Home » কক্সবাজার » পিতার কাঁধে পুত্র জিসানের লাশ

পিতার কাঁধে পুত্র জিসানের লাশ

It's only fair to share...Share on Facebook465Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

শাহীন মাহমুদ রাসেল ::

দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টোর ছেলে কক্সবাজার সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র জিসানের জানাযা মিঠাছড়ি ফকিরামুরা মাদ্রাসার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

মোগল সম্রাট শাহজাহানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুনিয়ায় সবচেয়ে ভারী বস্তু কি? তার উত্তর ছিল- পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কত ভারী- প্রশ্নটা ফের একমাত্র পুত্রহারা চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টোর দিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করেছি। জীবনের পড়ন্ত বেলায় সন্তানের লাশ কাঁধে হয়তো তিনিই বুঝেছেন তার ভার কতটা?

কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে যাওয়া চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টোর চোখ নিজের অজান্তেই অশ্রুসজল হয়ে গেছে। জানাযার সময় ঘনিয়ে আসায় চোখ মুছে উঠে দাঁড়ান ইউনুস ভুট্টো। নির্বাক চোখে হেঁটে চলেছেন ছেলের মরদেহ বহনকারী কফিনের সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে ছেলের কফিনের সঙ্গে বাবা ইউনুস ভুট্টো এই হেঁটে আসা দেখে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।

গত সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে
বন্ধুকে পেছনে নিয়ে মোটর সাইকেলে চালাচ্ছিলেন জিসান। এসময় বাংলাবাজার ব্রীজের আগে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের মোটরসাইকেলটি পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয় তারা দুজন। তাদেরকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে বিকাল ৫টার দেক প্রাণ হারান জিসান। তার বন্ধু বর্তমানে চট্রগ্রাম চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ সময় বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা জিসানকে এক নজর দেখার জন্য বাড়িতে উপস্থিত হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের নামাজের পর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সহস্রাধিক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। তবে অনেকে জিসানকে শেষ বারের মতো দেখতে ভীড় জমায়, ফকিরামুরা পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় কক্সবাজার সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি এবং ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান উপস্থিত ছিলেন।

জানাযায় অংশ নিয়ে স্বজনেরা বলেন, যে সন্তানকে পরম মমতায় কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন পিতা, প্রবল আদর যত্ন করে লালন-পালন করেছেন, সেই সন্তানের মরা মুখ যখন একজন পিতাকে দেখতে হয়, সেটা কতটা বেদনার হতে পারে, তা আপনি-আমি আন্দাজও করতে পারবো না। জানি উনার পরিবারের এ ক্ষতি পূরণ হবার নয়। তবুও আমরা সকলে তাঁর আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসি করেন এবং উনার পরিবারকে এই শোকে ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দেন আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্টগ্রামের উন্নয়নে কোন গাফেলতি নয় : গণপূর্ত মন্ত্রী

It's only fair to share...46500চট্টগ্রাম ব্যুরো :: চট্টগ্রামকে প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে গৃহায়ন ও ...

error: Content is protected !!