Home » কক্সবাজার » শহরে গাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম নৈরাজ্য

শহরে গাড়ি ভাড়া নিয়ে চরম নৈরাজ্য

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার ::  শহরের কলাতলী এলাকা থেকে এক পর্যটক দম্পতি রিক্সা নিয়ে এসেছেন বার্মিজ মার্কেটের রিক্সা চালকের দাবী ভাড়া এসেছে ৭০ টাকা, তবে পর্যটক দিতে চান সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। পরে তাদের মধ্যে অনেকক্ষণ ঝগড়াঝাটির পরে এক পথচারী এসে মিমাংসা করে দিয়েছেন। এ সময় উক্ত পর্যটক মাদারিপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মোতাহের হোসেন রাজু বলেন, কক্সবাজার আসার স্বপ্ন ছিল অনেক দিনের। তাই ছুটি নিয়ে নব বিবাহিত স্ত্রীর সাথে ঘুরতে কক্সবাজার এসেছি। এখানে এসে সত্যি বলতে আমার খুব বাজে লাগছে বীচ ছাড়া অন্য কিছু দেখার নেই। সব চেয়ে সমস্যা হচ্ছে গাড়ী ভাড়া নিয়ে কোন নির্দেশনা বা নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। এটা খুবই বাজে অবস্থা। আমার মতে পর্যটন এলাকা পর্যটকদের জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা থাকা দরকার। অল্প দূরে গিয়ে শহরের বিকেপাল সড়কের এক ছাত্রী কালুর দোকান এলাকা থেকে প্রাইভেট পড়ে রিক্সা নিয়ে বাজারঘাটায় এসেছে। সেখানে গাড়ী ভাড়া দিতে গিয়ে বিপাকে কারণ রিক্সা চালক আজিজের দাবী ভাড়া দিতে হতে ৩০ টাকা,অথচ ১০ মিনিটের এই পথে ভাড়া আসে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন কক্সবাজারে গাড়ী ভাড়া নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। বাসটার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ি জসিম উদ্দিন জানান, আগে হলিডে মোড় থেকে টমটম নিয়ে বাস টার্মিনালে আসতাম ১০ টাকা দিয়ে হঠাৎ করে কিছুদিন আগে ১৫ টাকা নিতে শুরু করেছে এখন ২০ টাকা চায়। মোট কথা কোন কর্তৃপক্ষের কোন নিয়ন্ত্রন নেই যার যা ইচ্ছা সেভাবে ভাড়া আদায় করে। এছাড়া অভ্যন্তরিন রোটে সব ধরনের গাড়ী ভাড়া কোথায় কত টাকা তার কোন হিসাবে নেই বরং গাড়ী চালক এবং মালিকরাই নির্ধারণ করে ভাড়া কত হবে। এদিকে ব্যবসায়ি আবদুল জব্বার বলেন, কিছুদিন আগেও নোহা গাড়ী নিয়ে চট্টগ্রাম যেতাম ৪ হাজার টাকা দিয়ে এখন সেখানে সাড়ে ৫ টাকা দিলেও যেতে চায়না। এখন পরিবহণ খরচ বাড়লে আমাদের দ্রব্য মুল্যের দাম বাড়ে। রামু তরকারি ব্যবসায়ি আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেণ,আমরা চকরিয়া পটিয়া মাঝে মধ্যে সাতকানিয়া থেকে পাইকারী তরকারী এনে রামু কক্সবাজারে বিক্রি করি আগে গাড়ী জিপ বা মিনি ট্রাক নিয়ে মালা আনা নেওয়া করলে দৈনিক ২ হাজার টাকা ভাড়া নিত। এখন সেখানে ৪ হাজার টাকা দিলেও যেতে চায়না। ফলে তরিতরকারীরও দাম বাড়ে। আসলে গাড়ী চালকরাও কি করবে পথে পথে শ্রমিক সংগঠনের নামে এবং পুলিশরা যেহারে চাঁদা নেয় সেখানেই বেশির ভাগ টাকা চলে যায়। আগে শুধু মাত্র কোন পৌর এলাকায় ঢুকলে টোল দিতে হতো এখন প্রতিটি এলাকায় অসংখ্য শ্রমিক সংগঠনের নামে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজী এতে ব্যবসায়ি সহ সবাই অসহায়। কারণ চাঁদা না দিলে গাড়ী ভাংচুর করে তারা। এদিকে শহরে প্রতিটি এলাকা ভেদে আগে পৌরসভার থেকে গাড়ী ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হতো কিন্তু এখন সেটা আর চোখে পড়েনা।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা খুবই গর্বনিয়ে বলি কক্সবাজার বিশে^র অন্যতম পর্যটন নগরী। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখানে বিশ^মানের কোন সেবাটি আছে ? বিশ^মানের কোন জিনিস আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি সেটা পর্যটকদের বারবার এখানে আসতে বাধ্য করবে। বাইরে থেকে পরিচিত বন্ধু বান্ধব আসলে সকলেই ২ দিন পরে কক্সবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বার্তা বলে। বিশেষ করে গাড়ীভাড়া নিয়ে যা চলছে সেটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। আমার মতে এখানে সব কিছুই হতে হবে নিয়ন্ত্রিত এবং পরিমিত।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলম চকরিয়া নিউজকে বলেন,আমার জানা মতে পৌরসভার পক্ষ থেকে রিক্সা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল সর্বশেষ প্রায় ৫ বছর আগে। এর মধ্যে নতুন করে ভাড়া পূণ: নির্ধারণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেণ,খুব শীঘ্রই পৌর এলাকায় গণপরিবহনের গাড়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চবিতে আবারো অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক ছাত্রলীগের

It's only fair to share...000চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দু’দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ...

error: Content is protected !!