Home » পার্বত্য জেলা » আলীকদমে হাসপাতালের জমিসহ স্থাপনা বেদখলের অভিযোগ

আলীকদমে হাসপাতালের জমিসহ স্থাপনা বেদখলের অভিযোগ

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা-আলীকদম, বান্দরবান ::  বান্দরবানের আলীকদমে পুরাতন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ শতক জমিসহ স্থাপনা বেদখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ কয়েকদফা উদ্যোগ নিয়েও বেদখল জমি উদ্ধার করতে পারেনি।
প্রতিবছর স্বাস্থ্য বিভাগ বেদখল হওয়া ভূমির উন্নয়ন কর দিলেও ভোগদখলে রয়েছে একই হাসপাতালে কর্মরত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফ ও তার স্ত্রী। দখলদার এ দম্পতির খুঁটির জোর কোথায় সে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আলীকদম থানা ঘোষণার পর সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে ২৮৮ নং আলীকদম মৌজার ৭ নং সিটের দাগ নং- ৯৭৪, ৯৭৫, ৯৭৬ এর আন্দর ৬৪ শতক জমিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো নির্মিত হয়। সেই থেকে ৬৪ শতক জমি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪ একর জমি এবং পুরাতন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ০.৬৪ শতক জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করার রেকর্ড রয়েছে।
এদিকে, ১৯৯৪ সালে উপজেলার চৌমুহনীতে নির্মিত নতুন ভবনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থানান্তর হয়। এরপর থেকে পুরাতন হাসপাতাল ও টিনশেড কোয়ার্টারগুলি খালি পড়ে থাকে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা অফিস আদেশমতে এসব খালিঘরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। কয়েকবছর পূর্বে হাসপাতালের কিছু জায়গায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু দখলদারকে উচ্ছেদ না করেই পুরাতন হাসপাতালের জমির মাঝখানে ভবনটি নির্মিত হয়। এ ভবনের উত্তরে ১০ শতকের বেশি জমি অবৈধ দখলে থেকে যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তৎসময়ে পুরাতন হাসপাতালের উত্তরের টিনশেড ঘরটি ভাড়া নেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া জোহরা বেগম। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর থেকে স্বামী-স্ত্রী এ দুই কর্মচারী পুরাতন হাসপাতালের বরাদ্দ নেয়া কোয়ার্টার এবং জমি নিজেদের দখলে নিতে অপতৎপরতা শুরু করে। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খামখেয়ালীপনার কারণে একসময় এ দু’ কর্মচারীর অপতৎপরতা বাস্তবে রূপ নেয়। ইচ্ছেমত হাসপাতালের টিনশেড ঘরটির অবকাঠামোতে পরিবর্তন করা হয়। কোয়ার্টারসহ পার্শ্ববর্তী ০.১০ শতক জমি কথিত হেডম্যান রিপোর্ট নিয়ে দখল পাকাপোক্ত করেন এ কর্মচারী দম্পতি।
জানা যায়, ২০১০ সালে আয়া পদ থেকে জোহরা বেগম অব্যাহতি নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি কোয়ার্টারটি এখনো তার এবং স্বামী ইয়াছিন শরীফের দখলে আছে। পার্বত্য এলাকায় ভূমি ব্যক্তি পর্যায়ে বন্দোবস্তি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কথিত হেডম্যান রিপোর্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সরকারি কোয়ার্টার দখল করেছেন এ দুজন সরকারি কর্মচারী। এছাড়াও তারা পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে হেডম্যান রিপোর্ট পেয়েছেন, তা নিয়েও রয়েছে রহস্য।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েকদফা অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৩ সালে তৎকালীন ইউএনও আসাদুজ্জামান দখলদার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াছিন শরীফকে সরকারি হাসপাতালের এ জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সে সময় জেলা প্রশাসক এক আদেশে দখলদারকে উচ্ছেদ করার আদেশ দেন। কিন্তু ইউএনও আসাদুজ্জামান বদলি হওয়াতে সে উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
২৮৮ নং আলীকদম মৌজার হেডম্যান অংহ্লাচিং মার্মা চকরিয়া নিউজকে বলেন, মাঠ খসড়ায় পুরাতন হাসপাতালের দাগের কিছু জমি খাস আছে। সেখান থেকে ইয়াছিন শরীফ কিছু জমি বন্দোবস্তির জন্য রিপোর্ট নিয়েছেন। তবে তার দাগ নম্বর আমার মনে নেই। গত বুধবার দুপুরে দখলদার ইয়াছিন শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, আমার এ জায়গা খাস। হেডম্যানকে দাখিলা ফি দিয়ে আমি দখলে আছি। কিছু কুচক্রী মহল আমাকে উচ্ছেদে ষড়যন্ত্র করছে।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শহিদুর রহমান চকরিয়া নিউজকে বলেন, পুরাতন হাসপাতালের কিছু জায়গা বেদখল হওয়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...