Home » উখিয়া » হৃদয়ে ক্ষত নিয়ে ঈদ করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

হৃদয়ে ক্ষত নিয়ে ঈদ করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

শরণার্থী রোহিঙ্গা নারী মাবিয়া খাতুন। 

নিউজ ডেস্ক ::
মাবিয়া খাতুন, বয়স আনুমানিক ৬০। খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস রূপ। চোখের সামনেই সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে তার দুই ছেলেকে। গলা কেটে হত্যা করা হয় তার দুই বোনের জামাইকে। ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। লুট করা হয় সহায় সম্বল।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শিবিরে কথা হয় এই নারীর সঙ্গে। কোরবানি ঈদের দিনটা কেমন কাটছে জানতে চাইলে সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা বলেই কাঁদতে থাকেন তিনি।

গত বছর এইদিনেও নাফনদী পেরিয়ে সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশে। তিনিও সেদিন নৌকায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। মাবিয়া খাতুন জানান, গত বছর কোরবানি দিনে প্রাণে বাচঁতে নাফনদী, পাহাড় ও জঙ্গলে দেখেছেন রোহিঙ্গাদের ঢল। সেই দিনটা এখনও চোখে ভাসে। কোরবানিতে কোনো আয়োজন করতে পারেনি বলে এই দিনটা এলে কষ্ট আরও বেড়ে যায় তার।

তিনি বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের হারিয়েছি, ভাঙা হৃদয়ে ক্ষত নিয়েই কোন মতো বেচেঁ আছি। এই পাড়ে (বাংলাদেশে) আসার পর গত এক বছরে এক টুকরো মাংসও খেতে পারিনি। যাদের কাছে টাকা-পয়সা আছে তারা মাংস খেতে পারছে, তারাই কোরবানি দিচ্ছে। মিয়ানমারে কখনো ফিরে যেতে চাই না, কারণ সেখানে সরকার ও সেনাবাহিনী মানুষ হত্যা করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে কোনো গরু দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তবে যারা স্বচ্ছল রয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েকজন মিলে গরু কিনে কোরবানি দিচ্ছে।

টেকনাফ জাদিমুড়া রোহিঙ্গা শিবিরের মো. ইসমাইলসহ ছয়জন মিলে ৬২ হাজার টাকা দামের গরু কোরবানি দিচ্ছেন। তিনি জানান, মিয়ানমারে গত বছর কোরবানিতে ৪২ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছিলেন। তবে গরুটি কোরবানি দিতে পারেননি। কারণ ওইদিনও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর হামলা চালায়। কষ্টের দিন কখনো ভুলতে পারি না। নিজ দেশে অনেক সুন্দর আয়োজন করে কোরবানি করতাম, সেইভাবে এখানে কোরবানি করতে পারছি না। কারণ সহায়-সম্বল লুট করে নিয়েছে সেনাবাহিনী। নিজ দেশে ফিরতে চাই, তবে রোহিঙ্গা হিসেবেই।

সকাল ১০টায় রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোহাম্মদ একরাম বলেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা কিছু দেয়নি। এই শিবিরে প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা ঈদের দিনে ডাল দিয়ে ভাত খাবেন। এই শিবিরের বাসিন্দা এক বছরে গরু মাংসের দেখা পায়নি।

সরকারিভাবে কোনো গরু কিনে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, রোহিঙ্গারা যাতে কোরবানির মাংস পায় সেই ব্যাপারে চেষ্টা করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সেভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার কক্সবাজারের ৩০টি শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় আড়াই হাজার গরু জবাই করা হয়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম জানান, ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আড়াই হাজার গরু কেনা হয়েছে। এই সংখ্যা কিছুটা বাড়তেও পারে।

সরকারি উদ্যোগে গরু কেনা হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও’র মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য যেসব গরু পেয়েছি, সেগুলো একত্রিত করে যেখানে, যতটা দরকার ততটা হিসাব করে দেওয়া হয়েছে। তবে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের সংখ্যার তুলনায় তা পরিমাণে খুবই কম।

পশুগুলো জবাইয়ের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ক্যাম্প ইনচার্জদের তত্ত্বাবধানে মাংস বণ্টন করা হবে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আ.লীগ বাদে জাতীয় ঐক্য হবে না: কাদের

It's only fair to share...000আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের  ...