Home » পার্বত্য জেলা » লামার সরই-লোহাগাড়া সড়কে সক্রিয় চাঁদাবাজ গ্রুপ

লামার সরই-লোহাগাড়া সড়কে সক্রিয় চাঁদাবাজ গ্রুপ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ::  বান্দরবানের লামার সরই-লোহাগাড়া সড়কে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রুপকে টাকা না দিলে বাঁশ, লাকড়ি ও কাঠ নেয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বাঁশ-লাকড়ি-কাঠ বোঝাই প্রতি গাড়িতে (ট্রাক) ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয় বলে জানা গেছে। অন্যথায় বাঁশ-গাছ গুলো নামিয়ে রাখা হয়। চাঁদাবাজ গ্রুপটি অত্যান্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানা-কোর্টে কেউ অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছেনা বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।

সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, লামার সরই এলাকা হতে সরই-লোহাগাড়া সড়ক দিয়ে ট্রাকে করে বাঁশ, কাঠ নিয়ে যেতে হলে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা এলাকার লাকড়ি পাড়া বাজারে চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদা তোলার কাজে নিয়োজিতরা হল, সরই ইউনিয়নের হাসনাপাড়া গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে জামাল উদ্দিন প্রকাশ দাঁড়ি জামাল (৪৫), সরই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আমির হামজা পাড়ার মৃত আমির হামজার ছেলে নুরুল কবির (৪০), লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের লাকড়ি পাড়ার বাসিন্দা ইসলাম কোম্পানী (৫০) ও সরই ইউনিয়নের হাসনাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে জয়নাল আবেদীন ভেট্টু (৪২)। ইসলাম কোম্পানী সরই ইউনিয়নের ৪,৫ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শিরু আক্তারের স্বামী।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ জুন ২০১৮ইং) সরই আমতলী এলাকার জনৈক বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ট্রাকে করে বাঁশ নিয়ে গেলে এই সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ গ্রুপটিকে চাঁদা না দেয়ায় বাঁশ গুলো নামিয়ে রাখা হয়। এখনো বাশঁ গুলো পুটিবিলা ইউনিয়নের লাকড়ি পাড়ার বাসিন্দা ইসলাম কোম্পানী বাড়ির পাশে রয়েছে। পরিচয় গোপন রাখা শর্তে বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের এক বাঁশ ব্যবসায়ী বলেন, কয়েকদিন আগে আমি এক ট্রাক বাঁশ নেয়ার সময় এই চাঁদাবাজরা আমার গাড়ি হতে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। তাদের চাঁদা না দিলে ব্যবসা করা অসম্ভব। এই চাঁদাবাজরা লোহাগাড়া উপজেলার আতঙ্ক আধুনগর এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেন চৌধুরীর ছেলে নওশাদ আলম চৌধুরীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইসলাম কোম্পানী এর মুঠোফোন (০১৮৭৬-২৫১৭৭৭) ও নুরুল কবির মুঠোফোন (০১৮৫১-২১৩১৭০) নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম বলেন, চাঁদাবজির বিষয়টি আমাকে কেউ বলেনি।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি এবং আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। তারপরেও আমি লোহাগাড়া অফিসার ইনচার্জ এর সাথে আলোচনা করে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে অনুরোধ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...