Home » কক্সবাজার » চকরিয়ায় পোকার আক্রমণ ঠেকাবে পার্চিং পদ্ধতি: ৪৭ হাজার একর জমিতে ১১ লাখ খুঁটি

চকরিয়ায় পোকার আক্রমণ ঠেকাবে পার্চিং পদ্ধতি: ৪৭ হাজার একর জমিতে ১১ লাখ খুঁটি

It's only fair to share...Share on Facebook311Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ::

বোরো চাষাবাদের সুফল নিশ্চিতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার একর জমিতে স্থাপন করা হচ্ছে ১১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ খুঁটি। পার্চিং পদ্ধতির অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব খুঁটি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হলে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে জমির ফসল রক্ষার মাধ্যমে আর্থিকভাবে সচল হতে পারবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকনিদের্শনায় তিনবছর আগে এই পদ্ধতির আওতায় ধান ক্ষেতের পুরোভাগে গাছের ডালপালা ও বাঁশের খুঁটি স্থাপনের মাধ্যমে পরীক্ষামুলকভাবে কার্যক্রমটির সূচনা করা হয়। এরপর থেকে পাচিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপনের এই কার্যক্রমটি কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পার্চিং পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেন উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, জমিতে বসানো খুঁিটতে উড়ে এসে বসবে বিভিন্ন ধরণের পাখি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এসব পাখি খেয়ে ফেলবেন ক্ষেতের পোকা –মাকড়। এখানে কৃষককে বাড়তি কোন ধরণের কাজ করতে হবেনা। খুঁিটতে বসে পাখিরা আপনা–আপনি পোকা–মাকড় খেয়ে নিধনের মাধ্যমে ধান ক্ষেতকে সুরক্ষা দেবে। এতে কৃষকরা আশাতীত ফলন ঘরে তুলতে পারবে।’তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। এ কারণে এখানে প্রতিবছর পাচিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপন কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উন্নয়ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত (উপ–সহকারি কৃষি কর্মকর্তা) সনজিব বড়ুয়া ও রাজীব দে বলেন, চলতি মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় ১৮ হাজার ৭শ হেক্টর (৪৬ হাজার ৭৫০ একর জমিতে) বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বোরো চাষ শুরু করা হয়। গেল ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আরো অধিক পরিমাণ জমিতে চাষ সমাপ্ত করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, বর্তমানে রোপনকৃত বোরো ধান ক্ষেতে সবুজ রং লেগেছে। কিছু কিছু এলাকায় ধানের থোড়ও এসেছে।

এই অবস্থায় ধান ক্ষেতের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পার্চিং পদ্ধতিতে খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে। চলতিমাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পার্চিং উৎসব উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ–পরিচালক সুশান্ত সাহা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পার্চিং উৎসব উদ্বোধন করেছেন।

জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আতিক উল্লাহ বলেন, ‘বোরো ধান রোপনের আগে জমি তৈরী, তারপর রোপন এবং সর্বশেষ রোপনকৃত ক্ষেতে পোকা–মাকড়ের আক্রমন ঠেকানোর মাধ্যমে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগে থেকে উপজেলার প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ–সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাচিং পদ্ধতির আওতায় ৪৭ হাজার একর জমির বোরো ধান ক্ষেতে বসানো হচ্ছে ১১ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ বাঁশ ও গাছের খুঁিট।

প্রতিকানি জমিতে বসবে অন্তত দশটি করে খুঁিট। যার সুফল ভোগ করবেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এভাবে ধান েতের সুরক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে তুলবেন আশাতীত ফলন। ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নে কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনের উপস্থিতিতে পার্চিং উৎসব উদ্বোধন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খালেদা নয় জোবাইদা

It's only fair to share...31100ডেস্ক নিউজ : বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি জিয়া পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৯১ ...