Home » দেশ-বিদেশ » অবৈধ ৫০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত আনতে ব্রিটেনের চাপ

অবৈধ ৫০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত আনতে ব্রিটেনের চাপ

It's only fair to share...Share on Facebook274Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

ব্রিটেনচকরিয়া নিউজ ডেস্ক ::

অবৈধ প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাতে চাপ বাড়ছে ব্রিটেনের। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে একই রকম চাপ আসছে । ব্রিটিশ মন্ত্রী এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা হলেও সামপ্রতিক সময়ে এটি নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচিত হচ্ছে। শরণার্থীদের জন্য ব্রিটেনসহ ইউরোপের দরজা বন্ধ করে দেয়ার জন্য ইউরোপের রক্ষণশীলদের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই এ খবর এলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ হোম অফিসের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ারের সদ্য সমাপ্ত ঢাকা সফর এ আলোচনায়  নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্রিটিশ মন্ত্রী অন্য বিষয়ের সঙ্গে অবৈধভাবে ব্রিটেনে যাওয়া কিংবা দেশটিতে বৈধভাবে প্রবেশের পর ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফেরানোর তাগিদ দিয়ে গেছেন।

ঢাকা সফরকালে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। একাধিক বৈঠকে ব্রিটিশ মন্ত্রী উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি তুলেছেন জানিয়ে বৈঠক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সফরকালে মন্ত্রীকে বলা হয়েছে, কেবল ব্রিটেন নয়, বিশ্বের যে কোনো অঞ্চলে অবৈধভাবে বসবাসকারী নাগরিকদের দেশে ফেরানোর নীতি রয়েছে বাংলাদেশের। যদি তারা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশি হন অবশ্যই তাদের সরকারি উদ্যোগে দেশে ফেরত আনা হবে।

তাদের ‘নাগরিকত্ব’ নিশ্চিত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্রিটেনের তরফে যাদেরকে ‘বাংলাদেশি’ বলা হচ্ছে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি আগে করতে চায় ঢাকা। এজন্য দেশটির হোম অফিসের ধারাবাহিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এমনকি মিয়ানমার থেকেও সামপ্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশিকে সরকারি খরচে দেশে ফেরানো হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ছাড়াও মিয়ানমারের কয়েক লাখ নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে মিয়ানমারের অনেক নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জামিয়েছে।

লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের অভিবাসন নীতিসহ পুরো পরিস্থিতি ব্রিটিশ সরকারের বিবেচনায় তুলে ধরা হয়েছে। তারাও বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টি অনুধাবন করেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন বর্তমান নেতৃত্বের একটি র্নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে। এ নিয়ে বহুবার বাংলাদেশসহ নন  ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। অনেক এলাকায় ধরপাকড়ও হয়েছে।

কিন্তু তারপরও এটি না কমায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক বা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন।

ওই কর্মকর্তার সরবরাহ করা তথ্য মতে, ২০১১ সালে ব্রিটেনে সর্বশেষ শুমারি হয়। সেখানে বৈধ-অবৈধ মিলে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রয়েছেন বলে জানিয়েছিল দেশটি। সেই সময়ে প্রায় ৫ ভাগের কম অর্থাৎ ২০-২২ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি ছিলেন। ২০১১ সালে পর গত ৫ বছরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি অবৈধদের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সংখ্যা এখন ৫০ হাজারের বেশি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চকরিয়ার ৮৩৭ জেলে পরিবার এখনো বরাদ্দের চাল পায়নি

It's only fair to share...27400ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া :: ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে শেষ হতে ...