ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

২১ জুন থেকে স্বাভাবিক হচ্ছে সৌদি আরবের জনজীবন

সৌদি আরব প্রতিনিধি ::  বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে কারফিউ ও লকডাউন এর ফলে সৌদিতে বন্ধ ছিল বেশিরভাগ কার্যক্রম ও জনজীবন। আগামী ২১ জুন থেকে জনজীবন স্বাভাবিক ভাবে চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার।
-তথ্যসূত্রে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

আগামী ২৮ মে হতে ৩০ মে পর্যন্ত মক্কা ছাড়া সকাল ৬টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কার্ফিউ শিথিল থাকবে। এই সময়ে (সকাল ৬টা-বিকাল ৩টা) ব্যাক্তিগত গাড়ি দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া যাবে। তবে তার আগে সৌদি সরকারের নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

৩১ মে থেকে ২০জুন পর্যন্ত মক্কা শহর মসজিদ ছাড়া অন্য সকল মসজিদে জুম্মা নামাজ ও ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে। সকাল ৬টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত কার্ফিউ শিথিল থাকবে। স্বাস্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে সরকারি ও প্রাইভেট অফিস আদালত খোলা থাকবে। আভ্যন্তরিন বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ।

আগামী ২১ শে জুন থেকে সৌদি আরবের সমস্ত কারফিউ তুলে দেওয়া হবে এবং মক্কার মসজিদে নামাজের অনুমতি দেওয়া হবে। জনজীবন স্বাভাবিক করা হবে। তার আগে, সামাজিক দূরত্বের দিকনির্দেশগুলি অবশ্যই মেনে চলতে হবে এবং ৫০ জনের অধিক লোকের জন সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি অফিস আদালত পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা দোকানে এবং মলের পাশাপাশি কয়েকটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ আগের মত পরিচালিত হবে। ক্যাফেগুলিকে আরও একবার পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হবে।

তবে যে সমস্ত চাকরি ও কার্যক্রম সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না সেগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে যেমন – বিউটি পার্লার, সেলুন বা নাপিত দোকান, স্পোর্টস এবং স্বাস্থ্য ক্লাবগুলো, বিনোদন কেন্দ্র এবং সিনেমার হল।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওমরাহ তীর্থযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্থগিত থাকবে।

নতুন নিয়মগুলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে করে আগামীতে পরিস্থিতি যদি তা সতর্ক করে তবে তা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এর আগে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ তৌফিক আল-রাবিয়া বলেছেন : যতক্ষণ না আমরা “পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে না যাচ্ছি ততক্ষণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে সৌদি সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করাতে ভাইরাসের বিস্তারের সীমাবদ্ধতা করতে সহায়তা করেছে।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয় পরবর্তী ধাপের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে যা দুটি প্রধান কারণের উপর নির্ভর করে: গুরুতর ক্ষেত্রে মোকাবেলা করার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নতুন সংক্রমণ সনাক্ত করার জন্য পরীক্ষার সম্প্রসারণ করা।

সোমবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ঈদ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণ সৌদি নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহ চাইলে এই খারাপ পরিস্থিতি কেটে যাবে এবং আল্লাহর রহমতে আমরা ভালোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, ২৫ মের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবে নতুন ২,২৩৫ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪,৭৯৫ জন। মারা গেছে ৯জন, এই নিয়ে দেশটিতে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯৯জনে। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ২,১৪৮ জন, দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪৫,৬৬৮জন। তথ্য সূত্রেঃ সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

পাঠকের মতামত: