ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই থাকছে অনলাইন শিক্ষার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চলছে টেলিভিশন ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক বর্তমানে টেলিভিশনে আর মাত্র ১৭ শতাংশ অনলাইন মাধ্যমে লেখাপড়ায় যুক্ত হচ্ছে। দারিদ্র্য, ইন্টারনেটের গতিশীলতা ও বিদ্যুৎসহ অন্যান্য ব্যবস্থার কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়পক্ষকে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই অবস্থায় শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে শিক্ষকরা মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। তারা শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে হোমওয়ার্ক দিয়ে পরে তা আবারও গ্রহণ করতে পারেন।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহসীন হাওলাদার রেজা সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক, অধ্যাপক আবদুস সালাম, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফৌজিয়া, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক কেএম এনামুল হক এবং এডুকেশন রিপোর্টার্স এসেসিয়েশনের (ইরাব) সভাপতি মুসতাক আহমদ।

‘করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া; শিক্ষকদের করণীয়” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমিতির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের শাখা প্রধান মোহসিন তালুকদার। সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম এতে সভাপতিত্ব করেন।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, অনেকে মনে করেন, অনলাইন ও দূরশিক্ষণে লেখাপড়া পরিচালনার এই ব্যাপারটি সাময়িক। করোনা চলে গেলে আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন তারা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে বলেছে যে, আগামী দুবছরও এই পরিস্থিতি থাকতে পারে। তাই শিক্ষকদেরকে দূরশিক্ষণ আর অনলাইনে অভ্যস্থ হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে আর কীভাবে সেবা দেয়া যায় সেটি উদ্ভাবন করতে হবে।

অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক বলেন, করোনাকালে শিক্ষাব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। তাই অনলাইন ও টেলিভিশন মাধ্যমের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে তা চিহ্নিত করে নিরসনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, করোনাকালে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক করা জরুরি। এজন্য তাদের কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফৌজিয়া বলেন, শহর ও গ্রামে ভার্চুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমে একটা বৈষম্য আছে। এই বৈষম্য দূর নাহলে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে পড়বে। এতে শিক্ষায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

কেএম এনামুল হক বলেন, জরুরি অবস্থায় শিক্ষার্থীর সুরক্ষাই হচ্ছে শিক্ষার মূল নীতি। রবিবারে (১৩ সেপ্টেম্বর) একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রথম দিন প্রমাণ করেছে এমন সুরক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। সব জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। তাই পরীক্ষামূলকভাবে স্কুল খুলে দেয়ার আগে ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কেন্দ্রিক প্রকল্প এটুআইয়ের মতে, মাত্র ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে। টেলিভিশন পাঠদানে মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক যুক্ত হচ্ছে। তাই করোনাকালে শিক্ষা বড় সংকটে পড়েছে।

মুসতাক আহমদ বলেন, যেখানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে যে, ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনে পাঠদানে যুক্ত হচেছ সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর বলছে ৯৩ শতাংশ। এটা একটা ভুয়া হিসাব। করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধেক টিউশন ফি নেয়ার সংক্রান্ত অভিভাবকদের দাবি এক্ষেত্রে খুব যৌক্তিক।

পাঠকের মতামত: