ঢাকা,সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০

গাছ ও পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরীর হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
কক্সবাজার জেলার রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি বনতলা নাপিতাপাড়ায় পাহাড় ও পাহাড়ি গাছ কেটে বসতঘর তৈরীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার চিহ্নিত কিছু প্রভাবশালী লোক এই কাজে জড়িত রয়েছে। এতেকরে প্রাকৃতি জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এসব বসতি নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় মিয়া হোসেন নামের এক ব্যক্তি বেশ কিছু দিন ধরে পাহাড়ি গাছপালা ও পাহাড়ের মাটি কেটে সমান করে। সেখানে গত কয়েক দিন ধরে পাকা স্থাপনার জন্য ইট, বালি, কংকর মজুদ করতে থাকে। ইতিমধ্যে ইটের দেওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন মিয়া হোসাইন। পাশাপাশি পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছেন। অভিযুক্ত মিয়া হোসেন ওই এলাকার মৃত মকসুদ আহমদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার এক জমিদারের জমিজমার পাহারাদার হিসেবে ছিলেন বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সুত্র মারফত জানা গেছে, মিঠাছড়ি মৌজার ৩০৫ নং জোতের খতিয়ান নং-১১৪৮/৫৫ বন্দোবস্ত খতিয়ানের মালিক মৃত আলী হোসেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ছেলে সরওয়ার আলম চৌধুরীর নামে বিএস ১৮৭৫ সৃজন হয়। যার মূল বিএস ৫৭৪। সরওয়ার আলম চৌধুরীর পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত জমির পরিমাণ ৬.৮২ একর।
সুত্রটি জানিয়েছে, সরওয়ার আলম চৌধুরীর মালিকানাধীন জমিতে মিয়া হোসেনকে পাহাদার হিসেবে বসিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন থাকার সুযোগে সেই জমিতে বসতি নির্মাণ শুরু করেছেন মিয়া হোসেন। বিষয়টি পরে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেন সরওয়ার আলম চৌধুরীর ছেলে তামজিদ মাশরুর শেফাত। গত ২০ মার্চ এমআর মামলা নং-৩১৯/১৯ মূলে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। সেই আদেশের আলোকে জমিতে কোন ধরণের পরিবর্তন, দখল, অপসারণ, স্থাপনা নির্মাণ ইত্যাদি না করতে নোটিশ ইস্যু করে সংশ্লিষ্ট থানা। কিন্তু আদালত ও থানার আদেশের তোয়াক্কা না করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে দখলবাজ মিয়া হোসেন। বিষয়টি এক প্রকার আদালত অবমাননার শামিল বলে মনে করেন বিজ্ঞ আইনজীবীরা।

পাঠকের মতামত: