Home » কক্সবাজার » রামুর মেয়ে রোমেনার আকাশ ছোঁয়ার গল্প

রামুর মেয়ে রোমেনার আকাশ ছোঁয়ার গল্প

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

॥ সোয়েব সাঈদ ॥

কক্সবাজারের রামু উপজেলার অতিদূর্গম এলাকা ঈদগড় ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া গ্রামের মেয়ে রোমেনা হোছাইন। ১৯৯৫ সালে মাত্র ৪ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর সংসারে দেখা দেয় আর্থিক অনটন। পরবর্তীতে জীবন-যাপন যেমন কঠিন হয়ে পড়ে তেমনি উপক্রম হয়েছিলো লেখাপড়াও বন্ধের। নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর মায়ের উৎসাহে সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ছিনিয়ে এনেছে জীবনের স্বর্ণালী অধ্যায়। পড়াশোনায় একের পর এক সফলতার গন্ডি পেরিয়ে রোমেনা হোছাইন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে এফসিপিএস (ফাইনাল পার্ট) এবং এমডি (নেফ্রোলজি) অধ্যয়নরত আছেন।

রূপকথার মতই যেন রোমেনা হোছাইনের পথ চলা। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ডা. রোমেনা হোছাইন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে “জয়িতা ২০১৭” পুরস্কার পেয়েছেন। এরআগে তিনি কক্সবাজার জেলা এবং রামু উপজেলা পর্যায়েও শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে “জয়িতা-২০১৭” হিসেবে সম্মাননা পেয়েছিলেন। ডা. রোমেনা হোছাইন অর্জন বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ফাইনাল পার্ট) এবং এমডি (নেফ্রোলজি) অধ্যয়নরত রয়েছেন। যা একজন চিকিৎসকের জন্য অনেক বড় অর্জন। জানা গেছে, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ডা. রোমেনা হোছাইন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় সহকারী সার্জন হিসেবে চাকরিতে যোগদান করবেন।

ডা. রোমেনা হোছাইনের পিতার নাম মরহুম তোফাজ্জল হোসেন, মায়ের নাম রুকুম রাবিয়া। তিন ভাই বোন এর মধ্যে সে ছোট। সে রামুর ঈদগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে বৃত্তি সহ কৃতিত্বের সাথে ৫ম শ্রেণি পাশ করে সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে (স্কুল ফাস্ট), ২০০২সালে ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হয় ঈদগাহ জাহানারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেও ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত স্কুল ফাস্ট ছিলো। ২০০৫ সালে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হয় কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতনে এবং ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। পের চট্টগ্রাম কলেজে থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৬ তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ প্রাপ্ত হন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বারডেমে ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

ডা. রোমেনা হোছাইনের বড় ভাই রেজাউল করিম রাজু রামু ঈদগড় বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ছোট বোন রোমেনার জীবনে সবসময় সঙ্গী ছিলো বই আর বই, সাথে পড়া আর পড়া। পড়ালেখার প্রতি জেদটা ছিলো অনন্য। পড়ার সময় তার আশপাশে কেউ কথা বলতে পারতো না। এমনকি রান্নাঘরে ডেক্সি, বাসন-কোসনের শব্দ হয় এমন ভাবে নাড়া যেত না। সর্বোপরি তার মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করা যেত না।

রেজাউল করিম আরো জানান, ১৯৯৫ সালে রোমেনা হোছাইন প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবা মারা যান। পিতার মৃত্যুর পরিবারে আর্থিক দৈন্যতা দেখা দেয়। ওই সময় দাদা বাড়ির লোকজন বাবার প্রাপ্য সম্পদ তাদের না দেয়ায় তারা আরো বিপাকে পড়েন। ওই সময় পাশর্^বর্তী কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদের পশ্চিম গজালিয়ার এলাকার বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহায়তা ও প্রেরনা দিয়ে পড়ালেখায় উৎসাহী করেন। দাদার বাড়ির কারো সহায়তা না পেলেও ওই সময় নানা-নানী, মামা-খালারা তাদের পাশে যে কোন প্রয়োজনে সহায়তার হাতি বাড়িতে দিতেন। তাদের অবদানেই আজ তাঁর পরিবারের সবাই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।

