Home » পার্বত্য জেলা » লামায় ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

লামায় ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

বান্দরবানের লামায় দুই ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সরেজমিনে পরিদর্শন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রথম আলো ::

বান্দরবানের লামায় দুই ত্রিপুরা কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। দুই কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকটি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি লামায় যান।

দুই কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় কয়েকটি নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি লামায় যান। আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে করা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। আর সেখানেই এই দাবি উঠে আসে।

গত ২২ আগস্ট রাতে লামার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রাংগতিপাড়ায় একটি সেগুনবাগানে দুই ত্রিপুরা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই দিন রাতেই ধর্ষণের শিকার দুজনের একজন লামা থানায় একটি মামলা করে।

ধর্ষণের ঘটনা জানার পর আট সংগঠনের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি লামায় যান। সংগঠনগুলো হলো: মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, জনউদ্যোগ, কাপেং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পরিদর্শন দলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ‘লামা থানার ওসির ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে জনেরুং ত্রিপুরা নামের ঘটনার সহযোগী একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মামলার মূল আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আইনের ব্যত্যয় বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।’

অবশ্য লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা আজ প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, ‘চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিজিবির দুই সদস্য আছেন। নিয়ম মেনেই আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেও পরিদর্শনকারীদের ধর্ষণের শিকার ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য এলাকায় যেতে দেওয়া হয়নি। লিখিত বক্তব্য বলা হয়, ‘আমাদের টিম ভিকটিম (ধর্ষণের শিকার ) ও তাদের পরিবার এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নেয়। সেই সময় লামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফোনে লামার সেই মুহূর্তের একটি সংকটের কথা উল্লেখ করে ভিকটিমের এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি তাঁর দপ্তরে চায়ের আমন্ত্রণ দেন। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। পরিবেশ শান্ত হলে আবার লামায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। সার্বিক পরিস্থিতি ও ইউএনওর পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন থেকে বিরত থাকে।’

জানতে চাইলে লামার ইউএনও নূরে জান্নাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওঁরা যেদিন এসেছিলেন, তার আগে ওই এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমার কাছে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল যে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত নয়। তাই তাঁদের অনুরোধ করেছিলাম। তবে নিষেধ করিনি যেতে।’

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পড়েন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ধর্ষণই অপরাধ। তবে ধর্ষণকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলে বিপদ বেশি। কারণ, তাঁরা মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত।’

জনউদ্যোগের আহ্বায়ক মুশতাক হোসেন বলেন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই আরও অপরাধ সংঘটিত হয়।

আজ আরও বক্তব্য দেন নাট্যজন আফরোজা বানু, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ায় দুদিন ব্যাপী উগ্রবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মশালা

It's only fair to share...32100চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :: স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইপসার সহযোগীতায় শেড ...