Home » কক্সবাজার » চকরিয়ার ২জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লামায় ইয়াবাসহ আটক

চকরিয়ার ২জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী লামায় ইয়াবাসহ আটক

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ::

বান্দরবানের লামায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ তল্লাশী চালিয়ে ১২০ পিস ইয়াবাসহ চকরিয়ার শীর্ষ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (০৫ জুন) দিবাগত রাত ১১টায় লামা-চকরিয়া সড়কের ফাঁসিয়াখালী ইয়াংছা চেকপোস্টে চকরিয়া গামী একটি মোটর সাইকেলে তল্লাশী চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হল, মো. তৈয়ব উদ্দিন প্রকাশ ইয়াবা বাবর (৩৮) পিতা-আহম্মদ হোসাইন ভেন্ডার , ২নং  ওয়ার্ড, হালকাকারা সওদাগর পাড়া, চকরিয়া, কক্সবাজার। সুচতুর ইয়াবা বাবর নিজের ঠিকানা গোপন করে লামা থানাকে বলেছে ধানু সর্দার পাড়া, আলীকদম, বান্দরবান ও লুৎফর রহমান রোমান (৩৪) পিতা- সিরাজুল হক, বটতলী, ২নং ওয়ার্ড, হালকাকারা, চকরিয়া পৌরসভা, কক্সবাজার।

লামা থানা পুলিশ জানায়, আলীকদম হতে একটি মোটর সাইকেলে করে চকরিয়া যাচ্ছিল মো. তৈয়ব উদ্দিন ও লুৎফর রহমান। তারা লামার ইয়াংছা চেকপোস্টের কাছে আসলে দায়িত্বরত সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা তাদের তল্লাশী করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা বিক্রির নগদ ১ হাজার ৪৬৫ টাকা পাওয়া যায়।

থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা এর নির্দেশে উপ-পরিদর্শক কৃষ্ণ কুমার দাস সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য নিয়ে তাদের লামা থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ১২০ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ হাজার ৪৬৫ টাকাসহ মো. তৈয়ব উদ্দিন বাবর ও লুৎফর রহমান রোমান নামে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৯০সনের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯(খ) ধারায় লামা থানায় মামলা (নং ০৩ তাং ৫জুন’১৮ইং) রুজু হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের (ইয়াবা ব্যবসায়ীদের) বাড়ি চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড হালকাকারা গ্রামে হলেও তারা তথ্য গোপন করে পুলিশকে জানিয়েছে তাদের বাড়ি ধানু সর্দার পাড়া, আলীকদম, বান্দরবান এলাকায়। পরে যাছাইকালে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠা মাদক ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান রোমানের অন্যতম আর্থিক যোগানদাতা হিসেবে রয়েছে চকরিয়ার চিরিংগা ভাই ভাই বোর্ডিংস্থ সরওয়ার এন্ড সন্স সার ডিলার সরওয়ার কামালের পুত্র মিনহাজ উদ্দিন। বর্তমানে বাবর ও রোমন গ্রেফতারের পর তারাও আতংকে রয়েছে বলে প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, মাদক স¤্রাট তৈয়ব উদ্দিন বাবরকে বেশ কিছুদিন ধরে খোজা হচ্ছে। সম্ভব ঠিকানা না পাওয়ায় এতোদিন গ্রেফতার হয়নি। তার বিরুদ্ধে চকরিয়া,কুমিল্লাহসহ বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...