ঢাকা,শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের স্থাপনা না সরালে নিরাপদে  ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ সম্ভব নয়

এম.এ আজিজ রাসেল ::  কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে নানা সমস্যা এখনও বিদ্যামান। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো ভূমি জটিলতা। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা নিরসনে কাজ করছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সিভিল এভিয়েশন। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের স্থাপনার জন্য এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপন করা যাচ্ছে না। এছাড়া স্থানীয়দের স্থাপনা না সরাতে নানাভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ একটি কুচক্রি মহল। অথচ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হলে এক মাসের মধ্যে যোগাযোগ যন্ত্রাবলী ন্যাব এইড ইকুইপম্যান্ট ও এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম এর কাজ সম্পন্ন করা যাবে। নতুবা কোন ভাবেই কক্সবাজার বিমান বন্দরে নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালনা ও রাত্রিকালীন উড্ডয়ন এবং অবতরণ করা যাবে না। এমনটাই জানালেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

গত ১৮ জানুয়ারী কক্সবাজার বিমানবন্দরে দিনরাত নির্বিঘ্নে বিমান ওঠানামার জন্য অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি আইএলএস স্থাপনা বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি আলোচনা সভা শহীদ এটিএম জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক। এতে সভাপতিত্বে করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। সভা শেষে আইএলএস স্থাপনের জন্য বিমানবন্দর সংলগ্ন নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মহিবুল হক। এসময় তিনি বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জমি ও অবকাঠামোগত কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এরপর এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক রুটের সাথে সংযুক্ত হবে। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রাত্রিকালীন কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করতে চান। এ লক্ষ্যে দ্রুত বাকি কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যেসম স্থাপনা রয়েছে তা দ্রুত সরিয়ে নেয়া হবে। যৌথ তদন্তের মাধ্যমে এখানকার প্রকৃত ভূমি মালিকদের পুনর্বাসন করা হবে। অন্যায়ভাবে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান, সোধেন্দু বিকাশ গৌস্বামী ও ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাবিবুর রহমান।

কক্সবাজার সিভিল এভিয়েশনের সহকারি ইঞ্জিনিয়ার তারেক আহমেদ বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কার্যক্রম ২০১৫ সালের ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধনের পর বিমানবন্দরের রানওয়ে ৬৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯০০০ ফুট এ উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া রানওয়ের চওড়া ১৫০ ফুট হতে ২০০ (শোল্ডারসহ) ফুটে বর্ধিত করা হয়েছে। শক্তিবৃদ্ধি করা হয় রানওয়ের। শেষ হয়েছে চারপাশের সীমানা প্রাচীরের কাজ। রানওয়ে ১৭ প্রান্তে রক্ষাপ্রদ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

পাঠকের মতামত: