Home » কক্সবাজার » টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বঞ্চিত জেলাবাসী

টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বঞ্চিত জেলাবাসী

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

আজিম নিহাদ, কক্সবাজার :
কক্সবাজার জেলায় গত কয়েক বছর ধরে বিক্রি হচ্ছে না ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পণ্য। এর ফলে সরকারের ন্যায্য মূল্যের পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এবার টিসিবির পণ্য বিক্রি চালু করতে ভিন্ন পন্থায় মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। আসন্ন রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি না করলে কক্সবাজারের সকল ডিলারশীপ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সদর উপজেলার ঈদগাঁও বাজারের টিসিবি একটি ডিলারে নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করে। এনিয়ে ক্রেতাদের সাথে বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে ডিলার মালিকের। পরে ওই ডিলারের মালিক নুরুল আজিম মাষ্টার টিসিবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই ঘটনার পর থেকেই কক্সবাজারের ডিলারেরা টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেয়।
ডিলার মালিকদের অভিযোগ, টিসিবি উন্নত পণ্যের কথা বললেও সরবরাহ করে নি¤œমানের পণ্য। একারণে ক্রেতারা এসব পণ্য কিনতে চায় না। এর ফলে লোকসানে পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তারা টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।
ডিলার মালিকদের এই অভিযোগ নাকচ করে জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. শাহাজান আলী বলেন, মূলত অতি মুনাফার লোভে নি¤œমানের পণ্যের অযুহাত দেখিয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে না ব্যবসায়ীরা। ঈদগাঁও বাজারে সেই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল একটি ‘বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা। টিসিবি যে, নি¤œমানের পণ্য সরবরাহ করে সেই অভিযোগ সত্য নয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ীরা যেখান থেকে বিদেশি পণ্য আমদানী করে টিসিবিও একই জায়গা থেকে পণ্য আমদানী করে। এছাড়াও ডিলারদের কাছে সরবরাহ করার আগে ওই পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় প্রায় ২৪ টি টিসিবির ডিলার রয়েছে। এসব ডিলার মালিকেরা সংঘবদ্ধভাবে ‘চক্রান্ত’ করে টিসিবি’র পণ্য থেকে কক্সবাজারের সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করছে।
গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন রমজানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
টিসিবির ডিলার মালিকদের পক্ষে নানা অযুহাত তুলে ধরেন সদর উপজেলার পিএমখালী বাংলাবাজার এলাকার ডিলার আব্দুল কাদের। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ। আব্দুল কাদের বলেন, টিসিবির পণ্য বিক্রি করলে নানা বিপদে পড়তে হয়। কারণ এসব পণ্য অনেক সময় বিক্রির উপযোগী থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে ডিলার মালিকেরা টিসিবির পণ্য তুলে না।
কক্সবাজারের জন্য বরাদ্ধ করা পণ্য গুলো ডিলার মালিকেরা ডিও দিয়ে অন্য জেলার ডিলারদের বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ তুলেন জেলা জাসদের সভাপতি নইমুল হক চৌধুরী টুটুল। তিনি বলেন, ‘ডিলারদের কারসাজির কারণে আমরা টিসিবির পণ্য বঞ্চিত হচ্ছি। টিসিবির পণ্য চালুর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে’।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সবকিছুতে ভুল হয়। হয়ত ঈদগাঁও’র ঘটনাটি ছিল একটি অনাকাঙ্খিত বিষয়। কিন্তু এটার রেশ টেনে বছরের পর বছর টিসিবির পণ্য বিক্রি হবে না, তা সহ্য করার মত নয়। এখন ডিলারদের জন্য দুটি অপশন খোলা আছে, হয় টিসিবির পণ্য বিক্রি করবে, নয়তো ডিলারশীপ বাতিল করা হবে। কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি স্বাভাবিক রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢালাওভাবে টিসিবির পণ্য খারাপের অভিযোগটি একেবারেই অসত্য। কারণ দেশের অন্যান্য সব জেলায় বেশ ভালভাবে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্রেস্টের নামে বাংলাদেশিদের জমজমাট বাণিজ্য

It's only fair to share...21500॥ শাহাব উদ্দিন সাগর ॥  নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানগুলোতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে ক্রেস্ট প্রদানের একটি রীতি দীর্ঘ দিন ধরে চালু রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কমিউনিটির খ্যাতিমানদের সম্মানিত করার এই রেওয়াজ সর্বমহলে প্রশংসিতছিল এবং এই উদ্যোগ একটি প্রেরণা হিসাবে বিবেচিত হত। কিন্তু এখন এই সব ক্রেস্ট কতটা সম্মানের কিংবা আদৌ সম্মানজনক কিনা তা নিয়ে কমিউনিটির বিদগ্ধমহল প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ক্রেস্ট প্রদানের এই প্রশংসিত প্রক্রিয়াকে‘অমর্যাদাকর’ পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি। যাদেরকে তারা অভিহিত করেছেন ‘ধান্দাবাজ’ হিসাবে। এই ব্যক্তিরা ক্রেস্ট প্রদান নিয়ে এক ধরনের বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরো বলেছেন, প্রবাসীদের সম্মানিত করার নামে এখন চলছে জমজমাট ‘ক্রেস্ট বাণিজ্য’। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ক্রেস্ট দেয়ার নামে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সব আয়োজকরা অর্থের বিনিময়ে কমিউনিটির যে কোনমানুষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন। আবার ক্রেস্টগুলো দিতে গিয়ে বাজারের মূলা-বেগুনের মত দাম-দর হাঁকানো হচ্ছে। দাম-দরে বনিবনা হওয়ার পরই অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডেকে এই সব ব্যক্তিদের হাতে ক্রেস্ট হস্তান্তর করা এখন তারা নিয়মেপরিণত করেছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু অনুষ্ঠান হয়েছে যেখানে দর্শকদের চেয়ে ক্রেস্ট গ্রহীতার সংখ্যাই ছিল বেশি। কমিউনিটির সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ‘ইনডোর’ থেকে শুরু করে ‘আউটডোর’ সব ধরনেরপ্রোগ্রামেই এই ক্রেস্ট বাণিজ্য চলছে। ফলে অধিকাংশ ক্রেস্ট গ্রহীতার অবদান এবং কর্মকান্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তারা অনুষ্ঠান থেকে ক্রেস্ট হাতে বের হয়ে আসার পর লোকজনকে প্রকাশ্যে তাদের সম্পর্কে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শোনাযাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মানীয় ব্যক্তিরা যদি এভাবে ক্রেস্ট নিতে অনিহা প্রকাশ করেন তবে আয়োজকরা এ ধরনের হীন কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পাশাপাশি আত্মপরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকা ক্রেস্টলোভীরা লজ্জায় পড়তেপারেন। সামার এলেই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠানের হিড়িক পড়ে যায়। শুক্রবার এবং শনিবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকে কমিউনিটি। সংগঠনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা বলছেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশি অনুষ্ঠানগুলোতে গণহারে ক্রেস্ট দেয়ার প্রবণতা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে সেটি পরিণত হয় প্রতিযোগিতায়। মেলা, কনভেনশন বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামে এককঅনুষ্ঠান করেও ক্রেস্ট প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হচ্ছে। কোন কোন অনুষ্ঠানে এক-দুজন খ্যাতিমান ব্যক্তিকে যথার্থভাবেই ক্রেস্ট দেয়া হলেও তাকে সামনে রেখে ডজন ডজন অজ্ঞাতকূলশীলকে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। এ সব এখনবাংলাদেশি অধ্যুাষিত এলাকাগুলোতে ‘ওপেন সিক্রেট’। গণহারে ক্রেস্ট দেয়াকে সমর্থন করেন না এমন কয়েকজন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, বাজারে মূলা- বেগুনের মত দাম হাঁকিয়ে ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে অনেকের হাতে। যিনি যত অর্থ দিচ্ছেন তিনি তত বড় আকারের ক্রেস্ট পাচ্ছেন এই সবআয়োজকদের কাছ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে এমনও অনেক ব্যক্তি আছেন যাদের বাসা ও অফিসের দেয়াল ভরে গেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ক্রেস্টে। ক্রেস্টগুলো দেয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের আগে আবার জুড়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদপদবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট পাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন। বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা এখন ক্রেস্ট হাতে সমাজে বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। ...