Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদূত আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী কাল

কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদূত আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী কাল

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নীতিশ বড়ুয়া, রামু :: 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমলের পিতা, কক্সবাজারের শ্রেষ্ট সমাজ সেবক, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রদুত,

বিশ্বনন্দিত পর্যটন নগরী বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমান্ত জনপদের সমুদ্র সন্তান, বিশিষ্ট আওয়ামীগ নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, অসংখ্য শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বর্ণাঢ্য রাজনীতিক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ ২৭ আগষ্ট।

বরণ্যে এ রাজনীতিকের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজারের রামুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-অঙ্গসংগঠন, ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে- মরহুমের সুযোগ্য পুত্র আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র বাস ভবন “ওসমান ভবন” এ সকাল ৯ টায় খতমে কোরআন ও মিলাদ, ১০ টায় শোক র‌্যালী ও মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র কবর জিয়ারত এবং প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, বিকাল ৪ টায় রামু চৌমুহনী ষ্টেশনে স্মরণসভা।

চৌমুহনী চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য স্মরণসভায় আলোচক হিসেবে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ঘনিষ্ট সহচরদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফা প্রধান অতিথি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর সভার নবনির্বাচিত মেয়র মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সভায় মরহুম আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী’র সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, রামু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমসহ মরহুম আলহাজ্ব অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ঘনিষ্টজনেররা স্মৃতিচারন করবেন। এতে সভাপতিত্ব করবেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী।

কর্মময় জীবন-জন্ম :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এর পিতা, বিশ^নন্দিত পর্যটন নগরী বাংলাদেশের দক্ষিণ সীমান্ত জনপদের সমুদ্র সন্তান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সংসদ সদস্য, কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ সমাজসেবক, বর্ণাঢ্য রাজনীতিক মরহুম আলহাজ¦ অধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ অক্টোবর রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মন্ডল পাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মালেকুজ্জামান সিকদার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বোর্ডের আজীবন প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

শিক্ষা :

ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৫৫ সালে রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আইএ, ১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে এমএ পাশ করেন।

রাজনৈতিক জীবন :

কক্সবাজার জেলার সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ১৯৬১-১৯৬২ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের এজিএস ও ১৯৬২-১৯৬৩ সালে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে লাহোরে ছাত্র নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ওই সময় এলাকার কতিপয় চিহ্নিত পাক-হানাদার, রাজাকার, আলবদর বাহিনী তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধ ও পুনর্বাসন প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০-১৯৭৩ সালে রামু-উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা হতে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় বাংলাদেশ বন মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৭ সাল হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত-এর দায়িত্ব পালন করেন।

সমাজকর্ম :

সফল রাজনীতিক আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ছিলেন। নারী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, সমাজসেবা আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস আর দরিদ্র মানুষের দুর্দিনে নিজেকে উৎসর্গ করতেন ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য ভূমিকা। বর্ণিল কর্মময় জীবনের অধিকারী এ রাজনীতিককে তাই এখনো পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মানুষ। ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ-পুর্নবাসন কার্যক্রমে উলে¬খযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। রেডক্রস সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে মায়ানমারের শরণার্থীদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ :

* রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯৭৬ সাল)

* কক্সবাজার সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৮২ সাল)

* কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ (১৯৮৬ সাল)

* কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভাই মরহুম মনির আহমদ চৌধুরী সহ জমি দান (১৯৬৮ সাল)

* মৈষকুম ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় (২০০১ সাল)

* রামু কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ভবন নির্মাণ (১৯৯১-৯৬ সাল)

* রাস-আল-খাইমা উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৯৯৭ সাল) সহ

তিনি ১৭টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির নির্মাণে সহযোগিতা করেন। উলে¬খ্য তিনি ১৯৬২-৬৯ সাল পর্যন্ত রামু খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষকতা করেন।

সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী। তিনি ১৯৫৭-১৯৫৯ সালে ঢাকা কলেজ সাময়িকী ‘মসিরেখা’ সম্পাদনা করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৬৮-৬৯ সালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি, ১৯৬৯-১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম জেলা লবণ উৎপাদক সমিতির সভাপতি, কক্সবাজার মহকুমা রেফারী ও আম্পায়ার এসোসিয়েশনের প্রথম সভাপতি, জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি, লায়ন্স ক্লাব, রামু দুর্বার শিল্পীগোষ্ঠিসহ অনেকগুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ও উপদেষ্টা ছিলেন। বর্ণিল রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আলহাজ্ব ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...23500অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...