Home » কলাম » ভিক্ষা চাইনা বাবাজি তোর কুত্তা সামলা !

ভিক্ষা চাইনা বাবাজি তোর কুত্তা সামলা !

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

m.r-mahmod,,::::  এম.আর মাহমুদ  ::::

বয়স্ক ভিক্ষুক ধণাঢ়্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়েছিল ভিক্ষা চাইতে। বিধিবাম ভিক্ষা চাওয়ার আগেই একঝাঁক কুকুর কামড়ানোর জন্য ভিক্ষুককে ঘিরে ধরল। অসহায় ভিক্ষুক আর্তনাদের সুরে চিৎকার করে বলতে শুরু করল, ‘বাবাজি ভিক্ষা চাইনা কুত্তা সামাল’। দু’দফায় পৌর নির্বাচন ও প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে অভিজ্ঞতা নিয়ে বর্ণনা করছিলেন, নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত একজন পুলিন অফিসার কথাগুলো বলছিলেন রসিকতা করে। নির্বাচনের দিনের বাস্তব চিত্র তার রসিকতায় ফুটে উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এক সময় মানুষ ভোট উৎসব হিসেবে মনে করলেও এখন তা আর মনে করছে না। অতীতে নির্বাচনের সময় সংঘাত, সংঘর্ষ হয়েছে, এখনও হচ্ছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে এত বেশি প্রাণহানিতে সাধারণ ভোটারেরা শংকিত।

ভোটারেরাও বলছে, কেন্দ্রে গিয়ে কি করব? মাস্তানেরা ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্যালট কেড়ে নিয়ে সীল মেরে বাক্স ভর্তি করছে। অতীতে কোনদিন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে দেখা যায়নি। বর্তমান সরকার প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে গিয়ে নির্বাচনের অবস্থা যেন ‘লেজে গোবরে’। বিজ্ঞ জনেরা বলছে, ‘একেত নাচনে বুড়ি, তার উপরে ঢুলের বারি’। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে যে সরকার ক্ষমতায়, সে দলের নেতাকর্মীরা ক্ষমতার দাপট অবশ্যই দেখাবে। কারণ কারও বাড়িতে মেজবান হলে তার ছেলেমেয়েরাতো আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খাবে না। এটা যেমন স্বাভাবিক, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে এমন নাজুক অবস্থা হওয়া অমূলক নয়। দেশে দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে অন্য কোন দলের প্রার্থীরা বিজয় দেখেনি। ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপে আ’লীগের জয় জয়কার। এ যেন ১৯৭২ সালের এস.এস.সি পাশের মত অবস্থা। দ্বিতীয় ধাপের ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। সে দিনের নির্বাচন কেমন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ পাগল গাছে ধরে না। দলীয় নেতাকর্মীদের যুক্তি হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যতই বলুক না কেন পাতিলে ভাত রেখে ছেলেমেয়েদেরকে না খাওয়ার অছিয়ত করলে ক্ষুধার্ত ছেলেমেয়েরা মানবে না। সমস্যা হচ্ছে বর্তমান সরকারের ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার মত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। কারণ প্রতীক নৌকা। দল মনোনয়ন দিচ্ছে একজনকে। এতে মনোনয়ন বঞ্চিত অসংখ্য প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে দাঙ্গা হাঙ্গামা, গোলাগুলি ও কেন্দ্র দখলের উৎসব চলছে। মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীদের বক্তব্য হচ্ছে, দলের হাই কমান্ডে নগদ টাকা দিতে পারিনি বলে সকল যোগ্যতা থাকার পরও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আবার অনেক ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হচ্ছে। যে কারণে ইতিমধ্যে ১৫ জনের মত নিরীহ ভোটার প্রাণ হারিয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিহতরাও বেশির ভাগ দলের ভক্ত অনুরুক্ত। আরো পাঁচ ধাপ নির্বাচন বাকী রয়েছে। আল্লাহ জানে শেষ মেষ কতজনের উপর আজরাঈল চোয়ার হয়। কি জানি কি পরিমাণ মানুষের প্রাণ গেলে নির্বাচন কমিশনের আত্মা শান্তি পাবে। কেন্দ্রে গিয়ে যদি ইচ্ছা মত ভোট প্রয়োগ করতে না পারে, সে নির্বাচনের প্রয়োজন কি? রাজকোষের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করার অর্থ কি? দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলো হাট-বাজার, বালুমহালের মত ইজারা দিলে রাজকোষে অঢেল অর্থ জমা হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া অর্থের কিছুটা হলেও ঘাটতি পূরণ হবে। এ নিলাম প্রতার চালু হলে নাখেন্দা পাবলিকগুলো প্রাণে বাঁচবে। এমন গণতন্ত্র সাধারণ পাবলিকের জন্য প্রয়োজন নাই। সৌদি আরবের মত রাজতন্ত্র হলে ভাল হত। তৃতীয় ধাপে চকরিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের ১২ লৌহ মানবকে মনোনয়ন দিয়েছে। ফলে অসংখ্য মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া লৌহ মানবেরা ভাবছে দলের প্রতীক পাওয়া মানে ৬০% বিজয় লাভ করা। আর ৪০% অর্জন কোন সমস্যা নয়। বিদ্রোহীরা বলছে, ‘বিনাযুদ্ধে নাহি দেব সুচাগ্র মেদিনী।’ আবার অনেক মনোনয়ন বঞ্চিত ব্যক্তি তলে তলে ভিন্ন দলের প্রার্থীদের অর্থ দিয়ে উৎসাহ যোগাচ্ছে। ১৯৭২ সালের এস.এস.সি পাশ করা ব্যক্তিদেরকে মানুষ এখনও ঘৃণা করে। কারণ ওই সময়ের এস.এস.সি পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়েছিল, তারাই পাশ করেছিল। যা ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পৌর ইউপি নির্বাচনের মত।

গণতন্ত্রে সাদামাটা ব্যাখ্যা হচ্ছে, যার লাঠি সেই ঘুরাবে। অপর জনের গাঁয়ে যেন না লাগে। এমন গণতন্ত্রের বিশ্বাসী হতে না পারলে জাতির জন্য এ ধরণের নির্বাচন কল্যাণকর হবে বলে মনে হয় না। নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতির প্রত্যাশা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের কবর রচনা করলে, একদিন জবাবদিহি করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ পদের জন্য চিরস্থায়ী নয়। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দল সুশীল সমাজ এ ধরণের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করছে। ১৯৭২ সালের এস.এস.সি পরীক্ষার মত বর্তমান নির্বাচনও মানুষের কাছে ঠাট্টার খোরাক হতে পারে এক সময়। এ ধরণের নির্বাচনী প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে সমাজের জনপ্রয় লোকগুলো জনপ্রতিনিধির কাতার থেকে এক সময় বিদায় নেবে।

এম.আর মাহমুদ, প্রবীন সাংবাদিক, চকরিয়া। মোবাইল-০১৮১২৮০২৭২৭, ০১৭১২৮০২৭২৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু রবিবার

It's only fair to share...32300চকরিয়া নিউজ ডেস্ক ::   প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ...