Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারে বোট ডুবিতে জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০

কক্সবাজারে বোট ডুবিতে জেলের মৃত্যু, নিখোঁজ ২০

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

শাহেদ মিজান, কক্সবাজার :
ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে বোট ডুবিতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহত জেলে হলো আব্দুস শুক্কুর (৪০)। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফদন্ডী ইউনিয়নের অছিউর রহমানের ছেলে।

এছাড়া এখনো ২০ জেলেসজহ ১৬টি মাছধরার বোট নিখোঁজ রয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ জেলেকে। রোববার ভোররাতে সৃষ্ট ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে এসব বোট ও জেলে নিখোঁজ হয়। জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহামদ এই তথ্য জানান।

নিখোঁজ বোটের কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীর বাবুল কোম্পানিার একটি, ফখরুদ্দিনের একটি, কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়া ফজল কোম্পানি, আমিনুল ইসলাম মুকুল ও শওকত ইসলামের তিনটি। বাকি ১১টি বোটের পরিচয় এখনো পাওয়া পায়নি।

আমিনুল ইসলাম মুকুল  জানান, তার মালিকানাধীন এফবি সেন্টমাটিনে ১৭ জন জেলে ছিলো। তার মধ্যে ১২জন ফিরে এলেও বোটসহ ৫জন নিখোঁজ রয়েছে।

কক্সবাজার হাসপাতাল পুলিশ বক্সে’র ইনচার্জ আপন হোসেন মানিক জানান, রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে মুূমূর্ষু অবস্থায় আনা এক জেলেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। নিহত জেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে। বাকী ১৩জনকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জেলেদের বরাত দিয়ে জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহামদ জানান, ভোরের দিকে বৃষ্টির সাথে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি হলে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের হিমছড়ি, কলাতলী, মহেশখালীতে ১৬টি বোট ডুবে যায়। এসব বোটের অধিকাংশ জেলে সাঁতরে কূলে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও এখনো ২০জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত সাগরে শতাধিক বোট অবস্থান করছে। এসব বোটের জেলেদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাদেরকে কূলে ফিরে আসতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মোস্তাক আহামদ বলেন, নিখোঁজ জেলে বোটগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিচয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আমরা তা জানার চেষ্টা করছি। বিকাল পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেয়ে যাবো।

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার আকিরুল হাসান বলেন, মহেশখালী চ্যানেলের পশ্চিমে কবুতর চর নামক স্থানে দু’টি বোট ভেঙে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। সেখানে চারজন জেলেকে উদ্দার করেছে অন্যবোটের লোকজন। তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আর কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...