Home » কক্সবাজার » ঈদে দেড় লাখ পর্যটক চাদাঁবাজির শিকার

ঈদে দেড় লাখ পর্যটক চাদাঁবাজির শিকার

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::

কক্সবাজার পৌরসভার টোল আদায়ের নামে ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকবাহি যানবাহনের মালিকদের কাছ থেকে গেল ৫ দিনে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ইজারা-দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা প্রায় দেড় লাখ পর্যটক রেহায় পায়নি ইজারাদারদের গণহারে চাঁদাবাজি থেকে । বিভিন্ন টোকেন , নামে বেনামে অপরিচিত শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতির নামে কক্সবাজার পৌরসভার কথিত টোল আদায়ের কারনে ক্ষতির শিকার হয়েছেন পর্যটকরা। ফলে আাগামিতে এর প্রতিকার করা না গেলে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে পর্যটক হ্রাস পাবার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখিন হবে। এ সব চাঁদাবাজ কিভাবে ইজারা পায় এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না এ ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দিয়েছে সর্বমহলে। পর্যটকবাহি যানবাহনের কাছ থেকে ইজারা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়কারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি উঠেছে।
বিভিন্ন যানবাহনের মালিক, চালক, পর্যটকদের সাথে আলাপকালে চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা নোহা গাড়ির চালক জহির উদ্দিন জানান, আমাদের গাড়ি থামিয়ে বাস টার্মিনাল এলাকায় কক্সবাজার পৌরসভার ইজারার টোকেন ধরিয়ে ৩০০ টাকা আদায় করেছে । অথচ কক্সবাজার পৌরসভার চুক্তি অনুযায়ি এর প্রকৃত টোল ২৫ টাকা। আমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গাড়ি ২০ মিনিট থামিয়ে রাখা হয়। শেষমেষ নিরুপায় হয়ে ৩০০ টাকা দিয়ে শহরে প্রবেশ করেছি। আমার পিছু পিছু আসা ১০/১২টি গাড়ি থেকে নাকি ৩০০/৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে তারা।
সিলেটের জালালাবাদ এলাকা থেকে ১৪ জন ছাত্র ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে একই ইজারাদার কর্তৃক চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। ৩০০ টাকা মাইক্রো বাসের জন্য আদায় করে সবুজ টোকেন ধরিয়ে দেয়। টোকেনে স্বাক্ষরের স্থানে শুধুমাত্র পৌর কর্তৃপক্ষ লেখা রয়েছে। তাদের অভিযোগ- যোগাযোগ কিংবা অভিযোগ জানানোর জন্য কোন মোবাইল নম্বর নেই টোকেনে।
শহরের কলাতলিতে এবং বাহারছড়ার গোলচক্কর মাঠে অবস্থান নেওয়া পর্যটকবাহি গাড়ির কয়েকজন চালক জানান, আমরা বাসটার্মিনাল এলাকায় প্রতিবছর কয়েকটি সংগঠনের কাছ থেকে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। বেশ কয়েক বছর যাবৎ চলছে এ নিরব চাঁদাবাজি। তারা ইজারার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। ঢাকা থেকে আসা সিডিএএম বাসের চালক নুরুন্নব্বী জানান, আমি পৌরটোল প্রদান করেছি ৩০০ টাকা। কিন্তু যার প্রকৃত পরিমান ৫০ টাকা। তার দেখা ৩টি তিশা বাস, ৪টি হায়েস , কয়েকটি কার থেকে ২০০/৩০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করেছে ইজারাদার কর্তৃক নিয়োজিতরা।
এদিকে কক্সবাজার পৌরসভা বাংলা বছরের শুরুতে ১৪২৫ বাংলা সনের জন্য জীপ, হায়েস, মাইক্রো, নোয়াহ গাড়ির জন্য টোল আদায়ের নিমিত্তে প্রায় ১০ লাখ টাকায় বাস টার্মিনাল এলাকার মেসার্স আল্লাহর দান মোটর্সের মালিক মোঃ ইমাম হোসেনকে ইজারাদার নিয়োগ প্রদান করে। এতে টোল নির্ধারন করা হয় জীপ ২০ টাকা, মাইক্রো, নোয়াহ এবং হায়েস ২৫ টাকা। আগামি চৈত্র মাস পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে তার ইজারা বাতিল হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ইজারাদার ইমাম হোসেনের নিয়োজিত টোল আদায়কারিরা ঈদে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের গাড়ি থেকে ২০০/৩০০ টাকা হাওে চাঁদা আদায় করেছে বলে অভিযোগ চালকদের। আরেক ইজারাদার কলাতলির জসিম উদ্দিন পৌরসভার টোলের নামে বাস, বিভিন্ন বড় যানবাহনের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বেড়াতে আসা পর্যটকরা। শুধুমাত্র ৫ দিনে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা দেড় লাখ পর্যটক উক্ত চাঁদাবাজির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।
এ ব্যাপারে পৌরসভার নিয়োজিত ইজারাদার ইমাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশি টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন- আমার স্বাক্ষর ছাড়া কেউ টোল আদায় করলে তা আমি মানবনা। তাছাড়া আমি উপ ইজারা দিয়েছি লার পাড়ার জাকারিয়ার কাছে। আমার নামে চাঁদা আদায় করার বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌর মেয়র ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঈদে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকবাহি যানবাহনের মালিকদের জিম্মি করে টাকা আদায়কারিদের তদন্ত র্পূবক ইজারা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা। অন্যথায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

থমথমে নয়াপল্টন

It's only fair to share...000অনলাইন ডেস্ক :: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান নিয়ে টিয়ারশেল ...