Home » কক্সবাজার » চকরিয়ায় আ লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, বিক্ষোভ

চকরিয়ায় আ লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, বিক্ষোভ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া::    চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমকে (৩৪) দিনদুপুরে গুলি করে হত্যার চেষ্ঠার ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার বিকেল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে ইউনিয়নের শহরআলী স্টেশনের দক্ষিনে সাইক্লোন সেন্টারে পাশে ঘটেছে এ ঘটনা। ওইসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত আবু হানিফ প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত আবু হানিফ কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল আলীমের ছেলে।

কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া গ্রামে তাঁর পৈত্রিক বেশ কিছু জায়গা-জমি রয়েছে। কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত আবু হানিফ দুর্লোভের বশবর্তী হয়ে সহযোগি ভাড়াটে সন্ত্রাসী জড়ো করে ওই জায়গা জবরদখলের চেষ্ঠা চালিয়ে আসছে। এ ঘটনায় আমি বাঁধা দিলে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে অভিযুক্ত আবু হানিফ। এরই জেরে সর্বশেষ রোববার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত আবু হানিফ শহরআলী স্টেশনের দক্ষিনে সাইক্লোন সেন্টারে পাশে আমার পথরোধ করে বুকে বন্দুক থাক করে গুলি করে হত্যার চেষ্ঠা করেন। ওইসময় আশপাশের লোকজন ঘটনাটি দেখে এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত সন্ত্রাসী আবু হানিফ প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

আওয়ামীলীগ নেতা শামসুল আলম জানান, ঘটনার পরপর তিনি মোবাইলে বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলমকে অবহিত করেন। এরপর তিনি ঘটনাটি মাতামুহুরী পুলিশের আইসি নাজমুল হককে জানান। তাৎক্ষনিক আইসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। পরে তিনি ঘটনার বিস্তারিত চকরিয়া থানার ওসিকে অবগত করেন। শামসুল আলম জানান, এ ঘটনায় তিনি মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন।

এদিকে কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলমকে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যার চেষ্ঠায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী আবু হানিফকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে গতকাল ২৮ আগস্ট বিকালে কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এবং সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হোছাইন মেম্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার জসিম উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আলী আকবর, মেম্বার আহমদ হোসেন, সাবেক মেম্বার আব্বাস উদ্দিন, কোনাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ১নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কালাম, সম্পাদক আজগর আলী, ২নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি জাহাংগীর মেম্বার, সম্পাদক জামাল হোছাইন, ৩নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল আবছার, সাধারণ সম্পাদক কালাম বকসু, ৪নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোক্তার, ৫নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, ৬নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নুরুল হুদা, ৭নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আবদুল হামিদ, সম্পাদক মোহাম্মদ লায়েক, ৮নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইসহাক কুতুবী, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক আকতার উদ্দিন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেম্বার মনির উদ্দিন, যুবলীগ নেতা ইকবাল বাহার, মো.ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদ, ছাত্রনেতা তারেক, মোশারফ প্রমুখ। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...23500অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...