Home » মহেশখালী » মহেশখালীতে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধে তৈরি হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র

মহেশখালীতে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবাধে তৈরি হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

mail.google.comআবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী -১১ মার্চ :::

আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের উপকুলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ের গহীন অরণ্যে সম্প্রতি বিভিন্ন অস্ত্র তৈরীর কারখানায় অবাধে তৈরী হচ্ছে দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও গোলাবারুদ। কোন মতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব দেশীয় অস্ত্র তৈরী ও নানা রকম গোলাবারুদ উৎপাদন। বরং কারিগররা স্থান পাল্টিয়ে নিত্য নতুন জায়গায় ফের কারখানা স্থাপন করে সেখানে অবাধে তৈরী হচ্ছে এসব মরনাস্ত্র। র্দীঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আতœগোপনে থাকা অস্ত্র তৈরীর কারিগররা দেশের বিভিন্ন স্থানে আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে জামায়াত শিবিরসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন ও সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর কাছে এসব দেশীয় তৈরী অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দাম বেশী পাওয়ায় ফলে রাত-দিন পরিশ্রম করে তারা বিভিন্ন রকমের দেশীয় অস্ত্র তৈরী করে যাচ্ছে। এলাকার কিছু মুখোশধারী জনপ্রতিনিধি মহল তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশংখলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে গুটিকয়েক চুনিপুটি কিছু অস্ত্র কারিগরকে গ্রেফতার করতে পারলেও তাদের আর্থিক ভাবে সহায়তা ও আশ্রয় প্রশয়দানকারী মুখোশধারী গড়ফাদার ও অস্ত্র তৈরীর মুল কারিগররা রয়েছে বরাবরের মতই এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

জানা যায়, উপজেলার বড় মহেশখালীর বড় ডেইল,কালারমারছড়ার ফকিরজুম পাড়া পাহাড়ে,শাপলাপুরের সোলতানÑকালাইয়া নামে খ্যাত পাহাড়ী জুম এলাকায় এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়। সকাল থেকে একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে তারা পাহাড়ের গভীরে তাদের আস্তানায় এসব অস্ত্র তৈরীর কাজ করে। তারা দিনের বেলায় অস্ত্র তৈরী করাকে বেশী নিরাপদ মনে করে। কারণ এলাকার বিভিন্ন জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে তাদের একাধিক সোর্স থাকায় র‌্যাব,পুলিশ আসার আগাম খবর তারা মোবাইলের মাধ্যমে সোর্সের কাছ থেকে পেয়ে সতর্ক অথবা পালিয়ে যায়। ফলে রাত্রে ঝুঁকি নিয়ে তারা অস্ত্র তৈরীর কাজ করে না বলে জানান সুদক্ষ অস্ত্র তৈরীর কারিগর খুইল্লা। গহীন পাহাড়ে খোদাই করে দুই দিকে রাস্তা রেখে মনোরম পরিবেশে তারা ওয়ার্কসপের মত করে এ অস্ত্র তৈরীর কারখানাগুলো স্থাপন করে সে খানে এসব দেশীয় অস্ত্র তৈরী করে থাকে। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার লোহার পাট,স্টীলের নল, ড্রিল মেশিন, গ্যাসের চুলা, কয়লা, লেইদ মেশিনসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরীর যন্ত্রপাতি। এখানে একটি অস্ত্র তৈরী করতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হলেও সেটি স্থানীয়ভাবে ৪/৫ হাজার টাকায় এবং জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭/৮ হাজার টাকায় এসব দেশীয় তৈরী অস্ত্র বিক্রি হয়। তাদের রয়েছে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। ওই নেটওয়ার্ক সাগর পথে চট্রগ্রাম ও ঢাকায় লবণ ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের কার্গো ট্রলার, ফিশিং ট্রলার,লবণ বোঝাই ট্রাক ও লাকড়ীর গাড়ীর মাধ্যমে তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এসব অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রি করে।অপরদিকে তাদের রয়েছে কিছু স্বামী পরিত্যক্ষ ও বিপথগামী মহিলা সদস্য। বিশেষ করে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র পৌছে দেয়াসহ বেচাবিক্রির ব্যাপারে তারা মহিলাদেরকে বিশেষ ভাবে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কারণ মহিলাদেরকে সহজেই কেউ সন্দেহ করেনা। ফলে এসব মহিলারা বোরকা পড়ে মুখে নেকাব বেধেঁ তাদের ভ্যানটিব্যগসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এসব অস্ত্র লুকায়িত করে সহজেই স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশংখলাবাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়। আর এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানাগুলোতে নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে হোয়ানক,নতুনবাজার,কালারমারছড়া উত্তর নলবিলা এলাকার দাগী সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার ফেরারী আসামীদের।

এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল চন্দ্র বনিক বলেন, বাংলাদেশের মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মহেশখালী দ্বীপ পাহাড়ী জনপদ হওয়ার কারণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানার সন্ধান না জানলেও ওসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কিন্তু সব কিছুই জানেন কোথায় কোন স্থানে কোন পাহাড়ে এসব অস্ত্র তৈরী হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন যদি দেশের বৃহৎ স্বার্থে আইনর্শংখলা বাহিনীকে এসব অস্ত্র তৈরীর কারখানার তথ্য দেয় তাহলে এক মাােসর মধ্যে মহেশখালীর সব অস্ত্র তৈরীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে এসব দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার,কারখানাগুলি ধ্বংস ও অস্ত্র তৈরীর কারিগরদের আটক করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। তার পরেও নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র কারিগর ও দাগী সন্ত্রাসীরা মাথাচড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশি টহল ও অভিযান জোরদার রয়েছে। অস্ত্রের ফাইল ছবি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...