Home » কক্সবাজার » কাল পবিত্র ঈদুল আযহা

কাল পবিত্র ঈদুল আযহা

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিউজ ডেস্ক ::

কাল ২২ আগষ্ট  বুধবার  পবিত্র ঈদুল আযহা। কক্সবাজারে প্রথম ও প্রধান  ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮ টায়। এতে ঈমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মৌলানা মাহামুদুল হক। কক্সবাজার পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ মাঠে অন্তত ১২ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করবে। আর ঈদের জামাতকে ঘিরে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।এদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ঈদুল আযহা পালনে সর্বাঙ্গিন প্রস্তুতি গ্রহন করেছে প্রশাসন। বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা, বিভিন্ন সড়কে রং বেরংয়ের ব্যানার ফেস্টুন টাঙ্গানো এবং হাসপাতাল ও কারাগারে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে কোরবানির পশু বর্জ্য সঠিক ভাবে সংরক্ষণ এবং নির্দিস্ট স্থানে ফেলতে সাথে নির্দিস্ট স্থানে পশু জবাই করতে ও সাধারণ মানুষ কে আহবান জানিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান পৌরবাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বুধবার সকাল ৮ টায় কক্সবাজার কেন্দ্রিয় ঈদগাহ ময়দানে জেলার প্রথম ও প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ঈমামতি করবেন কক্সবাজার কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের খতিব মৌলানা মাহামুদুল হক। তিনি জানান কক্সবাজার পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় এ মাঠে এবার ১২ হাজার মুসল্লি একসাথে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। আর বৃস্টি হলেও যেন কোন সমস্য না হয় সে জন্য তেরপল সহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদগাহ মাঠে পাশে অজুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় কোরবানীর পশুর বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিস্ট স্থানে রাখার জন্য তিনি আহবান জানিয়ে বলেন,কোরবানীর ঈদের দিন পৌরসভার ১২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী মাঠে থাকবে। এছাড়া ৪ টি বড় গাড়ী থাকবে সাথে জীবানু নাশক ঔষধ ছিটাবে। তাই নিজেদের শহরকে নিজেরা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। এদিকে ঈদ জামাতকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন, সদর থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন,ঈদুল আজহার নামাজের জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদের জামাতে মুসল্লিদের শুধু মাত্র জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সংগে না আনার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

এদিকে গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, কক্সবাজার পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল আফসার ও পৌরসভার সচিব রাসেল চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।

টেকপাড়া জামে মসজিদের খতিব মৌলানা মোজাম্মেল হক বলেন ঈদের নামাজ মাঠে আদায় করাই সবচেয়ে উত্তম। খুব বেশি বৈরি আবহাওয়া বা বৃস্টি না হলে ঈদগাহ মাঠেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে। তিনি বলেন ঈদুল আযহার প্রধান বৈশিস্ট্য হলো আত্মত্যাগ মহান আল্লাহকে সন্তুস্ট করতেই এক মাত্র কোরবানীর নিয়ত হতে হবে। এদিকে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এখন পশু কেনা বেচায় ব্যস্ত সবাই পাড়া মহল্লার, সবাই সাধ্য মত গরু কিনতে গরু বাজার গুলোতে ভীড় করছে। আলাপ কালে বাহারছড়া এলাকার শফিউল আলম বলেন গত বছরের চেয়ে এ বছর গরুর দাম বেশি, আগে যে গরু ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি সেই গরু এখন ৭৫ হাজার টাকার নীচে পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এখন গরু কিনা বেচায় ব্যস্ত সবাই। আমরা নিজেরাও গরু কেনা শেষ করেছি, আমাদের আশে পাশে অনেকেই গরু কেনা শেষ করেছে শুধু কিছু মানুষ গরু কেনেনি। তারাও সাধ্যমত কেনার জন্য অপেক্ষায় আছে।

পাহাড়তলী এলাকার শেখ সেলিম বলেন আমার মতে গরুর দাম অনেক বেশি,রোহিঙ্গাদের কারনে গরুর দামে প্রভাব পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবুও কোরবানীর জন্য গরু কিনা শেষ করেছি, এখন দা ছুরি সান দেওয়ার, সহ গরু কাটা বাছার জন্য কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করার অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেন আমাদের এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ততবেশি ভাল নয়। তাই কোরবানীর বর্জ্য দ্রুত অপসারন করা আমাদের জন্য দূরহ হয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে আমাদের সড়ক টি ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে তখন আমরা এলাকার সব মানুষ স্থানীয় কাউন্সিলারকে অনুরোধ করেছিলাম রাস্তার পাশে একটি ছোট নালার ব্যবস্থা রাখতে। তবে শেষ পর্যন্ত রাখে নি। এতে বৃস্টি হলেই পানি জমে যায় পানি নামতে অনেক সময় লাগে।

এদিকে কোরবানীর ঈদ উপলক্ষ্যে মসলার বাজারে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। পাহাড়তলীর মোহাম্মদ রফিক বলেন কোরবানীর মাংসের জন্য প্রধান উপকরণ মসলা, শুরুতে পেয়াজের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে থাকলেও এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রনে এসেছে, বর্তমানে পেয়াজের কেজি ৩৫ টাকা দরে কিনেছি। তবে মরিচ, আদা, রসুন সহ গরম মসলার বাজার বেশ চড়া বলে জানান তিনি। এদিকে বড় বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন কোরবানীর সময় মসলার চাহিদা বেশি থাকে সে জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম ভিত্তিক পাইকারী ব্যবসায়িরা মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়, সে জন্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায় আর আমাদের ও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

এদিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জেলাবাসীকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে ঈদুল আযহার শিক্ষা ত্যাগ এবং আল্লাহতালার আনুগত্য লাভের শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে কাজে লাগানোর আহবান জানান। এছাড়া  নিজেদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহবান জানিয়ে বলেন,রাস্তায় ঘরের সামনে বা চলাচলের পথে গরু জবাই না করে মাঠে বা নির্দিস্ট স্থারে পশু জবাই করে পশুর বর্জ্য সঠিব ভাবে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত অপসারন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু রবিবার

It's only fair to share...32300চকরিয়া নিউজ ডেস্ক ::   প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ...