Home » Uncategorized » মাতামুহুরী নদী-ছড়াখালে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকি

মাতামুহুরী নদী-ছড়াখালে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাজস্ব ফাঁকি

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::

কক্সবাজারের চকরিয়ায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে মাতামুহুরী নদী ও ছড়া (খাল) থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী চক্র। উপজেলার মাতামুহুরী নদী বিভিন্ন স্থানে এবং হারবাং ইউনিয়নের হারবাং ছড়ার পাঁচ স্থান থেকে গত কয়েকমাস ধরে শ্যালো মেশিনে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সেখানে। এমনকি এভাবে বালু উত্তোলন করায় মাতামুহুরী নদী ও ছড়ার দুই তীরে ব্যাপকভাবে ভাঙন দেখা দেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে জনবসতি।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার হওয়ায় তাদেরকে শারীরিকভাবে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। এতে স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন লোকজন জানান, সরকার দলের প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র গত কয়েকমাস ধরে মাতামুহুরী নদী ও হারবাং ছড়া থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে হারবাং ইউনিয়নের লালব্রিজ-বত্তাতলী সড়কের দক্ষিণাংশ ছড়ায় বিলীন হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি সড়কটির অনেক স্থান হারবাং ছড়ায় বিলীন হয়ে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সচেতন লোকজনের অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর ডজন খানেক ও হারবাং ছড়ায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাঁচ স্থান থেকে অবৈধভাবে তোলা বালু মহাসড়কের পাশে স্তুপ করে রাখে প্রভাবশালীরা। সেখান থেকে প্রতিদিন ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিক্রির জন্য। এতে প্রভাবশালীরা প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

মাতামুহুরী ব্রীজ এলাকার কামাল উদ্দিন জানান, মাতামুহুরী নদীর চকরিয়া অংশের ডজন খানেক স্থান  থেকে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব এবং স্থানীয় জনবসতি, গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এনিয়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করায় তাদেরকে শারীরিকভাবে মারধরও করেছে সিন্ডিকেট প্রভাবশালীরা । এদিকে উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও প্রকৃত অপরাধীরা থাকে ধরাছোয়ার বাইরে। আইনের আওতায় পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়ে চোনেপুঠিরা।

হারবাং লালব্রিজ এলাকার মোসলেম উদ্দিন জানান, ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব এবং স্থানীয় জনবসতি, গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এনিয়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করায় তাদেরকে শারীরিকভাবে মারধরও করেছে প্রভাবশালী জিয়াবুল ও ভেট্টা গং।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলা প্রশাসনের অগোচরে গত একমাস ধরে হারবাং ইউনিয়নের পাঁচটি স্থান থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িত জিয়াবুল করিম ও ভেট্টা গং।

এর মধ্যে হারবাং ইউনিয়নের হারবাং বাজারের কাছে মসলাপাড়া, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং লালব্রিজের একেবারে কাছের দুই স্থানসহ অন্তত পাঁচটি স্থান থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে তারা। এনিয়ে এলাকার মানুষ প্রথমদিকে প্রতিবাদ করায় তারা মারধরের শিকার হয়েছেন ইতোপূর্বে। এতে প্রভাবশালীদের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করারও সাহস হারিয়েছে এলাকার মানুষ।

রাজস্ব দিয়ে সরকারিভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া কয়েকজন ইজারাদার অভিযোগ করেছেন, সরকারি কোষাগারে লাখ টাকা রাজস্ব জমা দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে তাঁদের। কিন্তু অবৈধভাবে প্রভাবশালীরা শ্যালো মেশিন বসিয়ে হারবাং ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের কারণে তাঁদের মাথায় হাত উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পর বিক্রি করে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মূলত তারা এলাকায় প্রভাবশালী এবং সরকার দল সমর্থিত লোকজন। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত বলেন, ‘হারবাং ছড়া থেকে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে যারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কক্সবাজার শহরে ২০ স্পটে যানজট বিরোধী অভিযান

It's only fair to share...000ইমাম খাইর, কক্সবাজার : কক্সবাজার শহরকে যানজট মুক্ত করতে অন্তত ২০টি স্পটে ...