ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও বীমা সুবিধা দিতে হবে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার :: উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও বীমা সুবিধা দেয়ার দাবী উঠেছে।
সেই সঙ্গে জেলেদের জন্য জাতীয় বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবী করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট-এর আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলীয় অঞ্চলের বিপদাপন্ন জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ দাবীর কথা জনিয়েছেন।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা উপকূলীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান, প্রকৃত ও বাদ পড়া জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময় জেলেদের বিকল্প জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আরও অধিক প্রকল্প গ্রহণ ও জেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন আলোচকরা।
কোস্ট ট্রাস্ট -এর সহকারী পরিচালক জনাব মকবুল আহমেদ-এর সঞ্চালনায় উক্ত সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন কোস্ট সিজেআরএফ প্রকল্পের পোগ্রাম হেড মোঃ হাসান।
কক্সাজার সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি মুহম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শফিউদ্দিন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক মাছের প্রজাতি ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে এবং মৎস্যজীবীরা তাদেও পেশা হারাচ্ছেন – এসব নিয়ে আমাদের আরো সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমানে বিপর্যস্থ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবন ও জীবিকা পরিবর্তনের প্রভাবে তাদের জীবিকার ধরন বদলে যাচ্ছে। ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে এখন আর সাগরে আগের মতো বেশি সময় মাছ ধরা যাচ্ছেনা, ঝড়ের সিগন্যাল পেলে মাছ ধরা ফেলে কিনারায় চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে, এছারাও সাগরে নিয়মিত নি¤œচাপের সংকেত থাকায় দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবে মাছ ধরতে যেতে পারছেনা। ফলে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সেমিনারে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, নাগরিক সমাজর প্রতিনিধি ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত: