ঢাকা,শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

রামুতে ভয়ংকর যানবাহন ছিনতাইচক্রের সদস্য আটক, খুনের দায় স্বীকার

রামু প্রতিনিধি ::

দীর্ঘদিন যাবৎ জেলাব্যাপী সংঘবদ্ধচক্র কৌশলে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি , টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল। উক্ত চক্রের কাছে প্রশাসন নানা ভাবে বিচলিত ছিল। বিভিন্ন সময় জেলার বিভিন্নপ্রান্তে সিএনজি এবং ইজি বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যার ঘটনা ঘটলে ও প্রশাসন তাদের আটকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে রামু থানা একটি ঘটনার সূত্রধরে পুরো সিন্ডিকেটকে আটক করতে সমর্থ হয়েছে।

গত ১১ জুলাই রাত ৯টার দিকে চক্রটি রামুর জোয়ারিয়ানালার নন্দাখালী এলাকার মুরাপাড়ার মমতাজ মিয়া নামক সিএনজি চালককে বেধেঁ চুরিকাঘাত করে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন ১২ জুলাই রাত ২ টার দিকে ছিনতাইকৃত সিএনজিটি ছিনতাইকারিরা রাজারকুল মনসুরের ফার্মের সামনে দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছিনতাইকারিদের ধাওয়া করে সিএনজিসহ ৫ জনকে আটক করে। পুলিশে খবর দিলে রামু থানার এসআই মামুন ইসলাম জনতার সহায়তায় পুরো সিন্ডিকেটকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলো রামুর মেরংলোয়ার নাজিম উদ্দিনের পুত্র মোঃ ঈশা, মন্ডলপাড়ার মৃত শরীফ আহমদের পুত্র মোঃ শাহেদ, সদরের মুক্তারকুলের এহেসানুল হক, জোয়ারিয়ানালা মহিষকুমের আরাফাত এবং খুরুস্কুলের সেলিমের স্ত্রী রিমা আক্তার ঢালি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল মনসুর জানান, আটককৃত বিশালচক্রটি কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধ শতাধিক ছিনতাই এবং ডাকাতিতে জড়িত। আটককৃত মোঃ ইসহাক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে গত বছর পিএমখালী থেকে সিএনজি ছিনতাই করে রামুতে এনে চালক দুদুমিয়াকে খুন করে চা বাগান এলাকায় ফেলে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছে। এছাড়া কয়েকটি ইজি বাইক ছিনতাই ও চালককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা ও জবানবন্দীতে স্বীকার করেছে। এছাড়া রামুর মন্ডলপাড়া, ফতেখারকুল, জোয়ারিয়ানালা, সদরের ঝিলংজা, পিএমখালীসহ অনেক জায়গা থেকে মোটর সাইকেল ছিনতাই করে জেলার বাইরে বিক্রি করেছে বলে স্বিকারোক্তি দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত বছর পিএমখালীর মাছুয়াখালীর দরিদ্র মৃত আবদু সালামের পুত্র সিএনজি চালক দুদু মিয়াকে শহরের বাজার ঘাটা থেকে ঈদগাও রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন যুবক গাড়িতে উঠে রামুর চা বাগান এলাকায় হাত মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জঙ্গলে লাশ ফেলে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রামু থানায় একটি মামলা ও হয়। সিএনজিটি অদ্যাবধি উদ্ধার না হলেও গত ১২ জুলাই চক্রটি অপর একই ধরনের ঘটনায় ৫ জন আটক হয়। এ ঘটনায় সিএনজি চালকের ভাই ঈদগড়ের মৃত আলতাজ মিয়ার পুত্র কামাল হোসেন বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। সে ঘটনায় ১ বছর পর পিএমখালীর সিএনজি চালক দুদু মিয়া হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়। অসহায় পরিবারের দাবি হত্যাকারি ইসহাকসহ সকল ছিনতাইকারি সিন্ডিকেটকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

পাঠকের মতামত: