Home » কক্সবাজার » কক্সবাজারে রিক্সাচালককে কার চাপার ঘটনায় ইউনুচ ভুট্টোর ছেলে গ্রেফতার

কক্সবাজারে রিক্সাচালককে কার চাপার ঘটনায় ইউনুচ ভুট্টোর ছেলে গ্রেফতার

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ শহরের অলিগলিতে গরিব রিক্সা চালক, বাড়ি মহেশখালী। প্রচন্ড গরমে রাস্তার পাশে সাইড করে রিক্স্রার উপর বিশ্রাম নেন রিক্সা চালক আবদুল মালেক। কার গাড়ি চাপা দিয়ে তার দু’টি পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এতেও মূখ খোলার সাহস নেই তার। ইয়াবা কারবারিদের টাকার জোর বেশী। ওই কারমালিকের পিতা আওয়ামী লীগ নেতা। ইউপি চেয়ারম্যানও বটে। রয়েছে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ। আছে কোটি কোটি টাকা। পিতার ইয়াবার কালো টাকায় চেয়ারম্যান পুত্রের চোখে রিক্সা চালকের উপর দিয়ে কার চালিয়ে গিয়ে তার পা হারানোর বিষয়টি নজরে আসেনি। তার মন গলেনি মোটেও। শেষ পর্যন্ত পুলিশের খাচায় বন্দি হয়েছে চেয়ারম্যানপুত্র মো: রিয়াদ। তাও মদ্যপ অবস্থায়।

জানা যায়, শহরের তারাবনিয়ার ছড়ায় প্রাইভেট কার চাপায় রিক্সাচালক আব্দুল মালেকের পা হারানোর ঘটনায় মামলা নেন পুলিশ। ওই মামলায় রামু দক্ষিণমিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ ভুট্টোর পুত্র মো: রিয়াদকে মাতাল অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে শহরের এবিসি ঘোনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে রাস্তার পাশে বিশ্রাম নেয়া ওই রিক্সাচালকে চাপা দিয়েছিল ধৃত রিয়াদ। তার গ্রেফতারের খবরে ইউনুছ ভুট্টো তদ্বির চালায় বিভিন্ন স্থানে। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এক শীর্ষ জনপ্রতিনিধিসহ তার সিন্ডিকেট সদস্যদের নিশিরাতে পাঠানো হয় থানায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ধৃত রিয়াদকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে জানিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো: ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জনকণ্ঠকে বলেন, রিক্স্রাচালকও মানুষ। আইন সকলের জন্য সমান। তাই বড়লোকের সন্তান হলেও তার প্রায়চিত্ত তাকে ভোগ করতেই হবে। এদিকে ইয়াবার টাকায় পুলিশকে কিনতে না পারায় জনগণ ধন্যবাদ জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশকে।

জানা গেছে, মহেশখালীর কালারমারছড়া নোনাছড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেক কক্সবাজার শহরে রিক্সা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতেন। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন নিমিষে শেষ হয়ে গেছে। তবে অন্তত তার জানটা বাঁচানোর জন্য অনেক অনুরোধ করার পরও প্রাইভেটকার চাপা দেয়া মো: রিয়াদ বা তার পিতা ইউনুচ ভুট্টো এগিয়ে আসেনি। এমনকি দেখতে পর্যন্ত আসেনি। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ইয়াবা কারবার করে ইউনুছ ভুট্টোর চোখে গরীব লোক দেখেও দেখেনা। দানবির মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে যত সামান্য চিকিৎসা করেছেন আহত আবদুল মালেক। এখনও তিনি সুস্থ হয়ে উঠেননি। তবে সুস্থ হলেও বরণ করেছে চিরপঙ্গুত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...