ঢাকা,শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

আনোয়ারায় বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা লোকালয়ে জোয়ারের পানি

আনোয়ারা প্রতিনিধি ::  ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে আনোয়ারা রায়পুর ইউনিয়নের বারআউলিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে উপকূলীয় মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আনোয়ারায় ৫৮টি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। সাথে নিয়ে যেতে পারবেন গবাদি পশুও। বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বিভিন্ন ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন। এদিকে ঝড়ের সংকেত জানিয়ে বিশেষ স্থানে পতাকা টাঙিয়েছে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা। সতর্ক হতে উপকূলের বিভিন্ন স্থানে মাইকিংও করা হচ্ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গহিরা বারআউলিয়া এলাকার বেড়িবাঁধের খোলা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া উত্তর পরুয়াপাড়া থেকে গহিরা, দক্ষিণ গহিরা ও সরেঙ্গা এলাকায় বেড়িবাঁধের যে অংশে পাথর নেই-সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।
জুঁইদণ্ডী ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুর রহমান খোকা জানান, ইউনিয়নের লামার বাজার এলাকায় বেড়িবাঁধ নেই। এতে অন্তত ৫ হাজার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। এই এলাকায় জোয়ারের সঙ্গে পানিও উঠানামা করে।
রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম জানান, বারআউলিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশে পানি ঢুকছে। এছাড়া রায়পুর ইউনিয়নে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ১৩টি, যা অপ্রতুল। বলা যায়, এ ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসন ও ইউপি চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রস্ততি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের আগে ও পরে জানমালের যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাঠকের মতামত: