ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্থানীয়দের সাথে মিশে যাওয়া বেশির ভাগ রোহিঙ্গারা সামাজিক ভাবে প্রতিষ্টিত

মাহাবুবুর রহমান. কক্সবাজার ::  কক্সবাজারে স্থানীয়দের সাথে মিশে যাওয়া বেশির ভাগ রোহিঙ্গা এখন সামাজিক ভাবে প্রতিষ্টিত, আবার অনেকে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্টিত হয়েছে। যার ফলে অনেক রোহিঙ্গা উল্টো নানান ভাবে নিয়ন্ত্রন করছে স্থানীয়দের। আবার আগে আসা রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন জঙ্গি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন এবং বিদেশীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে হয়ে গেছে বিপুল টাকা মালিক। ফলে এসব রোহিঙ্গারাই নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পশ্রয় দিচ্ছে বলে বেশির ভাগ এলাকা থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তাই দ্রæত আগে আসা রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে সম্প্রতী যারা স্থানীয়দের সাথে মিশে গেছে তাদের সনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে সচেতন মহল।

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলার এক ইউনিয়নেই অন্তত ২০০র বেশি রোহিঙ্গা নারী পুরুষের বিয়ে হয়েছে বলে জানা গেছে এর মধ্যে অন্যতম হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী ৮ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আহামদের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম বিয়ে করেছেন ২৪ নং ক্যাম্পের হাসিনা নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে।

এছাড়া হ্নীলা ৪ নং ওয়ার্ডের পূর্ব পানখালী এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মিজানুর রহমান বিয়ে করেছেন জামতলী ক্যাম্পেরএক রোহিঙ্গা নারীকে। একই এলাকার স্থানীয় নারী মোঃ হোসন ফকিরের মেয়ে তাসমিনা বিয়ে করেছেন রোহিঙ্গা যুবককে বর্তমানে সে সৌদি প্রবাসী বলে জানা গেছে।

হ্নীলা ৭ নং ওয়ার্ডের দুদুমিয়ার ছেলে মোঃ রাসেল বিয়ে করেছেন হ্নীলা ২৫ নং ক্যাম্পের পাইক মনি নামের এক রোহিঙ্গা মেয়েকে। এছাড়া ৪ নং ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে রফিকও রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করেছেন, একই ওয়ার্ডের পশ্চিম পানখালীর সোলতান আহামদের ছেলে লুৎফুর রহমান,দিল মোহাম্মদের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল, ৫ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদার পাড়ার হাজী কালা মিয়ার পুত্র কামাল হোসেন, ৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পানখালীর আবুল কালামের ছেলে আলমগীর, এছাড়া স্থানীয় আমির হোসেন সরওয়ার সহ অনেকে আশ্রয়ে রয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। শুধু নতুন আসা নয় পুরানত এবং আগে আসা রোহিঙ্গা রয়েছে জেলার বেশির ভাগ এলাকায়। শহরের পাহাড়তলী এলাকায় আগে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্যতম সাইফুল খলিফা (হালিমাপাড়া) কামাল ফকিরের ছেলে আবদুল্লাহ এবং তার পুরু পরিবার, রহমত উল্লাহ (টমটম চালক) তার এক ছেলে বর্তমানে চট্টগ্রামের বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্ত্রী মহেশখালী থেকে ভোটার হয়েছে.আবদুল মালেক (হালিমাপাড়া) এনায়েত উল্লাহ,(হালিমাপাড়া)ফয়েজ উল্লাহ (রোহিঙ্গা হয়েও ভোটার আইডি করায় জেল খেটেছে) মৌলবী নুরুল হোসাইন, মৌলবী আহমদ কবির (এনজিও কর্মকর্তা), আবুল হোসেন পেটান,তার ভাই হাসান,নুর বাহার স্বামী আসাদ উল্লাহ(মালয়েশিয়া প্রবাসী) সত্তরঘোনা,জাহেদ হোসেন নতুন বাজার,পাহাড়তলী, শওকত মিস্ত্রি, সত্তরঘোনা,হাফেজ আহামদ (জেল ফেরত) সত্তরঘোনা, এছাড়া রোহিঙ্গা হয়েও পরিচয় গোপন রেখে বিশ^বিদ্যালয়ে পড়া এবং এনজিও কর্মকর্তা আজিজ, বাহাদুর মিয়া, হালিমাপাড়া, শাহআলম।

এসব রোহিঙ্গারা আবার রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ভাবে ভুয়া সনদ এবং ভিন্নজেলা থেকে কাগজ পত্র সংগ্রহ করে ঢাকা চট্টগ্রামে পড়ার সুযোগ করে দেয় আবার তাদের মুল পৃষ্টপোষক হচ্ছে রোহিঙ্গা ইব্রাহিম যে রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে ইতি মধ্যে চট্টগ্রাম ইসলামিক বিশ^বিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে পড়েছে।এছাড়া মৌলবী ফারুক, মৌলবী নুর মোহাম্মদ, অজি উল্লাহ, ছৈয়দ আমিন, হাসিম উল্লাহ রোহিঙ্গা হয়েও পাহাড়তলী এলাকায় দাপটের সাথে বিচরণ করে এবং নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।

এছাড়া বৃহত্তর পাহাড়তলী এলাকার সূপরিচিত রোহিঙ্গা জহির হাজী,বশির মাঝি (বর্তমানে কয়েকটি দোকানের মালিক)পাহাড়তলী ইসুলুঘোনার মৃত হাবিব উল্লাহর ছেলে আরিফ উল্লাহ,ইয়াবা ব্যবসায়ি নুর মোহাম্মদ,হাফেজ আহামদের স্ত্রী সনজিদা (বর্তমানে গোলদিঘির পাড়এলাকা থেকে ভোটার হয়েছে) আবদুল মতলব প্রকাশ আমির সাব (বায়তুশ শরফ হোস্টেলের বাবুর্চী, সিরাজুল হক মাঝি (ইসুলুঘোনা) তার ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ি মনজুর আলম,মোহাম্মদ আরিফ (বেশ কয়েকটি ইয়াবা মামলার আসামী) আবদুল হাকিম মাঝির ছেলে মোঃ শফি, বশির প্রকাশ শুটকী বশির, রোহিঙ্গা বর্তমানে সৌদি প্রবাসী নুরুল ইসলাম পিতা ইয়াকুব আলী, মাতা মাহমুদা খাতুন, সে ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটার হিসাবে পাসপোর্ট করেছে যার পাসপোর্ট নাম্বার বি কিউ ০০৭১৮৪৬১। বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী পাহাড়তলী সত্তরঘোনার বাসিন্দা জমির হোসাইন পিতা আলী হোসাইন মাতা মোস্তফা খাতুন স্ত্রী ছমুদা খাতুন, যার পাসপোর্ট নাম্বার এ ই ০১৮৯৪০২। একই এলাকায় থাকা রোহিঙ্গা হলেও পাসপোর্ট পেয়েছে মোহাম্মদ ইউচুপ পিতা আবদু শুক্কর মাতা জামরুপ বেগম, স্ত্রী রাজিয়া বেগম পাসপোর্ট নাম্বার এ ই্ ৬১৮৮২৬৩। এদিকে শহরের উত্তর রুমালিয়ারছড়ার গুদারপাড়া এলাকার স্বীকৃত রোহিঙ্গা গোলাম হেসেনের ছেলে আসাদ উল্লাহ সহ কয়েক ভাই রয়েছে যাদের অনেকের আইডি কার্ড করতে না পারায় দীর্ঘদিন বিপুল টাকা নিয়ে ঘুরেছিল।

