ঢাকা,বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

জেলার ৩১০ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোট উৎসব

এম. বেদারুল আলম : শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রের চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের মোট ২২ হাজার ৯২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় উৎসবমুখর পরিবেশে  স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলার ২০৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১০৭টি দাখিল মাদ্রাসায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কেবিনেট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল জেলার সকল মাধ্যমিক স্কুল মাদ্রাসায় বিরাজিত ছিল উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে ভোট প্রদান করেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে ৮ জন করে প্রতিনিধি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহনে দিনটি অতিবাহিত হয়েছে অনেকটা প্রকৃত ভোটের আমেজে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালেহ উদ্দিন চৌধুরী জানান-গতকাল শনিবার সকাল নয়টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। জেলার  ৩১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ২০৩টি হাইস্কুল এবং ১০৩ টি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। তিনি জানান, শুধুমাত্র কক্সবাজার বায়তুশ জব্বারিয়া একাডেমি তাদের অন্য একটি প্রোগাম থাকায় সময় চেয়ে পরের দিন ( আজ ২৬ জানুয়ারি) স্টুডেন্ট কেবিনেট করবে বলে সময় চেয়েছিল। তবে ৩১০টি বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেননি শিক্ষা কর্মকর্তা।
দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ও দাখিল মাদরাসায় এই নির্বাচন হলেও অন্য কোনো পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন- নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসা নির্বাচনের আওতায় বিবেচিত করেনি সরকার।
কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমজান আলী জানান, তফসিল অনুযায়ী ১৪ জানুয়ারি থেকে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের মনোনয়নপত্র আহ্বান করা হয়। ১৬ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমা নেয়ার শেষ দিন ছিল। যাচাই বাছাই শেষে ১৮ জানুয়ারি বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মনোভাব সৃষ্টি, সঠিক নেতৃত্ব বিকাশ এবং আগামির সুনাগরিক গঠনে এ স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
খুরুস্কুল উম্মে সালমা (রা) ইসলামিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মনছুর আলম আযাদ বলেন- মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার পাশাপাশি দাখিল মাদ্রাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন দেওয়ায় মাদ্রাসা পড়ুয়াদের মধ্যেও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে। গণতন্ত্রের মুলমন্ত্র এবং বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে সমর্থ হবে। ফলে স্টুডেন্ট কেবিনেট শিক্ষার্থীদের মাঝে ভবিষ্যৎ যোগ্য নাগরিক গঠনে ভুমিকা রাখবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, এ বছর দেশের ৮টি বিভাগ ও ৮টি মহানগরের আওতাধীন ৫৫৯টি উপজেলা/থানায় মোট ২২ হাজার ৯২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৬ হাজার ৩৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬ হাজার ৫৪২টি দাখিল মাদরাসা রয়েছে।
এবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২টি ও মাদরাসায় ৫২ হাজার ৩৩৬টি পদে প্রার্থীরা অংশগ্রহন করে। নির্বাচনে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ জন ভোটার। তাদের মধ্যে ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্রী (৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ) রয়েছে।
উল্লেখ্য ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালেও দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পাঠকের মতামত: