Home » উখিয়া » রোহিঙ্গা নেতা আরিফ উল্লাহকে যেভাবে হত্যা করা হয়

রোহিঙ্গা নেতা আরিফ উল্লাহকে যেভাবে হত্যা করা হয়

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

উখিয়া প্রতিনিধি ::

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের বহুল পরিচিত একজন শীর্ষ নেতা প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঝাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। নিহত রোহিঙ্গা নেতার নাম মো: আরিফুল্লাহ (৪২)।

তিনি বালুখালী-২ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের প্রধান নেতা (মাঝি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশীয় প্রশাসন ভিআইপি ও বিদেশী ডেলিগেট আইএনজিওদের কাছে বহুল পরিচিত এক মুখ ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে প্রতিপক্ষ একদল জঙ্গি রোহিঙ্গা গ্রুপের সদস্যরা তাকে পরিকল্পিতভাবে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে। আর গতরাতের এমন ঘটনাটি নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে নতুন করে উগ্রপন্থীদের উত্থান নিয়েও সন্দেহ বাড়ছে।

রোহিঙ্গা শিবিরের নানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ একজন ‘রহস্য রোহিঙ্গা’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাকে শিবিরের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা আরো বেশ কয়েকবার হত্যার পরিকল্পনা নিয়েছিল। রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ ছিলেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মন্ডুর কুলারবিলের বাসিন্দা।

রোহিঙ্গা শিবিরে জনশ্রতি রয়েছে, তিনি রাখাইনে মূলত রোহিঙ্গাদের জঙ্গি গ্রুপ হিসাবে পরিচিত আল ইয়াকিন তথা আরাকান রোহিঙ্গা সলভেনশন আর্মি (আরসা)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ছিলেন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদেশীদের কাছে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাণিজ্য,ক্যাম্পে নারী কেলেংকারী, বিচারের নামে বাণিজ্য এবং আল ইয়াকিন তথা আরাকান রোহিঙ্গা সলভেনশন আর্মি (আরসা)-এর বিভিন্ন তথ্য প্রশাসন ও বিদেশীদের কাছে পাচারের সন্দেহ করা হতো।এ কারনে আরিফুল্লাহ রোহিঙ্গা শিবিরে গোপনে অবস্থানকারী রাখাইনের জঙ্গি গ্রুপ হিসাবে পরিচিত আল ইয়াকিনের হুমকির মুখে ছিল।

এর আগেও গত ১৯ জানুয়ারী তার উপর রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ হামলা করে। এসময় তিনি বেঁচে গেলেও তার ছোট ভাই মুহিবুল্লাহ ছুরিকাহত হয়। আরিফুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই আল ইয়াকিন গ্রুপের টার্গেটে ছিল। কিন্তু তাকে হত্যার চেষ্টা কয়েকবার ব্যর্থ হলেও এবার তারা সফল হয়।

রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ সম্পর্কে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আরিফুল্লাহ ছিলেন মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষিত রোহিঙ্গা। তিনি ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী থাকার কারণে বিদেশিদের সঙ্গেও তার ভালো সম্পর্ক ছিল।’

ইউএনও জানান, আরিফুল্লাহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের লোকজনদের যথেষ্ট সহযোগিতা করে গেছেন। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ত্রাণ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমেও তার সহযোগিতা বেশ ভালো ছিল। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং সেনা প্রধান যখন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে এসেছিলেন তখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে তিনিই বক্তব্য রেখেছিলেন।

উখিয়ার ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহ হত্যার বিবরণ দিয়ে আরো জানান, তিনি (আরিফুল্লাহ) প্রতিপক্ষের হত্যার হুমকির কারণে বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে রাত যাপন করতেন না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি শিবির থেকে বাইরে অন্যত্র বসবাস করতেন। গতকালও প্রতিদিনের ন্যায় তিনি শিবির থেকে একটি সিএনজি ট্যাক্সি নিয়ে বের হচ্ছিলেন। শিবিরের বাইরে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ স্থলে ট্যাক্সিটি পৌঁছা মাত্রই পূর্ব থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা হত্যাকারীর দল তাকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহকে নিয়ে আমরা বরবারই টেনশনে ছিলাম। তিনি অনেক আগে থেকেই হত্যার মুখে ছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি রাতেও আরো এক দফা হামলা হয়েছিল তার ওপর। সেই সময়কালের কয়েকজন উগ্রবাদী রোহিঙ্গা সদস্যরা আটকও হয়েছিল।’

ওসি বলেন, বাস্তবে আরিফুল্লাহ উচ্চ শিক্ষিত রোহিঙ্গা হওয়ায় তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে কিছুটা ‘রহস্যজনক’ ভূমিকার কারণে আলোচিত-সমালোচিতও ছিলেন। তাকে কারা হত্যার চেষ্টা করছে এসব বিষয়ে বার বার জানার চেষ্টা করেও তিনি পরিষ্কার ধারণাও পুলিশকে দিতেন না। তবে ওসি একথা স্বীকার করেন যে, নিহত রোহিঙ্গা নেতা আরিফুল্লাহর সঙ্গে একটি শক্ত গ্রুপ প্রতিপক্ষ ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্টগ্রামের বিএনপি কার্যালয় পুলিশের কড়া পাহাড়া

It's only fair to share...32100আবুল কালাম, চট্টগ্রাম ::   পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সাথে  পুলিশের ...