ঢাকা,রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

চকরিয়ায় ৯৯ বছর মেয়াদের ভাড়াটিয়াকে দোকান থেকে বের করতে অভিনব কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::  চকরিয়া পৌরসভার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সড়কের কাঁচাবাজার লাগোয়া ৯৯বছর মেয়াদের একটি দোকানদারকে উচ্ছেদ করতে অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন মালিকপক্ষ। এমনকি পৌরসভার কতিপয় কর্মকর্তাকে দিয়ে মার্কেটের ওই ভাড়াটিয়ার দোকানটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করছে মালিক আবদু শুক্কর সওদাগর।

কয়েক বছর আগে লক্ষ্যারচর সিকদারপাড়া গ্রামের শাহ আলম সওদাগরের তিন পুত্রকে ৯৯বছর এককালিন চুক্তিতে ভাড়া দেন। এরই মধ্যে সম্প্রতি তিনি পাকাঘরের জায়গাটি বহুতল ভবন নির্মাণ করতে একটি ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এরপর তিনি নিজের পাকাঘর ঝুঁকিপূণ বলে দাবি করে ওই ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে নানা তালবাহানা শুরু করেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মৃত হাজী নজির আহমদের পুত্র আবদু শুক্কুর গংয়ের মালিকানাধীন একতলা পাকাঘর রয়েছে। ২০১৪সালের ১৪মার্চ আবদু শুক্কর সওদাগর থেকে ৩১ লাখ টাকা এককালীন পরিশোধ সাপেক্ষে একটি দোকানঘর ৯৯বছর দীর্ঘ মেয়াদি সেলামি চুক্তিতে ভাড়া নেন চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্যারচর সিকদারপাড়া গ্রামের শাহ আলম সওদাগরের পুত্র মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ, আনোয়ারুল আনু ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

সূত্র জানায়, আবদু শুক্কর সওদাগর দোকানের পাকাঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে পৌরসভার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। প্রশ্ন উঠছে, আব্দু শুক্কর সওদাগর কিভাবে নিজের ঝুকিপূর্ণ পাকাঘর হলেও ৯৯বছর চুক্তি ভাড়া দিতে পারে। ওই দোকানদার থেকে মোটা অঙ্কের সেলামিও নেন।

স্থানীয় দোকানদার সূত্রে জানা গেছে, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর কৌশল পাল্টাতে শুরু করে দোকান মালিক আবদু শুক্কর সওদাগর। আবদু শুক্কর গোপনে দোকানঘরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে পৌরসভা থেকে নোটিশ জারি করে। একাজে তাকে সহযোগিতা দিচ্ছেন পৌরসভার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারী। অভিযোগ উঠেছে, একই ভবনে শাহআলম সওদাগরের তিন ছেলের দোকানটি ছেঁেড় দিতে পৌরসভা থেকে নোটিশ দেয়া হলেও পাশের অপর দোকানে কোন ধরণের নোটিশ দেয়া হয়নি অধ্যবদি। এছাড়া বিগত সময়ে পৌরসভার একটি নোটিশও তাঁরা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শাহ আলম সওদাগরের পুত্র মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ, আনোয়ারুল আনু ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

দোকান মালিক শাহআলম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ বলেন, ৯৯বছর মেয়াদে চুক্তিপত্রের ১৪ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে প্রথমপক্ষের (মুল মালিক) পারিবারিক সম্পুর্ণ অংশ যদি ভবিষ্যতে কোন ডেভলপমেন্ট কোম্পানীকে মার্কেট তৈরীর জন্য প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে দ্বিতীয়পক্ষ গণের (৯৯বছর মেয়াদে মালিক) চুক্তিনামা মুলে প্রাপ্ত ১৯৫ বর্গফুট দোকানের স্থলে মার্কেট নির্মাণ করা হইলে প্রথমপক্ষ মার্কেটের তাহার প্রাপ্ত অংশ থেকে প্রথম ফ্লোরের সম্মুখভাগের একশত বর্গফুট বিশিষ্ট একটি দোকান ও দ্বিতীয় তলার সম্মুখভাগ থেকে অনুরূপ একশত বর্গফুটের একটিসহ দুইটি দোকান চুক্তিপত্র অনুযায়ী মাসিক ভাড়ায় দ্বিতীয়পক্ষকে বুঝিয়ে দেবেন।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ দাবি করেছেন, চুত্তিপত্রের ১৪ নম্বর ধারার আলোকে মার্কেট মালিক তাঁর অংশ ডেভলপমেন্ট কোম্পানীকে দেয়ার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মার্কেট করতে হবে তাকে। কিন্তু তিনি সেটি উপেক্ষা করে আমাদেরকে দোকান থেকে বের করে দিতে এখন বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। রাতের আধাঁরে লুট চালিয়ে দোকানঘরটি গুড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাঁর অব্যাহত হুমকিতে আমরা বর্তমানে নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি।

শাহ আলম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ বলেন, ‘বুধবার একটি অনলাইন নিউজ ও কয়েকটি সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি আমার দোকানঘরটি ঝুঁকিপূূর্ণ। দোকান মালিক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজেই নিজের পাকা দোকানঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে আসছেন। মুল কথা হল, আমার দোকানঘর নিয়ে প্রকাশিত নিউজের সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল নেই। এসব সংবাদ একেবারে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা তিন ভাই ৯৯বছর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আবদু শুক্কর সওদাগর থেকে ভাড়া নিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। এতে দোকানের জায়গার মালিক আবদু শুক্কর কোন আলোচনায় বসতে রাজি হচ্ছে না। উল্টো ভাড়াটে লোক দিয়ে আমাকে অব্যাহত হুমকি দিয়ে আসছে।

পাঠকের মতামত: