Home » মহেশখালী » মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচন: হেভিওয়েট দুই আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে মর্যাদার লড়াই

মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচন: হেভিওয়েট দুই আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে মর্যাদার লড়াই

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

FFFএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ১৪ মার্চ ॥

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী পৌর সভায় মেয়র পদে হেভিওয়েট দুই আওয়ামী লীগ নেতা মর্যাদার লড়াইয়ে অবর্তীন হয়েছে। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তিন জন প্রার্থী থাকলেও এখানে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে। একজন হচ্ছে বর্তমান মেয়র আ’লীগ নেতা মকসুদ মিয়া ও অপর জন হচ্ছে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার আজম। অবশ্য বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিস্কারও করা হয়েছে সরওয়ার আজমকে।

আগামী ২০ মার্চ দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী পৌরসভার ভোট গ্রহণ। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা ক্ষিণ বলেই জানিয়েছেন ভোটাররা।

কক্সবাজার নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, মহেশখালী পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৪৫ জন। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র মকসুদ মিয়া, আওয়ামী লীগ ঘরানার বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুহি উদ্দিন বাশি। কাউন্সিলার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন। আগামী ২০ মার্চ এই পৌরসভার ভোট গ্রহণ হবে।

মহেশখালী পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বর্তমান মেয়ার ও সরকার দলের মনোনীত প্রার্থী মকসুদ মিয়া ও সাবেক মেয়র বিদ্রোহী প্রার্থী সরওয়ার আজম দুই জনই হেভিওয়েট প্রার্থী। গেল মেয়র নির্বাচনে সরওয়ার আজম আওয়ামী লীগের সমর্থন পেলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছিলেন মকসুদ মিয়া। তাকে আ’লীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তার পরেও মকসুদ মিয়া মেয়র পদে নির্বাচিত হন। এবার হয়েছে ঠিক তার উল্টো। মকসুদ মিয়াকে সরকার নৌকা প্রতীক দিয়ে সমর্থ দিলে সরওয়ার আজম বিদ্রোহ করেই প্রার্থী হন। এরা দু’জন নির্বাচনে সক্রিয় থাকলেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বাশির কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এখানে মকসুদ মিয়ার নৌকা ও সরওয়ার আজমের নারিকেল গাছের মধ্যে সরাসরি লড়াই হবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন ভোটাররা।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বর্তমান ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার প্রার্থী মহেশখালীর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পূর্ণ চন্দ্র দে বলেন, মহেশখালী পৌরসভায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের আশা কম।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ছিলাম এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠক। মেয়র নির্বাচনে কিছু আওয়ামী লীগ নেতা সুবিধা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখে একটি রাজাকার পরিবারে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। যাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করা হয়েছে বর্তমান মেয়র (মকসুদ মিয়া) তার বাপ-চাচারা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার। তৎকালীন পাকিস্তানী সেনাদের সাথে তাদের (মকসুদ মিয়ার পিতা মুহাম্মদ ও চাচা মৌলবী জাকরিয়া) আত্ম তৃপ্তির পোঁচ দেয়া ছবি এবং অপকর্মের সকল ডকুমেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁেছনি বলেই রাজাকার পরিবারের একজন সস্তানকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে।

এই সংখ্যালঘু নেতা আরো বলেন, ওই রাজাকাররা এখন থেকে ৪৫ বছর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁেক হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সেই হুমকি নাকি এখনো আসছে বলে তিনি জানান।

বিষয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর নজরে গেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগ নেতারা এখন কোনঠাঁসা। তারা কেউ এখন আর মকসুদ মিয়ার সাথে নেই।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ রাজাকার পরিবারের সস্তানকে দিয়ে ‘নৌকা’র অবমাননা করা হয়েছে। শেষ মূহুর্তে মহেশখালী পৌর নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন তিনি।

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেন নির্বাচন করছেন এব্যাপারে জানতে চাইলে সরওয়ার আজম বলেন, মনোনয়ন আমারই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার উপর অবিচার করা হয়েছে। জনগন আমার পক্ষে রয়েছে। ইনশে আল্লাহ নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব।

মকসুদ মিয়ার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানিয়ে বলেন, তিনি পৌসভায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। প্রতিপক্ষের কাছে তা অসহ্য। আবারো নির্বাচিত হলে তিনি মহেশখালী জেটি ঘাটের সম্প্রসারণ ও সংস্কার করবেন। মহেশখালী-চৌফলদন্ডী ফেরি চালু করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেবেন বলে আশার কথা জানান মকসুদ মিয়া।

মহেশখালী পৌরসভায় বিএনপির দুরাবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর ছিদ্দিক মনোনীত প্রার্থী ‘দুবর্ল নয়’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রার্থী নয়, ধানের শীষ প্রতীক দেখেই ভোট দেবেন সাধারণ মানুষ।’

——-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...