Home » কক্সবাজার » বৌদ্ধদের ধর্মীয়গুরু ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো আর নেই

বৌদ্ধদের ধর্মীয়গুরু ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো আর নেই

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::  বাংলাদেশে বৌদ্ধদের দ্বিতীয় সর্ব্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপসংঘরাজ, রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ সরকার কতৃর্ক একুশে পদকপ্রাপ্ত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরো আর নেই। প্রয়াণকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর।

বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) দিনগত রাত সোয়া একটার দিকে রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক‌্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দেহ ত‌্যাগ করেন।

শুক্রবার সকালে ভন্তের মরদেহ চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে নেয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভন্তের প্রয়াণে শোকাঞ্জলি নিবেদন করেন।

প্রসঙ্গত, সত্যপ্রিয় মহাথের (জন্ম : ১০ জুন, ১৯৩০ – মৃত্যু : ৪ অক্টোবর ২০১৯) হলেন একজন বাংলাদেশী বৌদ্ধ পণ্ডিত ও সমাজসেবক। তার প্রকৃত নাম বিধু ভূষণ বড়ুয়া। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত একুশে পদক লাভ করেন।

তিনি ১৯৩০ সালের ১০ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার পশ্চিম মেরংলোয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হরকুমার বড়ুয়া এবং মাতার নাম প্রেমময়ী বড়ুয়া। তিনি তার বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠতম।

১৯৫০ সালে তিনি প্রবজ্যা ধর্ম দীক্ষিত হয়ে সত্যপ্রিয় নাম ধারণ করেন। পরের বছর তিনি ভিক্ষু ধর্মে দীক্ষিত হন। ১৯৫৪ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য মিয়ানমার পাড়ি জমান। সেখানে তিনি দশ বছর লেখাপড়া, গ্রন্থ রচনা ও সাধনা করেন।

মিয়ানমার থেকে ১৯৬৪ সালে দেশে ফিরে তিনি রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারে পাঠদানে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এই বিহারের অধক্ষ্য পদে আসীন ছিলেন। এ ছাড়া ২০০৬ সালে বাংলাদেশী বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতির পদ লাভ করেন।

সত্যপ্রিয় বৌদ্ধ ধর্ম বিষয়ক অনেক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একমাত্র ব্যক্তি যিনি ত্রিপিটকের অভিধর্ম পিটকের অন্তর্গত ‘চুল্লবর্গ’ গ্রন্থ পালি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। গ্রন্থটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

সম্মাননা : সমাজসেবায় একুশে পদক, ২০১৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ কর্তৃক শান্তি পুরস্কার, ২০১০।

সমাজসেবায় অবদানের জন্য মিয়ানমার থেকে ‘অগ্রমহাসদ্ধর্ম জ্যোতিকাধজ’, ২০০৩।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় শাহ আজমত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের অভিযোগ, উত্তেজনা

It's only fair to share...000নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::  কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পুর্ব সুরাজপুরস্থ ...

২৫ ধনকুবেরের পোয়াবারো, দু’মাসে আয় ২৫৫ বিলিয়ন ডলার!

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক ::  করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। স্থবির ...