রোমেনা হোছাইনের বড় বোন নিলুফা ইয়াছমিন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির ফরম নিয়েও ভর্তি হননি। ওই সময় তিনি ভেবেছিলেন, নানার পরিবার তাঁর পরিবারকে অনেক কিছুই দিয়েছেন। তাই এবার নিজেকেও কিছু করতে হবে। এ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনিও যোগ দেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায়। তবে চাকরি করেও পড়ালেখা চালিয়ে যান নিলুফা ইয়াছমিন। তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেছেন। চাকরির অর্থ দিয়ে তিনি ছোট বোন রোমেনার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন।

বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারি সার্জন ডা. রোমেনা হোছাইন জানিয়েছেন, নিজের ইচ্ছে শক্তি আর পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রেরনায় তাঁর এ সফলতা। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ কিডনী স্পেশালিষ্ট হয়ে জনকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রামু উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন ইসলাম জানিয়েছেন, চেষ্টা করলে প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরাও শিক্ষা অর্জন করে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসতে পারে। রামুর মেয়ে ডা. রোমেনা হোছাইন এর অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীদের “জয়িতা” চিহ্নিত করে স্বীকৃতি প্রদান করছে। এরই আওতায় ২০১৭ সালে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” কার্যক্রমে ডা. রোমেনা হোছাইন রামু উপজেলা, কক্সবাজার জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী নারী হিসেবে “জয়িতা ২০১৭” পুরস্কার পেয়েছেন।

রামুর ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো জানিয়েছেন, ডা. রোমেনা হোছাইন এ ইউনিয়নের একমাত্র নারী, যিনি শিক্ষা এবং চাকুরী ক্ষেত্রে এ ধরনের বিরল সফলতা অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে এলাকাবাসী যেমন আনন্দিত তেমনি ইউনিয়নের সব নারীরা এ সফলতাকে অনুকরণীয় মনে করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরনা পাবে।

ডা. রোমেনা হোছাইনের মা সফল জননী রুকুম রাবিয়া জানান, কেবল মেয়ে রোমেনা নয়, তার তিন ছেলে-মেয়েই বর্তমানে সরকারি চাকুরীরত আছে। এরমধ্যে বড় মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, একমাত্র ছেলে রেজাউল করিম রামু উপজেলার ঈদগড় বড়বিল কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আরো জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর এক ভাই সহায় সম্পত্তি জবর-দখল করে নেয়। যথাসময়ে সে সম্পদ পেলে তাদের আর্থিক সংকটে পড়তে হতো না। এরপরও মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীর কথা স্বরণ করে তিনি সন্তানদের লেখাপড়া চালানোর প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যান। যার সুফল এখন পুরো পরিবার পেয়েছে।

॥ নারীর সফল পথচলায় প্রেরনার উৎস জয়িতা অন্বেষণ ॥

ডা. রোমেনা হোছাইনের মতই সমাজে তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল নারীদের “জয়িতা” চিহ্নিত করে স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে। “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” কার্যক্রমের আওতায় রামু উপজেলার ৫টি ক্যাটাগরিতে জয়িতা নির্বাচনের জন্য সকল ইউনিয়ন পরিষদে মূল্যায়ন ছক ও নির্দেশিকা পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে ৫ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এরা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী প্রতিতা বড়–য়া, শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী ডা. রোমেনা হোছাইন, সফল জননী নারী রুকুম রাবিয়া, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করে সফল নারী যুতি ধর এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য নিরদা বড়–য়া।

এছাড়া ২০১৬ সালে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” কার্যক্রমের আওতায় রামু উপজেলার ৫টি ক্যাটাগরিতে জয়িতা নির্বাচন করা হয়, এরা হলেন, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী হাছিনা আকতার, শিক্ষা ও চাকুরীক্ষেত্রে সাফল্য অজর্নকারী টুম্পা রানী শীল, সফল জননী নারী মালঞ্চ বড়–য়া, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যেমে জীবন শুরু করে সফল নারী ফাতেমা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লায়লা বেগম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...