Home » উখিয়া » নাগরিকত্ব দিলে ফিরতে রাজি চীনা প্রতিনিধি দলকে রোহিঙ্গারা

নাগরিকত্ব দিলে ফিরতে রাজি চীনা প্রতিনিধি দলকে রোহিঙ্গারা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক ::  মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পেলে বাংলাদেশ থেকে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছে দুবছর আগে নির্যাতনের মুখে দেশটি থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। চীনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় একথা জানায় তারা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এর নেতৃত্ব চীনের প্রতিনিধি দলটি রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

কয়েকদফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার ব্যাপারে অনাগ্রহের কারণ জানতে চান চীন থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এসময় তারা মিয়ানমার সরকারের প্রতি তাদের অবিশ্বাস ও অনাস্থার কথা জানান। সেখানকার রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেছেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। এর আগেও তারা অনেকবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাই সরাসরি নাগরিকত্ব ও সহায় সম্বল ফেরত দিলেই আমরা ফিরতে পারি।’

দিল মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আরসা বা অন্য এনজিও সংস্থার লোকজন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে অনুৎসাহিত করছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন চীনের প্রতিনিধিরা। জবাবে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারে ফেরত যেতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে এখেই চলে যেতে প্রস্তুত সবাই।’

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বান্দরবানের তুমব্রু খালের কাছে শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) প্রায় এক হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের অন্য ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নাগরিক সুবিধা থাকলেও এখানে কিছুই নেই। রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেড়শ’র মতো এনজিও কাজ করলেও এদিকে কারও নজর নেই। তবে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) প্রতি মাসে দু’বার করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে ত্রাণ দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এদিকে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর চুক্তি সই করে।

পরে দুই দেশ ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর দুই বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও একজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলের ফেরার কথা ছিল গত বছরের ১৫ নভেম্বর। কিন্তু রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ না থাকার কথা বলে তারা ফিরতে রাজি না হওয়ায় এ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর এই বছরের ২২ আগস্ট থেকে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সাক্ষাৎকারের সময় তারা প্রত্যাবাসনের জন্য নানা শর্ত জুড়ে দেওয়ায় প্রত্যাবাসন হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

লিফট ছিঁড়ে পড়ে গেলেন আমীর খসরুসহ বিএনপি নেতারা

It's only fair to share...000নিউজ ডেস্ক ::  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দোতলা থেকে লিফট ...

error: Content is protected !!