতাকর্মীদের সাথে নয় আমাদের যেটুকু বিরোধ তা হল আহবায়কের সাথে। তিনি সংগঠনকে কুক্ষিগত করে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তার অসাংগঠনিক কাজের সাথেই আমাদের বিরোধ। অবশ্য এই বিরোধ নিরসনের জন্য আমাদের অভিভাবক সংগঠনের নেতা উদ্যোগ নিয়েছেন। নিরসন হলে আমরা আবারো একসাথে কাজ করবো।

নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ বলেন, মতের মিল না হলে আলাদা কর্মসুচি পালন করতে পারে। কিন্তু সেই কর্মসুচিতে গিয়ে হানা দেয়া রাজনৈতিক ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না। সভা শুরুর আগেই আহ্বায়ক সাহেব সংগঠনবহির্ভূত লোকজনকে দারুল ফজল মার্কেটের নিচে জড়ো করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আমাদের বাধা দেয়া। সংঘাত এড়াতে আমরা পাঁচজনই দ্রুত বক্তব্য দিয়ে সভা শেষ করি।
যুগ্ম আহবায়কদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে নগর যুবলীগের কর্মসুচি হবে সেখানে সংগঠনের আহবায়ক হিসেবে আমি উপস্থিত থাকব না এটা কি করে হয়। আমি সেখানে ছিলাম। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই মিলে কর্মসূচি সম্পন্ন করেছি। আমরা যেহেতু ছিলাম কর্মীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে স্লোগান দিবে সেটাই স্বাভাবিক। তাদেরকে আমরা যখন নিষেধ করেছি তারা আর দেয়নি। আহবায়ক এবং যুগ্ম আহবায়কদের পৃথক কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কখনোই পৃথক কর্মসূচি পালন করিনি। তবে করোনাকালে পরিস্থিতির কারণে আমরা যে যার মত ত্রাণ দিয়েছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আমরা আহবায়ক যুগ্ম আহবায়করা ত্রাণ দিয়েছি। এ নিয়ে কারো কোন ক্ষোভ থাকার সুযোগ নেই। কারণ করোনার কারণে আমরা একত্রিত হতে পারিনি। সংগঠনবহির্ভূত নেতাদের নিয়ে সভায় উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তো ছাত্রলীগ করত বা এখনও করে। ছাত্রলীগের পর তো এরা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ কিংবা আওয়ামী লীগই করবে। তারা তো অন্য কোন দলের লোক নয়। তাদের সঙ্গে নেয়ার মধ্যে অপরাধ কোথায়।

পাঠকের মতামত: