ঢাকা,রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

চট্টগ্রামে আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিয়ে প্রতারণা ও ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ::  আইনজীবীর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক, জোরপূর্বক গর্ভপাত, ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের পর মামলা করায় প্রাণনাশ ও এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ করেছেন তাহমিনা আক্তার টুম্পা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

টুম্পা বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমার প্রাণনাশসহ ছোট্ট মেয়েকে অপহরণের হুমকি দেওয়ায় গত ১৯ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (নম্বর-১৫২৭) করেছি। বর্তমানে ওই আইনজীবী নিজে ও অপরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা আমার প্রাণনাশের ও এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। আমি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছি।
টুম্পা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৭ সালে আমার প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার জন্য আজিজুল হক আদিলকে আইনজীবী নিয়োগ করি।

এ সুবাদে সে সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রলোভন, প্ররোচনায় প্রলুব্ধ করে আমার সাথে প্রথমে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়তে চেষ্টা করলে আমি এড়িয়ে যাই। ২০১৮ সালের ২১ জুন নিজের হাতে লেখা একটি প্রেমপত্র দেয়।

বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। আমি বাধা দিই এবং আগে বিয়ে করার জন্য বলি। ওই বছরের ২৮ জুন বেলা ২টায় কোর্টস্থ তার চেম্বারে এক ব্যক্তিকে কাজী সাজিয়ে বিয়ের কাবিননামা বলে নীল রঙের কাগজ ও বইতে সই নেয়। পরে সে জানায় এটি বিয়ের কাবিননামা, আমরা বৈধ স্বামী-স্ত্রী হয়েছি। ওই দিন নগরের একটি মাজারেও নিয়ে হুজুরের মাধ্যমে দোয়া পাঠ করান।

আমার সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে সে পাঁচলাইশের আনোয়ার মঞ্জিলে তার চেম্বারের পাশের রুমসহ বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয়ের বাসায় আমার সঙ্গে ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কারণে একপর্যায়ে কনসিভ করি। বিষয়টি তাকে জানালে ভ্রুণস্থ বাচ্চাটি অ্যাবরশন করার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি রাজি না হলে আমাকে বলে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেওয়ার পর আমরা সন্তান নেব। সে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তার স্থানীয় চেম্বারে একটি ওষুধ খাওয়ায়। আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং গর্ভস্থ বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়।

যেহেতু আমার দ্বিতীয় বিয়ে তাই সংসার টিকানোর স্বার্থে তার কথায় বিশ্বাস করে চুপ থাকি। কিন্তু বার বার আনুষ্ঠানিকভাবে তার ঘরে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বললে সে তালবাহানা দিতে থাকে এবং ধীরে ধীরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

আমি নিরুপায় হয়ে আদালত ভবনে তার চেম্বারে এসে ঘরে তুলতে বললে সে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক, আমার ৩২ লাখ টাকা লেনদেনসহ সব অস্বীকার করে। আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। উপস্থিত আইনজীবীরা আমাকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অফিসে নিয়ে যান। সমিতির নেতারা সব শুনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলেন।

আমি অভিযোগ দাখিলের পর সমিতির তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আপস মিমাংসায় ব্যর্থ হয়ে আমাকে লিখিতভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিলে আমি বিজ্ঞ আদালতে (সিআর মামলা ৭৮০/১৯) দায়ের করি। আদালতের আদেশে পিবিআই ঘটনার সত্যতা ও আসামির সম্পৃক্ততা বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মো. মাসুকুর রহমান, আরিফুর রহমান চৌধুরী, গোলাম সরওয়ার চৌধুরী, করিম উল্লাহ, আবদুল মালেক, রীনা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক জানান, জামিন অযোগ্য ধারায় টুম্পা মামলা করেছেন আজিজুল হক আদিলের বিরুদ্ধে। পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন। মামলার আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। মামলাটি চলমান রয়েছে।

পাঠকের মতামত: