Home » কক্সবাজার » ক্লাব কেন্দ্রিক বিয়ের কারণে সামাজিক বন্ধন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী -হারানো ঐতিহ্য!

ক্লাব কেন্দ্রিক বিয়ের কারণে সামাজিক বন্ধন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী -হারানো ঐতিহ্য!

It's only fair to share...Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Email this to someonePrint this page

::: এম.আর মাহমুদ :::

সেদিন আমার এক ভাগিনা অদ্ভূত একটি প্রশ্ন করেছে! তার জবাব দিতে কষ্ট হলেও প্রশ্নটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। তার মতে চিরচেনা সমাজের পুরানো ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় সমাজে সব স্তরের সদস্যরা একে অপরের সুখ-দুঃখের অংশীদার ছিল। কিন্তু এখন তা আগের মত দেখা যায় না। বিশেষ করে ক্লাব বা কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রিক বিয়ের অনুষ্ঠানের কারণে সমাজের বন্ধন দিন দিন চিড্ ধরছে। আধুনিক যুগে বিয়ের অনুষ্ঠানে ভুরি ভোজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র সদস্যরা। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করলেও কবর খননে তাদেরকে ব্যবহার করতে ভুল করে না। সমাজ প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামের লোকজন সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছে। সুখ দুঃখে সমাজের সকল সদস্য অনেকটা সমান অংশীদারী ছিল। মৃত ব্যক্তির দাফন কাফন থেকে শুরু বিয়ে শাদীতে সমাজের সকল সদস্য অংশগ্রহণ করত। সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কবর খনন ও জানাযায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেলেও ক্লাব কেন্দ্রিক বিয়ে শাদীতে তাদের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়ে না। ক্লাব কেন্দ্রিক বিয়ের কারণে সমাজে প্রতিনিয়ত নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। সমাজের দরিদ্র সদস্যদের বক্তব্য সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসলেও আলিশান বিয়ের অনুষ্ঠানে এক বেলা ভুরি ভোজের হকদার হয়েও শুধু গরিব বলে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। অথচ ক্লাবের উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো হলেও সমাজের বঞ্চিতদের এক বেলা খাবার হয়। এসব বিয়েতে উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো সমাজের দরিদ্র সদস্যরা যেমন পায় না, তেমনি পাড়ার পোষা কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি ও কবুতরের ভাগ্যেও জুটে না। ছোট বেলায় একটি কবিতার ২টি লাইন বার বার মনে পড়ে। কিন্তু ওই কবির নামও আমার স্মরণ নাই। “মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার, সবাই বলে মিথ্যা বাজে বকিস্ না আর খবরদার!” মাথায় নানা প্রশ্ন আসলেও যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে এসব জবাব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কোন সমাধান নেই। শহর কেন্দ্রিক সমাজের রীতি নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে আমাদের বাপ-দাদার চিরচেনা ঐতিহ্য গ্রাম থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় সমাজের ছেলেমেয়েদের বিয়ের আয়োজন চূড়ান্ত হলে বর ও কনে পক্ষ সমাজের সব সদস্যকে ডেকে পানছল্লার আয়োজন করত। সেখানে সমাজে সদস্যদের চা-নাস্তা খাওয়ানোর পরে পান খাওয়াতে ভুল করত না। আর নির্ধারণ করা হত সমাজের কতজন সদস্য কিভাবে খাবে? এবং সমাজের সদস্যরা কে কোন কাজে সহযোগিতা করবে? এখন শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির জন্য কবর খননের কাজটা ছাড়া সমাজের দরিদ্র সদস্যদের কি কাজই আছে? ইদানীং শুধু বিয়ে নয় খৎনা, কর্ণ ছেদন অনেক ছোট-খাটো অনুষ্ঠান ক্লাবমুখী হয়ে যাচ্ছে। তবে অবশিষ্ট আছে ঐতিহ্যবাহী মেজবান। কি জানি কখন মেজবানের আয়োজনও ক্লাবমুখী হয়। শহরের সমাজে ক্লাব বা কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রিক বিয়ের অনুষ্ঠান হত। তবে এ প্রথা গ্রামে চালু ছিল না। বর্তমানে উপজেলা শহরে হু হু করে ক্লাব ও কমিউনিটি সেন্টার বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে সঙ্গতি না থাকা স্বত্বেও কন্যা দায়গ্রস্থ পক্ষ ক্লাব কেন্দ্রিক বিয়ের আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছে। তার উপরে রয়েছে যৌতুক। বর পক্ষের যৌতুকের দাবী মেটাতে গিয়ে কনে পক্ষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাপ-দাদার রেখে যাওয়া সহায় সম্পদও হস্তান্তর করতে বাধ্য হচ্ছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাট ও চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদের একটি গানের দুটো কলি বার বার নাড়া দেয় ‘অবু পোয়াল্লাইতো বউ আইন্নদে যৌতুক লইয় কিঅল্লাই, আল্লাহ জানে এ বউ তোয়ারে হন জ্বালা জ্বালায়!’ ক্লাব ও কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রিক বিয়ের কারণে সমাজের বেশিরভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামাজিক বন্ধন ভেঙ্গে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

চট্রগ্রাম জেলায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩১২টি ইটভাটা থেকে কর পাচ্ছে না সরকার

It's only fair to share...23500অনলাইন ডেস্ক, চট্রগ্রাম :: পরিবেশ আইন মেনেই ইটভাটার লাইসেন্স নবায়নে উৎস কর, লাইসেন্স ফি ও ভ্যাটসহ ৬০ হাজার টাকা রাজস্ব দিতেহয় সরকারকে। চট্টগ্রামের ৩১২ অবৈধ ইটভাটা থেকে এই তিন খাতে কোন ধরনের রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। এতেসরকার প্রতি বছর ১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বৈধ–অবৈধ ইটভাটা থেকে ৬০ লাখটাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ৪০৮টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বৈধ ইটভাটা হচ্ছে ৯৬টি। অবৈধ ইটভাটা৩১২টি। অবৈধ ইটভাটা থেকে সরকার কোনো ধরণের কর পাচ্ছে না। তবে কর না পেলেও সকল ইটভাটা থেকেভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়। চলতি মৌসুমে (২০১৭–১৮) ইটভাটা থেকে ভূমি উন্নয়ন করেরলক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে (গত জুন পর্যন্ত) খাজনা আদায় করা হয়েছে৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। যা গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় ৬ লাখ টাকা বেশি। জেলা রাজস্ব সভায় জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে উচ্ছেদ মামলা রয়েছে একশটির বিরুদ্ধে। ২০টিতেনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ৩০টিতে আদালতের স্থগিত মামলা রয়েছে। ৩০টি মামলার নোটিস জারিকরা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারীকমিশনারকে (ভূমি) জেলার মাসিক রাজস্ব সভায় অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের খামখেয়ালি ওউদাসীনতায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। প্রশাসন ও পরিবেশঅধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছে। বিভিন্নঅনুষ্ঠানের নামে উপজেলা প্রশাসন ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে সুবিধা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। ইটভাটার লাইসেন্স গ্রহণে জেলা প্রশাসনকে উৎস কর ৪৫ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি পাঁচশ টাকা এবং পরিবেশঅধিদপ্তরকে ১২ হাজার পাঁচশত টাকার সাথে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ভ্যাটসহ ১৪,৩৭৫ টাকাদিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হয়। ইট পোড়াতে প্রাথমিকভাবে এই দুই সংস্থাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা গুণে লাইসেন্সগ্রহণ করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামে অবৈধ ৩১২টি ইটভাটা থেকে এই ধরণের কোনো কর পাচ্ছে না সরকার। বছরেরপর বছর অবৈধভাবে চলে আসছে এসব ইটভাটা। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে দুষছেনপরিবেশবাদীরা। অপরদিকে, উৎপাদিত ইটপ্রতি আয়করে চলছে শুভংকরের ফাঁকি। এক–চতুর্থাংশ ইট উৎপাদনদেখিয়ে আয়কর প্রদান করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একাধিক ইটভাটার ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, একটি ট্রাকে আড়াই থেকে তিন হাজার ইট পরিবহনকরা হয়। প্রতি হাজার ইট পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে আয়কর চালান দেয়া হয়। এছাড়াএকটি গাড়ি একাধিক ট্রিপ গাড়ি চালালেও দিনে শুধুমাত্র একটি চালান নিয়ে ইট পরিবহন করা হয়। এছাড়াওগাড়িপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার ইট পরিবহন দেখিয়ে ভ্যাট চালান তৈরি করা হয়। এছাড়াও একটি ইটভাটায়এক মৌসুমে কমপক্ষে ৪০–৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। কিন্তু আয়কর বিভাগকে দেখানো হয় উৎপাদিত ইটের এক–চতুর্থাংশ। আয়কর বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চলে আসছে। অর্থাৎ শহরতলীউপজেলাতে ইটভাটা প্রতি ৬–৭ লাখ টাকা আর সাতকানিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার ইটভাটাগুলোর ক্ষেত্রে৪–৫ লাখ টাকা ‘মুঠো কর’ প্রথা চালু রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। বোয়ালখালী উপজেলার দুটি ইটভাটার ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারের সাথে কথা বলে আয়করে এইশুভংকরের ফাঁকির তথ্যটি পাওয়া যায়। একটি ইটভাটার ম্যানেজার জানান, এক চালানে পুরোদিন ইট পরিবহনকরা হয়। কিন্তু শহরে পরিবহনের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যাট চালান দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জুন মাসের খাজনা আদায়ের তথ্যে দেখা যায়, চান্দগাঁও থানা এলাকার ইটভাটাথেকে খাজনা আদায় হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৪শ টাকা। মিরসরাই উপজেলায় ২ লাখ ২৪,৮১২ টাকা, সীতাকু– উপজেলায় ৭ লাখ ৪৯,২৯৯ টাকা, সন্দ্বীপে ৫ হাজার একশ টাকা, ফটিকছড়ি উপজেলায় সাত লাখ ৪৯,১৪০ টাকা, হাটহাজারী উপজেলায় ৯ লাখ ১৫,৭৫০ টাকা, রাউজান উপজেলায় ২ লাখ ৮০,২১০ টাকা, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় ৪লাখ ১০,৫৫০ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলায় ৮৪,৪০০ টাকা, পটিয়া উপজেলায় ৪২,৯৭৬ টাকা, আনোয়ারাউপজেলায় ১৮,৪৮০ টাকা, চন্দনাইশ উপজেলায় ৪ লাখ ৪১,৩৪০ টাকা, সাতকানিয়া উপজেলায় ১০ লাখ২৬,৪৩৫ টাকা, লোহাগাড়া উপজেলায় ৭ লাখ ৫০,৫০৩ টাকা, বাঁশখালী উপজেলায় ৯৮,৮০৮ টাকা আদায় করাহয়েছে। মোট আদায় করা হয়েছে ৬০ লাখ ১,২০৩ টাকা। ...