Home » কক্সবাজার » কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ফের রোগিদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেয়া হবে

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ফের রোগিদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেয়া হবে

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

বিশেষ প্রতিবেদক ::

রোগীর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার শপথে রাষ্ট্রীয় অর্থে চিকিৎসা বিদ্যা পড়েছেন। কিন্তু কথায় কথায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে অনেককে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছেন। হাসপাতালকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ছিনিমিনি খেলছেন আপনারা। এটা আর করতে দেয়া হবে না। ভবিষ্যতে এরকম অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ করলে আপনাদের কক্সবাজার থেকে বিতাড়িত করা হবে। আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। তাই স্পষ্ট করে বলে রাখছি, গাদ্দারি না করে, মানবিক চিকিৎসক হউন। এর ব্যতয় ঘটলে পরিণতি খারাপই হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বক্তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র ব্যানারে সমন্বয়ক কলিম উল্লাহর পরিচালনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টার্নসহ চিকিৎসকরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছে। কথায় কথায়, যখন-তখন তারা চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে হাসপাতালকে অচল করে দিচ্ছে। রোগীর স্বজন কর্তৃক হামলার দোহাই দিয়ে বার বার মানবতা বিরোধী অপরাধ করছে তারা। কিন্তু প্রতিটি ঘটনায় দেখা যায়, রোগীর স্বজনদের চেয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অপরাধ বেশি। ভুল চিকিৎসা, দায়িত্বে অবহেলা, রোগী-স্বজনদের সঙ্গে অসদাচারণের কারণে মূলত এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। আর ইন্টার্নদের এসব অপরাধ না থামিয়ে নিয়মিত চিকিৎসক ও বিএমএ’র নেতারা ইন্টার্নদের পক্ষ নিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের ঘাম ঝরানো টাকা দিয়ে চিকিৎসক হয়েছেন আপনারা। কিন্তু পেশায় ঢুকে আপনারা জনগণের কথা ভুলে যান। মনে রাখা উচিত আপনারা জনগণের সেবক। তাদের সঙ্গে সভ্য ও মানবিক আচরণ করে সেবা দিন। সংকটকালীন মুহূর্তে কোনো রোগীর স্বজনের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকে না। অথচ সেই সময় আপনারা (চিকিৎসকেরা) মন্দ আচরণ করেন। তখন অপ্রীতিকর ঘটনার উদয় হয়।
ইন্টার্নদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে ঢুকে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে পেশাদার মাস্তানের মতো আচরণ করেন ইন্টার্নরা। অনেকে রাত-বিরাতে ইয়াবা সেবন করে হাসপাতালে এসে অস্থির হয়ে থাকেন। তাই কথার একটু এদিক-সেদিক হলেই উত্তেজিত হয়ে রোগী-স্বজনদের হেনস্থা ও অসদাচরণ করেন। এসব ঘটনা নিয়ে রোগীর স্বজনরা প্রতিবাদ করলেই ইন্টার্নদের পক্ষ নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসকেরাও সেবা বন্ধ করে দেন। হাসপাতালের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাস্তানির লাগাম টানতে হবে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে রাজনীতি করা বিএমএ’র দু’য়েকজন নেতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের অনেকেই প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবসা করেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিএমএ’র কতিপয় নেতাও। সবাই মিলে সিন্ডিকেট করে প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবসা বাড়াতে পরিকল্পিতাবে সদর হাসপাতালের অচলাবস্থা সৃষ্টি করেন।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বক্তারা আরও বলেন, জেলার ২৫ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা সদর হাসপাতাল। এর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। হাসপাতালটি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে ব্যাহত করে জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে চিকিৎসকেরা।
সমাবেশে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ফরিদুল আলম, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, কক্সবাজার সিটি কলেজের ট্যুরিজম বিভাগের প্রধান ,দৈনিক সমুদ্র কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্মিলিত কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ, জাপা নেতা রুহুল আমিন সিকদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও দৈনিক আজকের কক্সবাজার পত্রিকার পরিচালনা সম্পাদক হাসান মেহেদী রহমান, পৌর কাউন্সিলর শাহেনা আকতার পাখি, মহেশখালী পানচাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম বাঙ্গালী,কমরেড সমীর পাল,অনিল দত্ত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কল্লোল দে, সাংবাদিক মহসিন শেখ,দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক, সম্মিলিত কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মো:রাশেদ,আমরা কক্সবাজারবাসির সমন্বয়ক সাংবাদিক এইচ.এম নজরুল ইসলামও নারী নেত্রী ছালেহা আকতার আঁখি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসা এক রোগীকে ইনজেকশন দেয়ার পর পরই মৃত্যুও কোলে ঢলে পড়া নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে প্রায় ৪ দিন চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখে চিকিৎসক ও নার্সরা। এসময় চিকিৎসা না পেয়ে প্রায় ৮ জন মারা যায়। হাসপাতাল থেকে ফিরে যান কয়েকশ রোগী। এটি সমাধান হবার পরের দিন আবারও একই ঘটনা ঘটে। সেটা সমাধানের পরের দিন আবারও পূর্বের ঘটনা ঘটায় চিকিৎসকরা। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এইচএসসি’র ফল প্রকাশ, পাশের হার ৭৩.৯৩%

It's only fair to share...000নিউজ ডেস্ক ::  দেশের ৮ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসিতে পাশের হার ৭৩.৯৩%। এদের ...

error: Content is protected !!