বর্তমানে মায়ামনার থেকে আসার তাদের পুরাতন আত্বীয় স্বজন প্রায় সময় তাদের বাড়িতে আসে বলে জানান এলাকাবাসী। এছাড়া তাদের ছেলেমেয়েরা অনেকে বর্তমানে এনজিওতে চাকরী করে। পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের বাদশাঘোনা এলাকার সিরাজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, আমিন, নজির আহামদের পুরু পরিবার, হাফেজ মনির, ছৈয়দুল আমিন, শফিক মিস্ত্রি, নেছারু সহ অসংখ্য রোহিঙ্গা আসে এখানে বসাবাস করছে তারা এখন নানান ভাবে সমাজ পতি সহ নানান পদ দখল করে বসে আছে।

বৈদ্যঘোনা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নতুন অনেকে এসেছে তবে আগে এসে বর্তমানে স্থানীয় হিসাবে প্রতিষ্টিত হওয়া রোহিঙ্গার মধ্যে অন্যতম আশরাফ আলী খলিফা, নুর মোহাম্মদ মিস্ত্রি, জাহেদের বাপ হুন্ডি ব্যবসায়ি মালয়েশিয়ার দালাল ছিল, শফি খাজা মঞ্জিল এরা বেশ কয়েক ভাই আছে যারা প্রত্যেকে এখন স্থানীয় হিসাবে দাপটে বেড়ায়। জকরিয়া সওদাগর, নজির আহামদ লেবার।

খুরুশকুল হামজার ডেইল এলাকা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আগে আসা রোহিঙ্গা যারা এখন স্থানীয় হিসাবে প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে মোঃ কালু, ইউচুপ, আবদুল হাকিম, ইউচুপ আলী, কালাবদা, সোনামিয়া,  মোঃ দিলু, আনোয়ার হোসেন, আবদস ছবি, ছলিম উল্লাহ, মোঃ ছৈয়দ, নুর হোসেন, আবুল হোসেন, জাহেদ (লামাঝি পাড়া) হাফেজ আহামদ, আবুল হোসেন, নজির হোসেন, সলিম (লামাঝিপাড়া) জুবায়ের কুনারপাড়ার।

এ ব্যপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী জানান, রোহিঙ্গারা অনেকে এখন কক্সবাজারের রাজনীতি, সমাজনীতি এমনকি প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রন করছে। আবার অনেকে জনপ্রতিনিধিও হয়েছে। সব কিছুতে হালছেড়ে দিলে হবে না, এখনো সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি।

১৯৮০ সালের পরে আসা রোহিঙ্গাদের সনাক্ত করে তাদের একটি বিশেষ তালিকা করে ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে একটি কাজ করে যাওয়া খুব দরকারি। হয়তো তাদের সবাইকে ক্যাম্পে ফেরত নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে তবে রোহিঙ্গা হিসাবে সনাক্ত করতে অসুবিধা কি।তাই আমাদের দাবী ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করা হোক।

এ ব্যপারে কক্সবাজারের নির্বাচন অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, অতীতে অনেক রোহিঙ্গা নানান ভাবে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়েছিল আমরা অনেকে আইডি বাতিল করেছি, মামলা হয়েছে জেলে গেছে। এখনো যদি তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য সহ জমা দিলে আমরা সেই আইডি কার্ড বাতিল করার জন্য কাজ করবো। সবার আগে আমার দেশ তাই কোন ভাবেই রোহিঙ্গাদের পশ্রয় দেওয়া উচিত হবে না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, গত বছর আমরা একটি চিঠি দিয়েছিলাম আগে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করার উদ্দ্যোগ নেওয়া জন্য। পরে সে বিষয়ে কিছুটা কাজও হয়েছে এখন সেটা আবার দেখতে হবে আমি মনে করি নিজেদের স্বার্থে অনেকে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে। কোন স্থানীয় মানুষ যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় পশ্রয় না দেয় তাহলে তারা কখনো এত সুযোগ পাবে না। আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ রোহিঙ্গা তালিকা করা বা অন্যান্য যে সমস্ত কাজ আছে সব কিছুই করবো।

পাঠকের মতামত: