ঢাকা,বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

দুর্যোগের কবলে কোটি টাকার সরকারি স্পীডবোট

তুষার তুহিন, কক্সবাজার ::  রক্ষণাবেক্ষণ, অবহেলা ও দূরদর্শিতার অভাবে ভিআইপি প্রটৌকল, অভিযান চালানো এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষায় ব্যবহৃত সরকারি কোটি টাকার স্পীডবোট বিকল হয়ে যাচ্ছে। আট বছরের অধিক সময় ধরে একই স্থানে পড়ে থাকায় দুটি সংস্থার স্পীডবোট ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। আরেকটি দপ্তরের স্পীডবোটগুলো অকেজো হওয়ার পথে।
কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটস্থ পৌরসভা গনশৌচাগারের পূর্বপাশে দীর্ঘ ৮ বছরের অধিক সময় ধরে পড়ে রয়েছে ২ টি উদ্ধারকারী স্পীডবোট। এর অনতিদূরেই নির্মিতব্য বাকখালী- খুরুশকুল সংযোগ সেতুর পাশে অকেজো অবস্থায় রয়েছে আরো একটি স্পীডবোট। এইগুলো সব জেলা ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার। বন্যা, ঘূর্নিঝড়, সাইক্লোনের সময় উপকুলের জানমাল উদ্ধার, সর্তকতা জারি ও ত্রাণ বিতরণের জন্য এই তিনটি স্পীডবোট সরকারি ওই দপ্তরটিকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তদারকির অভাবে কোটি টাকা দামের ওই তিনটি স্পীডবোট নষ্ট হয়ে গেছে। একই এলাকায় একই সময় ধরে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শ্মশান গেইটের উত্তরপাশে রয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের ভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য ২ টি স্পীডবোট এবং অভিযান চালানোর জন্য দুটি স্পীডবোট। এর আরেকটু দুরে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন একটি স্পীডবোট। আর দক্ষিণ পাশে রয়েছে দূর্যোগে উদ্ধার অভিযান চালানো ও ত্রান বিতরণের জন্য বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কক্সবাজার জেলা শাখার একটি স্পীডবোট। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা ও দেখভালের অভাবে রেডক্রিস্টেন্টের মালিকানাধীন স্পীডবোটটির এক তৃতীয়াংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে। তবে জেলা পুলিশের স্পীডবোটগুলো অবস্থা ততটা খারাপ না হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া এবং অনেকটা ডাঙ্গায় থাকায় সরকারি সংস্থাটির মালিকানাধীন ৪ টি স্পীডবোটও নষ্ট হওয়ার পথে। রক্ষণাবেক্ষণ, দেখভাল ও দূরদর্শিতার অভাবে জেলা দূর্যোগ ও ত্রান ব্যবস্থাপনা শাখার ৩ টি , কক্সবাজার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ১টি বিকল হয়ে গেছে। এছাড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশের ৪ টি স্পীডবোট নষ্ট হওয়ার পথে। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের মালিকানাধীন স্পীডবোটের নিলাম শেষ হয়েছে কিছুদিন আগে।
একসময় বাকখালী নদীর জোয়ার ভোটার পানি নিয়মিত কস্তুরাঘাট আসত। সেসময় সরকারি ওই তিনটি দপ্তর সহ অন্যান্য দপ্তরেরও স্পীডবোটগুলো সেখানেই নোঙ্গর করা হত। কালের পরিক্রমায় কস্তুরাঘাটে এখন নেই জোয়ারভাটা। তাই ঘাটটি পরিত্যক্ত হয়েছে আট বছরেরও অধিক সময় আগে। কয়েকটি দপ্তর তাদের মালিকানাধীন স্পীডবোটগুলো ইতিমধ্যেই সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো রয়ে গেছে জেলা দূর্যোগ ও ত্রান ব্যবস্থাপনা শাখার ৩ টি , কক্সবাজার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ১ টি ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের ৪ টি স্পীডবোট । এর মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের জন্য কেহই না থাকায় দূর্যোগ ও ত্রানের ৩ টি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মালিকানাধীন স্পীডবোটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তবে জেলা পুলিশের স্পীডবোটগুলো দেখভালের জন্য একজন কনস্টেবল রয়েছেন। দীর্ঘ আটবছর ধরে কস্তুরাঘাটে একটি সেল্টার নির্মাণ করে জেলা পুলিশের স্পীডবোটগুলো দেখভাল করছে মানিক নামের একজন কনস্টেবল।
এবিষয়ে কনস্টেবল মানিক বলেন, এই ৪ টি স্পীডবোট কক্সবাজার জেলা পুলিশের । মাঝেমধ্যে নানা অভিযানে ও ভিআইপিদের পারাপারের জন্য এগুলো ব্যবহার হয়। তবে এগুলোতে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ত্রুটি সারিয়ে এগুলো বাকখালি নদীর যেখানে নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হয় সেই ৬ নম্বর জেটি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
জেলা ত্রান ও দূর্যোগ ব্যব¯া’পনা শাখার সহকারী সিরাজুল ইসলাম চকরিয়া নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন আগে আমাদের স্পীডবোটগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। বিষয়টি উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে কতদিন আগে নষ্ট হয়েছে এবিষয়ে জানাতে পারেননি।
জেলা ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মাহাবুবুল হক বলেন, আমি এই অফিসে জয়েন করেছি কয়েকদিন আগে। তাই এবিষয়ে তেমন কিছু জানা নেই।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন চকরিয়া নিউজকে বলেন, দ্রুত স্পীডবোটগুলো জলভাগে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
“ আমরা কক্সবাজারবাসী ” নামক সংগঠনের সমন্বয়ক কলিম উল্লাহ বলেন, কোস্টগার্ডের অভিযান চালানোর জন্য পর্যাপ্ত নৌযান নেই। অথচ কিছু দপ্তর তাদের জন্য বরাদ্দকৃত স্পীডবোটগুলো ফেলে রেখে নষ্ট করছে। এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কোনমতেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন) এর সভাপতি আবদুল বারি চকরিয়া নিউজকে বলেন, এভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় করছে সরকারি দপ্তরগুলো। এটি দু:খজনক। এসব স্পীডবোট যদি তাদের দরকার না থাকে তবে সেগুলো তারা অন্য একটি সরকারি দপ্তরকে হস্তান্তর করতে পারত। এমন আইন থাকাও জরুরী।

পাঠকের মতামত: