Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :  কক্সবাজার জোলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণদের নিয়োগ আগামী ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। কক্সবাজারের মহেশখালীর উপজেলার বাসিন্দা জুবলি ইয়াসমিন শান্তাসহ ৩ জনের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ রবিবার ২৬ জানুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টে আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট রাশেদুল হক খোকন সচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, এই বিধিমালার অধীন সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ষাট শতাংশ নারী প্রার্থীদের দ্বারা, বিশ শতাংশ পৌষ্য প্রার্থীদের দ্বারা এবং বাকি বিশ শতাংশ পুরুষ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হইবে। কিন্তু গত বছরের ২৪ ডিসেম্বরের ঘোষিত ফলের ক্ষেত্রে সেটা অনুসরণ করা হয়নি। তাই কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর বাসিন্দা জুবলি ইয়াসমিন শান্তাসহ ৩ জন প্রার্থী হাইকোর্টে এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

এডভোকেট রাশেদুল হক খোকন আরও বলেন, রোববার আদালত রিট আবেদনটি শুনানি করে কক্সবাজার জেলার ফলের ওপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন।

গত ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়, রবিবার আবেদনটির উপর শুনানি করে রুলসহ এ আদেশ দেন আদালত। আবেদনকারীরা বলেন-কোটা বিধি মেনে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হলে তারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেতেন। অনিয়মের মাধ্যমে ঘোষিত এ ফলাফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মর্মে আদালতের নজরে আনেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি একইভাবে নীলফামারী ও বরগুনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই দিন নওগাঁ ও ভোলা জেলায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিলো। পরে ২০ জানুয়ারি পটুয়াখালী, মাদারীপুর ও সিরাজগঞ্জসহ ১৪ জেলাতে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার ২৬ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলার ফল স্থগিত করা হলো।

প্রসঙ্গতঃ ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারাদেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। কক্সবাজার জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করার খবরে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের দীর্ঘদিন শুণ্য থাকা পদ গুলো পূরণে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ হওয়ায় বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সংকট আরো জটিল আকার ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন সরফরাজ কারাগারে

It's only fair to share...000নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাড়তি দামে যন্ত্রপাতি কিনে নয় কোটি টাকার বেশি ...

error: Content is protected !!