Home » কক্সবাজার » টানা ভারী বর্ষন: ঈদগাঁওতে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টানে পানি বন্ধি : পোকখালী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : নৌকা নিয়ে পারাপার

টানা ভারী বর্ষন: ঈদগাঁওতে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টানে পানি বন্ধি : পোকখালী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : নৌকা নিয়ে পারাপার

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

এম আবুহেনা সাগর, ঈদগাঁও ::

গত তিনদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ককসবাজার সদরের বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টানে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। প্রবল পানির তোড়ে গুরুত্বপূর্ণ পোকখালী যাতায়াত সড়কের জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে জন ও যান  চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত কমছেনা। এছাড়াও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ঈদগাঁও বাশঁঘাটা হয়ে ইসলামাবাদ যাতায়াতের দীর্ঘদিনের একমাত্র কাঠের সেতুটি। সেখানে বর্তমানে কর্মমুখী লোকজন নদীর এপার ওপার হচ্ছে নৌকা দিয়ে। ১১ জুন সকালে ভাঙ্গনকৃত এলাকা পরিদর্শন কালে প্রত্যাক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ব্যস্তবহুল ঈদগাঁও বাজারে গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে বাশঁঘাটা সড়ক,কাপড়ের গলি,তরকারী বাজারের প্রায় অর্ধশতাধিক দোকানপাঠে পানি প্রবেশ করে। এতে মালা মালের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ব্যবসায়ীক ভরা মৌসুমে দুরদুরান্তের ক্রেতারা মার্কেটে আসতে না পারায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এদিকে ঈদগাঁও বাশঁঘাটা পারাপার হয়ে বিভিন্ন এলাকায় আসা যাওয়ার লক্ষে নির্মিত কাঠের সেতুটি গত রাতে প্রবল পানির তোড়ে ভেসে যায়। পাশাপাশি জাহানারা বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল অংশ ভেঙ্গে পোকখালী সড়কে বর্তমানে জন এবং যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পোকখালী ও ইসলামা বাদের প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষজন কষ্টের বিনিময়ে চলাচল করছে। সে সাথে যান চলাচল করতে না পারায় অসুস্থ লোকেরা মহা দূূভোগে পড়ছে। এটি ভাঙ্গনের ফলে ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি এবং দোকানপাঠ ভেঙ্গে যায়। স্থানীয় লোকজন বালির বস্তা দিয়ে তড়িৎ গতিতে কোনরকম রক্ষা করেছে ঢলের পানি। দ্রত সময়ে যদি এ ভাঙ্গন সংস্কার করা না হয় তাহলে আরো ব্যাপক আকারে ভাঙ্গনের আশংকা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সে সাথে বাশঁঘাট সড়ক ও সুপারীগলি সড়কে হাটু পরিমান পানিতে সয়লাব হয়ে উঠেছে। একদিকে ঈদগাঁও বাশঁঘাটায় চলাচলের কাঠের সেতুটি পানিতে তলিয়ে গেছে,অন্যদিকে পার্শ্ববতী স্কুল সংলগ্ন স্থানে ঈদগাঁও পোকখালী যাতায়াত সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুই ইউনিয়নের অসংখ্য লোকজন বর্তমানে যাতায়াত নিয়ে নিদারুন কষ্ট পাচ্ছে। সে সাথে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব শিক্ষাঙ্গনে আসা যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে। আবার ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নিচ তলায় প্রতিটি শ্রেনীকক্ষে পানি প্রবেশ করে। মাঠ ভর্তি পানি যেন যাওয়ার কোন ব্যবস্থায় নেই। অপরদিকে সুষ্ট ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ঈদগাঁওর জাগির পাড়া,জালালাবাদ সওদাগর পাড়ায় বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে। মানুষের চলাচলে দূূবিষহ যেন চোখে পড়ার মত। ঈদগাঁও ইউনিয়নের বৃহত্তর মাইজ পাড়ায় ভরাখালের উপর কতিপয় লোকজন দোকান নির্মান আর ক্ষেত্র খামারের নামে খাল দখল করার কারনে ভরাখালটি দিনদিন সংকীর্ণ হওয়ায় বৃষ্টির পানি চলাচল করতে না পারায় খালের নিকটবর্তী বাড়ীঘরের উঠানে পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। দূর্ভোগ আর দূর্গতিতে পড়ছে মহিলারা। রান্নারকাজেও কষ্ট পাচ্ছেন বলে জানান অনেক গৃহবধু। আবার বৃহত্তর ঈদগাঁওর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বৃষ্টির কারনে বিচ্ছিন্ন হওয়া বিদ্যুতের লাইন এখনো চালু হয়নি। সেসব এলাকার বাড়ীঘরে ফ্রিজে রক্ষিত খাদ্রদ্রব্য নষ্ট হয়ে পড়ছে বলে জানান ভোক্তভোগীরা।বাশঁঘাটায় ভাঙ্গনকৃত স্থানের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোন বরাদ্দ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক জানান,এখনো হয়নি এবং বরাদ্দ হওয়ার বিষয়টিও দেখছেননা বলেও জানান। অন্যদিকে জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন জানান, ভাঙ্গনটি দ্রতগতিতে সংস্কার করা না হলে এটি আরো মহামারী আকারে রুপ লাভ করতে পারে। কারন খালের মুখস্থল হওয়ায়। স্কুলটিও হুমকির মুখে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...