Home » কক্সবাজার » ‘হয় কাজ দেন নয় বাদ দেন’ -ক্ষোভে ফুঁসলেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা

‘হয় কাজ দেন নয় বাদ দেন’ -ক্ষোভে ফুঁসলেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্রগ্রাম :: উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানদের শুধু পদবি রয়েছে। সব কিছু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এমপিদের হাতে। আমাদের হাতে কিছু নেই। আমরা নামকাওয়াস্তে পদবি বহন করে মরতে চাই না। আমাদের সম্মান চাই। দেশের প্রকৃত উন্নয়ন করতে উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান ও ভাইস চেয়াম্যানদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। মন্ত্রী ও সচিবের সামনে অনুষ্ঠানে এসব ক্ষোভের কথা বলছিলেন উপজেলা চোয়াম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। বক্তব্য চলাকালে অনেকে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর সামনে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর এলজিইডি ভবন সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। ওইদিন উপজেলা চেয়াম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের সাথে স্থানীয় পল্লী ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের মতমিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের দাবির বিষয়ে বলেন, ‘আপনাদের দাবিগুলো আমি শুনেছি ও নোট করে নিয়েছি। আপনাদের অনেক দাবির সাথে আমি একমত। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করেছেন। সবাইকে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’

এর আগে অনুষ্ঠানে একাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা বক্তব্য রাখেন।

রাউজান উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান এহছালুন হক চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘সচিবালয়ে ঠিকাদারদের গাড়িও ঢুকতে পারে। শুধু আমাদের গাড়ি ঢুকতে পারে না। আমাদের কাজ করার ক্ষমতা দেন, না হয় আমাদের বাদ দেন। আমাদের মেজবান আর কবর জেয়ারত ছাড়া কোন কাজ নেই। আমাদের গাড়ি পথে নষ্ট হয়ে যায়। অনুষ্ঠানে যেতে যেতে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়।’

অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। উপজেলা পরিষদের শুরুতে চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সেরকম কোন ক্ষমতা নেই। প্রত্যেক ফাইলের জন্য আমাদেরকে নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে যেতে হয়। এমপি ও আমরা দুজনেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কিন্তু আমাদের সব কাজে এমপিরা হস্তক্ষেপ করেন। পদাধিকার বলে তিনি সব কাজেরই উপদেষ্টা। সেই হিসেবে আমাদের অনেক উপদেশ শুনতে হয়। আমাদের ক্ষমতা না দিলে কোন উন্নয়ন সফল হবে না।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আকতার বলেন, ‘নির্যাতিত চেয়ারম্যানদের গাড়ি বাড়ি কিছুই নেই। নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমরা জিম্মি। আমাদের কোন অনুষ্ঠানেও ডাকা হয় না। বই বিতরণ অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হয় না। আমাদের গাড়ি নেই। আমরা সিএনজি অটোরিকশায় চলাচল করি।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাহী কর্মকর্তাদের আমাদেরকে স্যার ডাকতে হবে কেন? এটি কোন্ আইনে আছে? আমাদের কাজ করার ক্ষমতা দিয়ে আমাদের সম্মান ফিরিয়ে দিন।’

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদুল হক বলেন, ‘আমাদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আমাদের হাতে যে ১৭টি বিভাগের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার কোনটি কার্যকর নেই। আমরা জনগণের ভোট নিয়ে নির্বাচিত হলেও তাদের জন্য কোন কাজ করতে পারছি না, এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য স্থানীয়র সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেশের সবখানে গিয়ে গিয়ে আপনাদের কথা শুনব। আপনাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি উন্নত দেশ গড়ার লক্ষে কাজ করে যাব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঢাকায় ‘কক্সবাজার উৎসব’ হয়ে উঠল মিলনমেলা

It's only fair to share...000প্রেস বিজ্ঞপ্তি :: রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গত ২২ ফেব্রুয়ারী “কক্সবাজার উৎসব ...

error: Content is protected !!