ঢাকা,মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জনবল নিয়োগের অভিযোগ

পেকুয়া প্রতিনিধি ::   কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টার এ.কে এম. রায়হান মন্ডলের বিরুদ্ধে পেকুয়া উপজেলা সাব রেজিষ্টার অফিসে সরকারী নিয়ম বহির্ভূতভাবে নকলনবীশ (মোহরার) পদে লোকবল নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা।

অভিযোগ উঠেছে, পেকুয়া উপজেলার যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের বঞ্চিত করে নিবন্ধন অধিদপ্তরের পরিপত্র লংঘন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই অতিগোপনে বাইরের উপজেলার ৫জন লোককে নকলবিশ (মোহরার) পদে নিয়োগ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলা রেজিষ্ট্রার এ. কে. এম রায়হান মন্ডল।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নকলবিশ (মোহরার) পদে স্থানীয় বা পেকুয়া উপজেলার কোন যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বাইরের উপজেলার বাসিন্দাদের গোপনে নিয়োগ দিয়ে কক্সবাজার জেলা সাব রেজিষ্টার এ. একে. এম রায়হান মন্ডল ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যেকোন সরকারী দপ্তরে জনবল নিয়োগের পূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধান থাকলেও তা মানেননি মহাক্ষমতাধর জেলা রেজিষ্টার রায়হান মন্ডল!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিগত ০৭/১২/২০১১ ইংরেজী তারিখে ১৯৯৬(৬৭) নং স্মারকের পরিপত্রের আলোকে কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টার কার্যালয়ের অধীন কোন ধরনের নকলবিশ (মোহরার) পদে লোকবল নিয়োগ না করার জন্য আদেশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু নিবন্ধন অধিদপ্তরের আদেশ লংঘনের পাশাপাশি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টার এ. কে. এম রায়হান মন্ডল পেকুয়া উপজেলার যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে গোপনে পেকুয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে বাইরের উপজেলার ৫ জন প্রার্থীকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ প্রদান করেছেন। কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টার এ. কে. এম রায়হান মন্ডল কর্তৃক স্বাক্ষরিত গত ২৫/০৭/২০১৭ ইং তারিখ তার কার্যালয়ের ৬১৫ (৮) নং পত্রের মাধ্যমে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে বাইরের উপজেলার ৫ জন লোককে নকলবিশ (মোহরার) পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

নিয়োগপ্রাপ্তরা গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে অবৈধভাবে মোহরার পদে কাজ করছেন। জেলা রেজিষ্টার কর্তৃক অনিয়মের মাধ্যমে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে নিয়োগকৃত নকলবিশ (মোহরার) গণ হলেন: মোহাম্মদ জহির উদ্দিন পিতা: মৃত হাতেম ভূঁইয়া, গ্রাম: উখিয়া সদর, ডাকঘর: উখিয়া, উপজেলা: উখিয়া, মিনহাজ উদ্দিন পিতা পিতা: কলিম উল্লাহ, গ্রাম: খোন্দকার পাড়া, ০৭ নং ওয়ার্ড়, চকরিয়া পৌরসভা, ডাকঘর, চিরিঙ্গিা সি.সি, উপজেলা: চকরিয়া, তারেক হোসেন পিতা: ইউসুফ আলী, গ্রাম: চাকবৈঠা, রতœাপালং, ডাকঘর: উখিয়া, উপজেলা: উখিয়া, এইচ, এম শহিদ উদ্দিন ফরহাদ পিতা আনোয়ার হোছাইন, গ্রাম: এস,এম চর, ২ নং ওয়ার্ড়, ডাকঘর: কাকারা, উপজেলা: চকরিয়া, স্কিমা বড়–য়া সেবু স্বামী জিতেন বড়–য়া, গ্রাম: মানিকপুর, ডাকঘর: মানিকপুর, উপজেলা: চকরিয়া।

পেকুয়ার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেলা রেজিষ্টার কর্তৃক যে ৫ ব্যক্তিকে অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা সবাই বাইরের উপজেলার বাসিন্দা। পেকুয়া উপজেলার কোন বাসিন্দাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জেলা রেজিষ্টার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি বহির্ভূতভাবে ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের পরিপত্র লংঘন করে উল্লেখিত ৫ জনকে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে কক্সবাজার জেলা রেজিষ্টার এ. কে. এম রায়হান মন্ডলের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে নকলনবিশ পদে জনবল শুন্য থাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন ধরনের সদুত্তর দিতে পারেনি।
অপরদিকে জেলা রেজিষ্টারের এহেন অনিয়মের বিষয়টি তদন্তপূর্ব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণসহ অনিয়মের মাধ্যমে পেকুয়া সাব রেজিষ্টার অফিসে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ জন নকলবিশ (মোহরারদের) নিয়োগ জনস্বার্থে বাতিল করে বঞ্চিত পেকুয়া উপজেলা থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগদানের জন্য গত ১০ জূলাই নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন পেকুয়ার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন।

পাঠকের মতামত: