Home » পার্বত্য জেলা » লামায় পিএসসি পরীক্ষার গোপন কোড নম্বর ফাঁস! নির্দিষ্ট সময়ে আগে ফলাফল অভিভাবকের হাতে

লামায় পিএসসি পরীক্ষার গোপন কোড নম্বর ফাঁস! নির্দিষ্ট সময়ে আগে ফলাফল অভিভাবকের হাতে

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি ::

বান্দরবানের লামায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ২১০৮ এর পরীক্ষার খাতা কাটায় পক্ষপাতিত্ব, খাতার গোপন কোড নম্বর ফাঁস ও নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরীক্ষার ফলাফল অভিভাবকদের হাতে চলে আসার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ইং স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.১০৭.৩৩.০১৭.১৫.২০৩৯ (৬৪) মূলে প্রেরণকৃত পত্র মতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ইং সারা দেশে একযোগে সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগেই লামা উপজেলার বেশকিছু স্কুলের ফলাফল ইতিমধ্যে শিক্ষক ও অভিভাবদের হাতে চলে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতনমহল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) মো. রাজা মিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমি বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

সূত্র জানায়, এবছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ২০১৮ এর পরীক্ষার খাতা স্ব-স্ব উপজেলায় মূল্যায়ন করা হয়। এক্ষত্রে উপজেলা শিক্ষা অফিস প্রত্যেকটি খাতায় একটি গোপন কোড নাম্বার ব্যবহার করে খাতা কাটার দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। একটি সচেতনমহল দাবী করছেন, লামা শিক্ষা অফিস থেকে যে কোন ভাবে খাতার গোপন কোড নাম্বার ফাঁস হয়ে গেছে। যার কারণে কোন খাতা কোন স্কুলের বা কোন শিক্ষার্থীর সেটা জেনে যায় শিক্ষকরা। তারপরে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে চলে খাতা কাটা।

গোপন একটি সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলার সুনামধন্য ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাতা কাটার বিষয়ে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে সমঝোতা হয়েছে। উক্ত সমঝোতা বৈঠকটি লামা পৌরসভার মধুঝিরিস্থ এক শিক্ষকের বাসায় হয়। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভাল ফলাফল করতে এই জালিয়াতির পথ বেঁছে নিয়েছেন শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশ না করা সত্ত্বে একজন বলেন, এক প্রধান শিক্ষকের সন্তান এবার পিএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। উক্ত শিক্ষক পরীক্ষার কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন না করলেও খাতা কাটার দায়িত্বে ছিলেন। ইংরেজী বিষয়ে তার সন্তান ৯৪ নম্বর পেলেও সে পুণরায় খাতাটি নিয়ে মূল্যায়নকারী শিক্ষককে দিয়ে ৯৬ নাম্বার করিয়ে নিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে উক্ত শিক্ষক কিভাবে জানলেন এই খাতাটি তার সন্তানের ? কম্পিউটার এন্ট্রিকরণ সিটে এখনও কাটাকাটির চিহ্ন রয়েছে।

আরো উদ্বেগের বিষয় হল লামা উপজেলায় এবছর পিএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে ভাল ফলাফল কে করবেন তাও জেনে গেছেন সেই অভিভাবকরা ! মন্ত্রণালয়ে ফলাফল প্রেরণের জন্য কম্পিউটার এন্ট্রি করার সময় অফিসের এক ডাটা এন্ট্রিকারীর সাথে এক শিক্ষকের সাথেও ফলাফল সিট দেখা না দেখা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এইসব অনিয়মের বিষয়ে সাধারণ অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

খাতা কাটায় পক্ষপাতিত্ব, খাতার গোপন কোড নম্বর ফাঁস ও নির্দিষ্ট সময়ের আগে পরীক্ষার ফলাফল অভিভাবকদের হাতে চলে আসার বিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, অনেকের মুখে শুনেছি। কিন্তু হাতেনাতে কেউ কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। নির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ থাকলে দেন, এখনই ব্যবস্থা নিব। খাতায় গোপন নাম্বার দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জেলায় সরকারের ৬ কোটি টাকা জলে

It's only fair to share...000মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার ::  কক্সবাজার জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ সহ প্রজেক্টর ...

error: Content is protected !!