ঢাকা,শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডুবে যাচ্ছে লামা, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি ::  টানা ৭ দিনের মুষলধারে বৃষ্টির ফলে ওপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। মাতামুহুরী নদী ও পাহাড়ি ঝিরি (ছোট নদী) গুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আলীকদম-লামা-চকরিয়া সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আলীকদমের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, গত শুক্রবার থেকে টানা ৭ দিনের প্রবল বর্ষণের ফলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লামা পৌর এলাকার নয়া পাড়া, নুনারবিল, ছাগলখাইয়া, লামা পৌর বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকা ওপর থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

এ ছাড়া লামা সদর ইউনিয়ন, ফাসিয়াখালী, রুপসী পাড়া ও গজালিয়া ইউনিয়নসমূহের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সকল এলাকায় মাতামুহুরী নদী ও পাহাড়ি ঝিরির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলে এরই মধ্যে লামা বাজারের পূর্বাংশের সড়ক তলিয়ে গেছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বন্যা আতঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মালামাল সরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

লামা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাবিল মিয়া চকরিয়া নিউজকে জানিয়েছেন, আলীকদম-লামা-চকরিয়া সড়কের শিলেরতুয়া পয়েন্ট পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আলীকদমের সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম চকরিয়া নিউজকে জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে এনে পৌর এলাকার ৩টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে। সেখানে তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আজ দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

পাঠকের মতামত: